১৯৯২ সালে নিখিল মানে নিখিল চন্দ্র মন্ডল আসছিল শরীয়তপুর বেড়াতে। আমরা হাইস্কুল পর্যন্ত একসাথে পড়েছিলাম। ও তখন কোলকাতা থাকে। আমার ইউনিভার্সিটি বন্ধ। বাড়িতে যেয়ে ওকে দেখেই বললাম বন্ধু বাবরী মসজিদ ভাঙার পরে ওখানে মোসলমানদের অবস্থা কি?
ও আমার দিকে রেগে মেগে তাকিয়ে বলল 'তুই এখনো সাম্প্রদায়িক রয়ে গেছিস?'
গত রোজার ঈদে চৌদি এরাবিয়ানরা ২৬ জন ইয়ামেনিকে বোমা মেরে হত্যা করল, প্রতিদিন হত্যা করছে এক মোসলমান আরেক মোসলমানকে। আমি ঐ সময় বললাম মোসলমানদের মত নিষ্ঠুর আর অবিমৃশ্যকারী জাতি পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। আমার কিছু বন্ধু ইনবক্সে মেসেজ দিয়ে বলল 'তুমি কি মোসলমান নি?'
ঘাতক শিরোমণি কাসেম্মাইরে ফাঁসিতে ঝোলানো হইলো। তুরস্কের আবাল এরদোগানের হুকুমে বাংলাদেশ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল। তার কিছুদিনের মধ্যে রাশিয়ার একটি যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত কইরা এরদোগান লাফাইতেছিল। বাংলাদেশের নওজোয়ান মুসলিম ভাইরা কইল ' সাবাস বেটা, বাঘের বাচ্চা।' খবরটা প্রথম আলোতে আইল। আমি কইলাম মন্তব্যে ' এই অবিমৃশ্যকারীতার জন্য বীচি ওয়ালা এরদোগানের নাকে খত দিতে হইবো। ঐ ঘটনায় আমারে ১১২ জন বলেছিল যারা প্রথম আলোর পাঠক 'ভাই ঠিক বলেছেন'। ৮৮ জন গাইল্লাইয়া মোসলমানিত্ব জাহির করছিল। তার কিছুদিন পরে রাশা যখন ঘোষণা দিল রাশিয়া থেকে সকল তার্কিদের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বহিস্কার করা হবে এবংতাদের সব অভিবাসীদের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ করে দেয়া হবে তখন এরদোগান নাকে খত দিয়া পুতিনরে কইলো ' ভাই ভুল বুইঝা বিমান ফালাইয়া দিসিলাম, আমাগো মাফ কইরা দেও।'
ঐ ঘটনায় আমারে কেউ কেউ কইলো আমি মোসলমান কিনা? আমি বুঝেই পাইনা আবাল কে আবাল বললে কি আমি মোসলমান না?
আজ দুইটা পত্রিকার রিপোর্ট পড়লাম। দুইটাই প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীভূত। বিমানে নাশকতায় ৭ প্রকৌশলী ধৃত। তার মধ্যে ২ জন হিন্দু। আরেকটা একনেকে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক। গেটের কাছে আস্রধারী ধৃত। অবশ্য তার লাইসেন্স আছে। তদন্তে আছেন দুই জন। একজন তেজগাও থানার উপবিভাগীয় কর্মকর্তা আরেক জন তেওগাও থানার দারোগা। ২ জনেই হিন্দু। ব্যাপারটা কি ইন্সিডেন্টাল? এরকম ভাবতে ভালই লাগে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৫% থেকে ৬% এখন হিন্দু। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩% হিন্দু ছেলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু সরকারী সব গুরুত্বপূর্ণ পদে হিন্দুদের আধিক্য কি করে ৩০% থেকে ৩৫% পৌছায়? এই প্রশ্ন এখন খুবই সমীচীণ মনে করছি।
আগেই বলেছি আমি কোন হিন্দু বা মোসলমানের প্রিয়পাত্র নই। কারণ এরা কখনোই দৃষ্টি ভঙ্গির দিক থেকে একটা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারেনি।
চাকুরী সহ যে সমস্ত ব্যাপারে কোটা ভিত্তিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে তা প্রকৃত মেধা বিকাশের অন্তরায়। যে কোন ধরণের কোটা মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলেই আমি বিশ্বাস করি।
২৩শে ডিসেম্বর
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



