somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিজানুর রহমান মিরান
অন্ধকারের কাছ থেকে আলোকে ছিনিয়ে আনার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছি। জানিনা এ চেষ্টা কতদিন চালিয়ে যেতে পারবো। স্রষ্টার এই অপরূপ পৃথিবীর সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই, শুধু মানুষ হওয়া প্রয়োজন।

অভিমানী ছেলেটির কিছু চাওয়া.....

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটি হাটে, বাসা থেকে বের হয়েই উদ্দেশ্যহীন হাটতে থাকে। অনেকদিনের চেনা শহরটা তার কাছে কেন জানি অচেনায় মনে হয়। জীবনের বেশ কিছু সময় সে বন্ধীত্বের শিকলে বাঁধা ছিলো। ছেলেটি তার আবেগকে আর পশ্রয় দিবেনা বলে সিদ্ধান্ত নেয়। যে আবেগ তার জীবন থেকে পাঁচটি বছর কেড়ে নিয়েছে, সে আবেগকে পশ্রয় দেয়ার কোনো মানেই হয় না। ছেলেটি নিজেকে আবেগশূন্য করে ভাবতে থাকে, কিছু পাওয়া না পাওয়ার যোগ-বিয়োগের অংক কষতে থাকে। একদা তারও ছিলো উচ্ছ্বল জীবন, হাসি-কান্নার সেই ভরপুর আড্ডা, ক্লাস ফাকি দিয়ে প্রেমিকার সাথে গোপন সাক্ষাত, মা-বাবার পশ্রয়ের সেই চোখ রাঙানী, প্রকৃতির সাথে খুনসুটিতে মেতে উঠা সেই পরন্ত বিকেলবেলায় প্রিয় গিটারের তারে আনাড়ী সুর, আর গভীররাতে হঠাৎ জেগে উঠা অভিমানের সেই রাতজাগা গল্প। ছেলেটির আজ কিছুই নেই, কথা রাখেনি কেউ। কেউ একজন বলেছিলো তাকে " তোমার সাথে গহীন অরন্যে ঘর বাঁধবো, সেখানে চাঁদের রূপোলী আলোয় ভিজবো দুজন, মাখামাখী হবো জ্যোৎস্নায়, খুনসুটিতে মেতে উঠবো দুষ্ট জোনাক পোকার সাথে".... না, সেও কথা রাখেনি। ছেলেটির বুক থেকে এক দীর্ঘশ্বাস নেমে আসে। সে খুব করে সমস্ত অতীত ভুলে যেতে চায়, যতই ভুলে যেতে চাই ততই তা নিঃশ্বাসের সাথে হানা দেয়। ছেলেটি আনমনা হয়ে হাটতে থাকে, নতুন করে শহরটাকে চেনা তার বড্ড দরকার। সন্ধ্যার এই ব্যস্ত জনপদে সে বড্ড একা। লোকাল বাসের কন্ট্রাকটারের গদবাঁধা কন্ঠস্বর, রিকশার অবিরত ঠুংঠাং শব্দ, যানবাহনের বিকট সাইরেন গুলোও তার আনমনা ভাব কাটাতে পারেনা। সে হাটতে থাকে ব্যস্ত জনপদের সকল ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে, উদ্দেশ্যহীন ভাবে। ছেলেটি নিজেকে ভীষণ একা ভাবতে থাকে। হঠাৎ করে ছেলেটি বাতাসের সুর ধরতে পারে, সেই সুরেরা বলে দেখো আমরা আছি তোমার সাথে, আকাশের অজস্র তারা হেসে কুটিকুটি হয়ে ছেলেটির গায়ে ঝরে পড়ে বলে, তুমি একা নও দেখো আমরা তোমার বন্ধু হয়ে পাশে আছি! সোডিয়াম লাইটের আলোতে ছেলেটির মুখে একটা মুচকি হাসি দেখা যায়, যে হাসির অর্থ কারো বুঝার ক্ষমতা নেই! ছেলেটি একটা ইউটার্ন নেয়, অনেক কাজ বাকি ছেলেটার, অযথা সময় নষ্ট করার সময় নেই আর। ছেলেটি বাতাসের সাথে ঘুরে দাড়ায়, এখনো অনেক কিছু করা লাগবে তার। অদ্ভুত চাঁপা স্বভাবের ছেলেটি আবার খুব করে চাই, কেউ একজন তার হাতটি ধরুক, ধরে বলুক "প্রকৃতি আর আমিও আছি তোমার সাথে, তুমি ভেঙে পরোনা, যা হবার হয়েছে... চলো আবার শুরু করি..."। ছেলেটি অপেক্ষায় থাকে, তার অপেক্ষার প্রহর কি শেষ হবার নয়??
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২২
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×