somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অরুপম
দেবার মতো তেমন কোন পরিচয় আমার নেই। আমি মানুষ, চমৎকার এই পৃথিবীর চমৎকার সব ঘটনা দেখে এখন পর্যন্ত চমৎকৃত। আর তাই লেখালিখির মাধ্যমে সেটা কিছুটা প্রকাশ করতে চেষ্টা করি।

প্রশংসা ও তেলবাজি: আমাদের ডাবলস্ট্যান্ডার্ডবাজি

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশংসা এবং তেলবাজি- এ দুটো ব্যাপারই যখন সমানে চলছে তখন এর পক্ষে বিপক্ষে দুটো দল দাড়িয়ে গেছে। একদল তেলবাজি ছাড়া প্রশংসা করতে পারেন না। আরেকদল মনে করেন প্রশংসা মানেই তেলবাজি। এদের মধ্যে কে ভুল আর কে সঠিক সেই বিস্তর আলোচনায় যাওয়ার আগে একটি বিষয় আমি বলতে পারি যে-দুটো দলেরই চিন্তাভাবনা এবং বোধশক্তির যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
প্রথম দলটি, যারা তেলমর্দনের মাধ্যমেই প্রশংসা করে থাকেন,তাদের ব্যাপারে একটি কথা বলতে হয় যে, হয় তারা তেলমর্দনকেই প্রশংসা হিসেবে গুলিয়ে ফেলেন, আর না হয় তো প্রশংসা কিভাবে করতে হয় সেই ক্ষমতাটিই তাদের নষ্ট হয়ে গেছে অথবা ক্ষমতাটা তাদের কখনোও ছিলই না। জগত জুড়ে কালে কালে প্রশংসার ভাষা-বাণী-ধরন পাল্টালেও প্রশংসার অর্থ এবং উদ্দেশ্য প্রাথমিকভাবে বলতে গেলে একই আছে-অন্যকে ভালো কিছুতে সমর্থন করা যেন সে অধিকতর আগ্রহী হয়। না হয় তো অন্তত আগ্রহটা যেন সে ধরে রাখে। এই “ভালো”র অনেকরকম অর্থ, অনেকগুলো দিক কিংবা অনেকগুলো আঙ্গিক থাকতে পারে। আমি আপাতত সে দিকে আলোকপাত করছি না।
প্রথম দলটি, যারা তেলবাজিকেই প্রশংসা বলে ভুল করেন, তাদের একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেই আমার ধারনা। হয় তারা প্রশংসাটাকে আলাদা করতে পারেন না; গুলিয়ে ফেলেন, আর নয়তো তারা ইচ্ছে করে এটা করেন। যেটাই হোক না কেন, এতে করে কেবল তাদের মানসিক দৈন্যতাটাই প্রকাশ হয়।
দ্বিতীয় দলটি, যারা প্রথম দলের উপর খুবই বিরক্ত এবং তাদের প্রশংসার ধরনে আতঙ্কিত, তারা প্রথম দল তেলবাজিকে প্রশংসা বলে মনে করেন বলে প্রশংসা করাটাই বন্ধ দিতে চান। তাদের চিন্তাটা অনেকটা এমন যে, তেলেভাজা খেলে অম্বল হয় বলে তারা তেলেভাজার দোকানই বন্ধ করে দিবেন। কিন্তু তারা এটা বুঝতে চান না যে- অম্বলের কারন তেলেভাজা নয় বরং পোড়া, নিম্নমানের তেল এবং জিভের অতিরিক্ত লোভ। আপনি একটা ভুল ধারনাকে আঘাত করবেন ভালো কথা; করুন। কিন্তু তার সাথে অন্য একটা ভালো ব্যাপারকেও আঘাত করবেন শুধু এই কারনে যে ভুল-শুদ্ধ মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে, তবে তো পৃথিবী থেকে প্রশংসা নামের এই চার অক্ষরের শব্দটিই উঠিয়ে দিতে হয়।
প্রথম দলটির মতো দ্বিতীয় দলটির একই রকম সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং এর ফল ভয়াবহ। তারা কিন্তু প্রথম দলটির তেলমর্দন স্বভাব পরিবর্তনের জন্য দলটির যে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশসাধন দরকার সেটি বলেনও না, করেনও না। একই সাথে তারা নিজেকে অন্যের প্রশংসা করা থেকে বিরত রাখেন; পাছে সেটি তেলবাজিতে পরিনত হয়। এতে করে তারা যে প্রকারান্তে প্রথম দলটিকে আরো তেলমর্দনের বিস্তর সুযোগ তৈরী করে দিলেন সেটি তারা বুঝতেই পারেন না। তাদের এই প্রশংসা-বিরতির কারনে তেলমর্দন গ্রুপের যে কোনও ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না সেটি তাদের কিভাবে বুঝানো যাবে তা আমার ঠিক বুঝে আসছে না।
এটা অবশ্যই সত্যি যে যারা সত্যিকার অর্থেই ভালো কিছু করেন তারা প্রশংসার কাঙ্গাল নন। কিন্তু এখানে ব্যাপারটি কাঙ্গালিপনার না। প্রশংসা প্রতিটি মানুষকেই উদ্দীপ্ত করে। এতো বড় সত্যটিকে যদি আমরা অস্বীকার করি কিংবা স্বীকার করা থেকে বিরত থাকি তবে তা কেবল আমাদের চিন্তার সীমাবদ্ধতা, ডাবলস্ট্যান্ডার্ডবাজিকেই প্রকাশ করে। আপনি প্রশংসা নাই করতে পারেন কিন্তু তেলবাজি বন্ধের জন্য আপনার প্রশংসা বন্ধের কথা বলা উচিত না। কোন সংবেদনশীল মানুষ তা করে না। আপনি মুখে বলবেন প্রশংসা করা দরকার, ভালো কাজের প্রশংসা করা উচিত, কিন্তু কখনোও করবেন না, তেলবাজদের মতো প্রশংসার গুষ্টি উদ্ধার করবেন, আবার আশা করবেন মানুষ ডজন ডজন ভালো কাজ করবে। বলি কি, এতো ডাবলস্ট্যান্ডার্ড আর সীমাবদ্ধ চিন্তা না করলেই কি নয়? যুদ্ধ সবসময় রাজ্য জয়ের জন্য করা হয় না, নিজ রাজ্যকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতেও যুদ্ধে নামতে হয়।


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৪২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×