somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিজানুর রহমান মিরান
অন্ধকারের কাছ থেকে আলোকে ছিনিয়ে আনার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছি। জানিনা এ চেষ্টা কতদিন চালিয়ে যেতে পারবো। স্রষ্টার এই অপরূপ পৃথিবীর সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই, শুধু মানুষ হওয়া প্রয়োজন।

একটি পূর্ণিমা, আর কিছু খামখেয়ালী ইচ্ছে....

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ মাঘী পূর্ণিমা, বৌদ্ব ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব। যাইহোক রাতজাগা স্বভাবের হওয়ায় চাঁদের সাথে বন্ধুত্ব সেই ছোটবেলা থেকে এখনো বিদ্যমান। ছোটবেলায় যখন একা রানওয়ে জুড়ে হেঁটে যেতাম তখন চাঁদটাও আমার সাথে সাথে আমার মাথার উপর দিয়ে সঙ্গ দিত, একরাশ বিস্ময় নিয়ে ভাবতাম চাঁদটা শুধু বুঝি আমার সাথেই আসছে! একা একা চাঁদের সাথে কথোপকথনে একধরনের মজা আছে, তাইতো চাঁদের গতিবিধির উপর আমার নজরধারী খুব.....। চাঁদ দেখতে হয় আয়োজন করে ভরা পূর্ণিমায়। ইট পাথরের এই শহরে যা অকল্পনীয়। তবুও আমি নিস্তব্ধ রাতে ছাঁদে বসি, সাথে ফুসফুস পোড়ানো নিকোটিন আর পূর্ণিমা চাঁদের সাথে নিরব গল্পে মেতে উঠি। আমার যত মনখারাপের গল্প আমি চাঁদটাকে শুনিয়ে দিই, আমার যত অভিমানের গল্প তাকে বলে দিই। না না... চাঁদ মামা কিন্তু তাতে একটুও খুশি হয় না, বরঞ্চ একটু ম্লানই দেখায় তাকে। আজ পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণীমা। শীত শেষ, তাই এখন নেই কোনো কোয়াশার আধিপত্য। কোয়াশা থাকলে ভালই হতো, চাঁদের আলো আর কোয়াশা মিলে এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করে যা দেখতে অসম্ভব ভালই লাগে। হালকা কিছু শুভ্র মেঘের ছুটোছুটি চাঁদের রাজত্ব জুড়ে, যেন চাঁদটাকে দখল করে নেয়ার চেষ্টা। তেমন সফল হতে পারছে না মেঘেরা। মায়াবী আকাশপানে তাকিয়ে একাই বসে আছি একা চাঁদটার সাথে। তুই থাকলে ভীষণ ভালই হতো রে..। হতচ্ছারী পাগলী! বুঝিস না কেন, একা একা আর কতকাল পূর্ণিমা চাঁদ দেখবো! চেয়ে দেখ, পূর্ণিমার আলোয় কেমন প্লাবিত হয়ে আছে ইট পাথরের শহরটা। আশেপাশের গাছগুলোকে কেমন আহ্লাদে লাগছে জ্যোৎস্নায়। ইচ্ছে করতেছে এক আঁজলা জ্যোৎস্না নিয়ে তোর শাড়ির আঁচলে ঢেলে দিই, ইচ্ছে করতেছে জ্যোৎস্নায় মাখামাখি হই দুজন! ইচ্ছে করেছে তোকে নিয়ে উড়ে যায় ঐ মেঘের বাড়ি। আমার সকল ইচ্ছেগুলো আজ বুকপকেটে লুকিয়ে রাখি। থাক না কিছু লোকানো ইচ্ছে, ক্ষতি তো নেই। ইট পাথরের ছোট বড় দালান গুলোকে অদ্ভুত এক মায়াময়তায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে যেন এই পূর্ণিমার আলো। আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পরছে শহরটা। ঘুমন্ত শহরটা যেন এক মায়াপুরী, আর সেই মায়াপুরীর দিকভোলা যুবক আমি! ঘোরলাগা একমনে পূর্ণিমার আলো গায়ে মাখি, আর শুধু তোরই কথা ভাবি। যেই তুইটাকে আমার দেখা হয়নি এখনো! শুধু কল্পনার জগতে বুদ হয়ে ভাবি আমার একটা তুই আছিস, পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে শুধু আমার অপেক্ষাতেই আছিস! যাকে নিয়ে আমি এমন একটা মাঘী পূর্ণিমার রাতে একসাথে চাঁদের আলোয় ভিজবো, ঐ অকৃপণ আকাশের কয়েকগুচ্ছ তাঁরা নিয়ে তোর জন্য, হ্যা শুধু তোর জন্য একটি কল্পমালা গেঁথে পরিয়ে দিব তোর গলায়। তোর মায়াময় কন্ঠে নাহয় দু-লাইন গানও শুনবো। কি... শুনাবি তো?? মাঝে মাঝে হঠাৎ বসন্তের কিছু হালকা বাতাস তোর খোঁলা চুলে পরশ বুলিয়ে যাবে, হয়তো তোর শাড়ির আঁচল অগোছালো করে দিবে। আমি তোর বিরক্তিমাখা মুখপানে চেয়ে মুচকি হাসবো, আরও একটু বিরক্ত করার জন্য! কে যেন বলেছিলো, বিরক্ত হলে রমনীদের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে। জানি রে... পাগলী, এই সবকিছুই কল্পনা। কিন্তু মনে ক্ষীণ আশা... তুই হয়তো পৃথিবীর কোনো না কোনো এক প্রান্তে আমার মতো পূর্ণিমার চাঁদটাকে দেখছিস, উপভোগ করছিস একা একা এই ভরা পূর্ণিমা, ভাবছিস আমার মতো করে, ঠোঁটের কোনায় এক চিঁলতে হাসি নিয়ে! হায়... তুই একবার এসে মায়াপুরীর এই দিকভোলা বাসিন্দাকে কি দিকের সন্ধান দিতে পারিস না?!! আমার লোকানো সব ইচ্ছে তোর সামনে মেলে দিতে চাই আমি। চলনা... কোন একদিন এক সাথেই নাহয় জ্যোৎস্নার রূপালী আলোয় প্লাবিত হয় দুজন, সংকোচে হাতের আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে এক সাথে পূর্ণিমা চাঁদ উপভোগ করি... কি বলিস??
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:১২
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×