এক.
বঙ্কিমচন্দ্র সম্পর্কে কবিগুরুর মূল্যায়ন :
বঙ্কিমচন্দ্র চ্যাটার্জি আমার চেয়ে অনেক বয়োজ্যষ্ঠ। তারপরও তিনি দীর্ঘ্ আয়ু লাভ কছিলেন বলে আমার তাকে দেখার সুযোগ হয়েছিল এবং তিনি আমার সমসাময়িক ছিলেন। সেসময় বাংলায় যে সাহিত্য-বিপ্লব ঘটে তিনি ছিলেন তার পথিকৃৎ। তার আগমণের পূর্বে আমাদের সাহিত্য এক ধরনের কঠোর অলঙ্কার শাস্ত্র দ্বারা বলা যায় নিপীড়িত ছিল। যে অলঙ্কার আমাদের সাহিত্যের গলা চেপে ধরেছিল। যে অলঙ্কার অলঙ্কার না হয়ে পরিণত হয়েছিল শৃঙ্খলে। সমাধি পাথরের নিরাপত্তা আর ষ্প্রিাণের চূড়ান্ততায় বিশ্বাস করে যে গোঁড়ামি তার বিরুদ্ধে যাওয়ার পর্যাপ্ত সাহস বঙ্কিমচন্দ্রের ছিল। আমাদের ভাষার উপরথেকে আঙ্গিক নামের জগদ্দল পাথর তিনি সয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর যাদুর কাঠির এক ছোয়ায় আমদের সাহিত্য যুগযুগান্তরের ঘুম থেকে জেগে উঠেছিল।
(রাধাকৃষ্ণাণ সম্পাদিত Contemporary Indian Philosophy বইয়ের অন্তর্ভুক্ত কবিগুরুর লেখা The Religion of Artist নামক প্রবন্ধ থেকে অনূদিত)
দুই.
নদীর প্রবাহ যেমন কাহারো উপদেশের অপেক্ষা না রাখিয়াই নূতন নূতন প্রদেশে আপনার পথ কাটিয়া আপনার বেগে প্রবাহিত হইয়া যায়, সাহিত্যের গতিও ঠিক তেমনি। ভগীরথ শঙ্খ বাজাইতে বাজাইতে সঙ্গে সঙ্গে যাইবে, ভাগীরথি আনার গতিতে আপনি প্রবাহিত হইবে। এই বিষয়ে কর্ত্তব্য কার্য্ একমাত্র এইযে ভগীরথের শঙ্খ যেন কখনও না থামে।
(………………..ঢাকায় এক সাহিত্য সম্মেলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সূত্রঃ ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ, নলিনীকান্ত ভট্টশালী, মাসিক উত্তরাধিকার, মাঘ – ১৪২০)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




