somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্যঃ চিপা সেলিম

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বন্ধুরা অনেকদিন পর বের হলো রম্য চরিত্র চিপা সেলিমের ষষ্ট পর্ব। ভাল থাকুন।
শুভ সকাল।

চিপা সেলিম
পর্বঃ৬

দিগম্বর চিপার উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমনঃ
♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦♦

চিপার স্ত্রী চয়মন বাহার আমার বান্ধবী ছিল। চয়মন বাহার খুব লাজুক প্রকৃতির না হলেও কেন যেন সে আমাকে তার বিয়ের কথা এড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি চয়মন বাহারের নিকট এই জন্য কৃতজ্ঞ যে আমি দেশে বেড়াতে গিয়েছি শুনে চয়মন বাহার আমার সাথে তার স্বামী চিপাকে নিয়ে দেখা করতে এসছিল।

অবশ্য চয়মন বাহার যখন আমার সাথে দেখা করতে আসে আমি তাকে অবিবাহিতাই ভেবেছিলাম। আমার বন্ধু ডাঃ গুলজার হোসেনের চেম্বারে চয়মন বাহার যখন আসে তখন বেলা দ্বিপ্রহর। বাংলাদেশের উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা বেশী হলেও অক্টোবরের তখনকার আবহাওয়াটা অতটা রুক্ষ ছিল না। চয়মন বাহারকে বেশ সুন্দরী আর সপ্রতিভই লাগছিল। সাথে নিয়ে আসা কালো কুচকুচে আগন্তুককে পরিচয় করিয়ে দিল দূর সম্পর্কের খালাত ভাই হিসেবে। পরিধানের পোশাকে স্বচ্ছলতার অভাব ও ত্বকে মুখে পুষ্টিহীনতার কারণে চয়মন বাহারের সাথে আসা আগন্তুককে আমার নিকট ধনীর বাড়িতে ফাইফরমাশ খাটা গরীব আত্মীয়ই মনে হিয়েছিল।

অনেক দিন পরে চয়মনের সাথে আমার দেখা হতেই আমাদের দুজনের চোখের মধ্যেই কি যেন খেলে গেল! বলতে দ্বিধা নেই আমরা দু' জনই দুজনের চোখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়েছিলাম। চয়মন কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সাথে আসা আগন্তুককে একটু আদেশের সুরেই বলল 'চিপা তুমি একটু পাশের রুমে বস'। সেই দিন আমি বুঝেছিলাম চয়মন তার অপছন্দের মানুষের কাছে কতটুকু নির্দয় হতে পারে।

চিপা পাশের রুমে যেতেই চয়মন আমার হাত ধরে বলল 'এত দেরী করলে কেন?' আমি কিছুই বলতে পারিনি।শুধু ফ্যালফ্যাল করে অনেকক্ষণ ওর হাতে হাত রেখে বসেছিলাম। কিছুক্ষণ পর পরই চিপা আমাদের কাছে লোক পাঠিয়েছিল দেরী দেখে। চয়মন বাহার যখন চলে যায় আমি তার গন্তব্যের দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম বাতাসে উড়ছে তার লম্বা কেশগুচ্ছ। বন্ধু গুলজারের কথায় যখন সম্বিৎ ফিরে পেলাম, তখন সে বলল 'ও হচ্ছে চিপা সেলিম, চয়মনের স্বামী।' আমি শুধু অস্ফুটে বলে উঠলাম 'মানুষও এত কদাকার হয়।'

অনেকদিন চয়মনের সাথে দেখা নেই, কথাও হয়না। বন্ধু গুলজার বলল তার নাকি মেয়ে হয়েছে। দেখতে অবিকল চিপার মত। আমি বললাম 'বাঘডাসার ঘরেতো আর হরিণ শ্বাবক হবেনা।' অনেকদিন পরে কি যেন ভেবে চয়মনকে ফোন করলাম। জিজ্ঞেস করলাম হানিমুনে কোথায় গেলে।' চয়মন ম্রিয়মাণ গলায় ফ্যাসফ্যাসে বলল 'তোমার সাথে কথা হয় এই মিথ্যে অভিযোগ এনে চিপা আমাকে কোথাও নিয়ে যায়না।' আমি বুঝলাম চিপা শুধু নামেই চিপা না, টাকা পয়সা খরচেও চিপা।

চিপা যেদিন মনোবোস স্কলারশীপ পেয়ে জাপান চলে যাবে সেদিন জাপানে আলু নাও পাওয়া যেতে পারে এরকম ভেবে ৫ কেজি মুন্সিগঞ্জের গোলআলু পট্টি বেঁধে চিপার মা তার সাথে দিয়ে দিয়েছিল। সাতগাঁয়ের আত্মীয়দের ডেকে টাটকিনি মাছের ঝোল আর একটি মুরগীও সবাইকে খাইয়েছিল। আলতা স্নো পাউডারের বড় শখ চয়মন বাহারের। যদি জাপান থেকে কিনে পাঠাতে হয় সেই আশংকায় চিপা এগার কৌটা তিব্বত স্নো আর ৬ শিশি আক্লিমা আলতা কিনে চয়মনের জন্য তার মায়ের কাছে রেখে গিয়েছিল।

