২ বছর আগের থার্টি ফার্স্ট নাইটের কথা। :-)
শার্পশুটার রকি ভাইয়ের বাড়ির ছাদে আমাদের পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে। তো মোটামুটি মজার মধ্যে দিয়েই সকাল থেকে সন্ধ্যা পার হলো। নাচ-গান,গেমিং ইত্যাদি ইত্যাদি এর মধ্যে দিয়ে মোটামুটি দ্রুতই পার হচ্ছিল সময়টা।
থ্রি কার্ডের আসরে বসেছিল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সিপ্রা, স্নাইপার স্পেশালিষ্ট এঞ্জেল, গেরিলা মাইন্ডেড মুরাদ এবং রেবেল বিশেষজ্ঞ শোভন।
আমি যেহেতু এদের ছোট ভাই, তাই পাশের পিসিতে ফিফা ১২ খেলার সৌভাগ্য মিলেছিল আমার। কিন্তু দূর্ভাগ্য হল অপোনেন্ট হিসেবে ছিল ফিফার আনডিফিটেড চ্যাম্পিয়ন মারুফ ওরফে ফাকার। তাই হালির পর হালি গোল খাচ্ছিলাম আমি ও রাজীব অপু । :-( :'(
অধূমপায়ী হওয়ায় স্মোকিং জোনের থেকে বেশ দূরেই ছিলাম। এমন সময় কেউ একজন এসে বলল ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, ফরেইন (নামগুলা মনে নেই) আনা হয়েছে :3
আমিও ভাবলাম একদিন টেস্ট করেই দেখি।
ঠিক এসময় পাগলির ফোন,
ফোন ধরে হাই হ্যালো জানিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, একটা রিকুয়েস্ট করলে রাখবে কিনা।
ও হ্যা তখন ১০ টা বাজে। রাত ১০ টা।
তো বলল রাখার চেষ্টা করবে। আমি বললাম আজ লাইফে ফার্স্ট ও লাস্ট টাইমের মত ড্রিংক করব। তুমি রাগ করতে পারবা না।
তারপরের কথোপকথন :
পাগলি : আচ্ছা না করলে হয়না?
আমি : প্লিজ একদিন করি, তুই রাগ করিস না।
পাগলি : আচ্ছা করতে দিলে তুই খুশি তো?
আমি : হ্যা রে অনেক খুশি।
পাগলি : আচ্ছা তাইলে করিস।
আমি : লাভিউ :-D
পাগলি : আচ্ছা যা ফোন রাখ। টাইম টাকে ইনজয় কর।
তো প্রস্তুতি চলছে। ফার্স্ট টাইমের মত ড্রিংক করব আমি। আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি ১২ টা বাজার। এমন সময় পাগলির বোনের ফোন,
: ভাইয়া, তোমার আর আপুর মধ্যে কি কিছু হইছে?
: নাতো। কেন কি হইল আবার?
: না মানে তখন তোমরা কথা বললা না? তারপর থেকে আপু কাদতেছিল, আর কিছুক্ষন পর থেকে নামাজ পড়া শুরু করে বারবার মোনাজাত করতে করতে কাদতেছে।
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।
পরে জানতে পারি তার মোনাজাত ছিল এই নিয়ে যেন আমি ড্রিংক না করি। আর হ্যা তার মোনাজাত আল্লাহ কবূল করেছিল। আর আমিও প্রতিজ্ঞা করেছিলাম নিজের কাছে যে জীবনে কখনো এসবের মাঝে জড়াব না।
আর হ্যা, পরিবর্তিত আজকের এই মিশাতের আজকের এই অবস্থার পিছে এই ঘটনা বিরাট অবদান রেখেছিল। আর এরকম কিছু ঘটনার জন্যেই এখন বলতে পারি,
I am proud of myself. :-)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