চয়মন বাহার ও চিপা সেলিমের সুখের সংসার দেখে অনেকেই ঈর্ষা পরায়ণ হন। দুজনেই চাকুরে। সঞ্চয়ের ফ্যাঁকড়া তুলে চিপা পারলে ঘর থেকেই বের হননা। যদিও স্ত্রী অর্থাৎ চয়মন বাহারের কিছুটা খরচের বাতিক আছে। ঘরে বসে খরচ কমানোর তরিকা উদ্ভাবনকারী চিপার একদিন দেখাদিল ভয়ানক বিপত্তি। উত্তরের জেলাগুলোর প্রচন্ড গরমের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য ওখানকার মানুষের জীবনধারাও ভিন্ন। চিপা যখন বাসায় খাওয়া দাওয়ার পরে দিবা নিদ্রা যায় তখন তিনি সাধারণত লুঙ্গি ও স্যান্ট্রো গেঞ্জি পড়ে ঘুমান। গরমের দিন। প্রচন্ড গতিতে ফ্যান ঘুরছে। চিপার লুঙ্গী ফ্যানের বাতাসে উড়ে এসে তার মুখ ঢেকে গেল। চয়মন বাহার স্বামীকে সোহাগ করতে যেয়ে লুঙ্গী খানা মাথার উপর থেকে খুলে খাটের নীচে রাখল। ঐদিকে ৩ বছরের মেয়ে শরীফা পাশের রুম থেকে কেঁদে উঠতেই চয়মন বাহার দৌঁড়িয়ে পাশের রুমে গেল। দুপুরে বৈচা মাছ বিক্রেতা আব্দুল মিয়া হাক দিতেই তড়িঘড়ি করে দরজা খুলে দিল চিপা। পরনে যে লুঙ্গী নেই তা তার খেয়ালেই ছিলনা। সেন্ট্রো গেঞ্জি গায়ে অর্ধ উলঙ্গ চিপাকে দেখে আব্দুল মিয়া একদৌঁডে চিৎকার করে ভয়ে পালিয়ে গেল। পাড়াপ্রতিবেশী এসে দেখে কিছু বৈচা মাছ উঠানে পরে আছে আর অর্ধ উলঙ্গ শরীরে চিপা সেলিম দরজার আঁড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চ শিক্ষিত চিপাকে উলঙ্গ অবস্থায় এভাবে দেখে সকলেই বলতে লাগল 'নিশ্চয় অতিরিক্ত পড়ালেখা করতে যাইয়া চিপার মাথা নষ্ট হইয়া গ্যাছে।' শহরে যখন এই কথা মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে গেল তখন চিপার বিজ্ঞ শ্বশুর অভিজ্ঞের মত মতামত দিল 'এই অবস্থায় জামাই বাবাজীকে আর এই দেশে রাখা ঠিক হইবে না।'

চিপাকে তার শশুর বলল- 'বাবাজী দেখতো অনলাইনে কোন জব ঠবের বিজ্ঞাপন পাওনি! চিপা তখনি খুঁজে বের করল পশ্চিমা দেশে প্রফেসরদের কাজের জন্য লোক দরকার। যারা গবেষণার জন্য এটা সেটা নাড়াচড়া করবে আর প্রয়োজনে প্রফেসরের ডিকটেশন লিখে রাখবে। বেতনও খারাপ না। চিপার শ্বশুর সবাইকে একহাত দেখিয়ে নেয়ার মত করে বললেন, 'বাবাজী আমার বড়ই গুণধর। আরেকটা পিএইচডি আনতে যাইব।'

তার কয়েকদিন পরে চয়মন বাহারের ফেসবুকে দেখা গেল লাল রঙের ব্যানারে বড় হরফের স্ট্যাটাস- 'দ্বিতীয়বার উচ্চ শিক্ষার জন্য চিপা সেলিমের জার্মান মুল্লুকে যাত্রা।'

চিপা সেলিম বাথরুমে পানির ট্যাপ প্রচন্ড জোরে ছেড়ে অট্টহাসিতে প্রকম্পিত করে বলে উঠল 'ইচ্ছেয় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক মাঝে মাঝে দিগম্বর হওয়াও খারাপ না।'

২৭ শে অক্টোবর ২০১৭
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:০৮
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১





কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল। কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না। সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের জ্ঞানতাপস আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

সাধনপুরের সন্তান আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ যিনি নিজের আলোয় আলোকিত করেছিলেন চট্টগ্রামের শিক্ষা-জগৎ।

কোনো কোনো মানুষের জন্মদিন ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে একটি সাধারণ তারিখ হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো মানুষের জন্ম একটি জনপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×