
কল্পবিজ্ঞানের সৌজন্যে টাইম মেশিনে চড়ে অতীতে যাওয়া ও প্যারালাল ইউনিভার্সের বিষয়টি খুবই জনপ্রিয়। অনেকেই এগুলোকে সত্য বলেই ধরে নেন। মনে করেন খাঁটি পদার্থবিদ্যা। মঝে মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও গণ মাধ্যমগুলোতে বেশ হইচই পড়ে যায়- কেউ কেউ দাবী করে বসেন নাসার বিজ্ঞানীরা প্যারালাল ইউনিভার্সের সন্ধান পেয়েছেন! আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান কি প্যারালাল বিশ্বকে সমর্থন করে? প্যারালাল ইউনিভার্স থিওরির অনুসারে আমাদের এই ব্রহ্মান্ডের সব বস্তু সব জীব এমন কি প্রতিটি স্থিতির প্রতিরুপ কোন না কোন সমান্তরাল মহাবিশ্বে অবশ্যই মজুদ আছে। কেন এমনটি বলা হয়? শূন্য থেকে পৃথিবী সৃষ্টি সম্ভব সেই ধারণা থেকেই এমনটা বলা হয়। অর্থনৈতিকভাবেই এর ভাল ব্যাখ্যা দেয়া যায়। ধরুন মি. রিচার্ড এর কোন টাকা নেই, মানে শূন্য। তিনি ব্যাংক থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিলেন। অর্থাৎ শূন্য থাকা অবস্থাতেও তিনি ১০ লক্ষ টাকার মালিক হতে পারেন যদি কোথাও ১০ লক্ষ টাকা ঋণ থাকে। এমনই একটি ধনাত্মক চার্জের বিপরীতে সমান একটি ঋণাত্মক চার্জ থাকলে শূন্যই থাকবে। একটি ধনাত্মক বস্তুর বিপরীতে সম্পূর্ণ ঋণাত্মক বস্তু থাকলে আমরা বলতে পারি শূন্য থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। আরো আকর্ষণীয় করে বললে, মহাবিশ্বে কোথাও আপনার মতো দেখতে আরেকজন যমজ রয়েছে যা ঋণাত্মক। প্যারালাল ইউনিভার্স কোনো মৌলিক তত্ত্ব নয়, অনেকগুলো তত্ত্বের অনুসিদ্ধান্ত হিসেবে এই ধারণাটি সামনে আনা হয়।বাস্তবিক এটা কোন পদার্থবিদ্যা নয় নিছকই দর্শন অর্থাৎ মেটাফিজিক্স।এটি একটি কল্পনা মাত্র। আমাদের এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একটি মহাবিশ্বের পরিবর্তে প্যারালাল বহু মহাবিশ্বের কথা বলা হয় যেখানে সময় চলে বিপরীত দিকে।বাস্তবিক প্যারালাল বিশ্ব সম্পর্কে পদার্থবিদ্যা কোন প্রমাণ দেয়নি।

ভবিষ্যতে বা অতীতে পরিভ্রমণ বা টাইম ট্রাভেল নিয়ে কথা বলতে গিয়েই এটা সামনে আসে। এখানেও মজাদার অনেক প্যারাডক্স রয়েছে। ধরুন কেউ টাইম মেশিনে অতীতে গিয়ে ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক গংদের খুন করে আসলো। কি হবে?
হারবার্ট জর্জ ওয়েলস রচিত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী দ্য টাইম মেশিনই হয়তো এইসব আজগুবির মূলে। এই গল্পে টাইম মেশিনে করে খৃস্টপূর্বে চলে যায। আবার তিনি তিন কোটি বছর ভবিষ্যতে চলে যান। সেখানে দেখেন মৃতপ্রায় পৃথিবীতে মাত্র কয়েকটি প্রাণি বেঁচে আছে। লাল কাঁকড়ার মত কিছু প্রাণি সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অসংখ্য প্রজাপতিকে ধাওয়া করছে। তিনি একসময় দেখতে পান সূর্য আরও বড় লাল ও নিস্প্রভ হচ্ছে ও পৃথিবী শান্ত ও ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। এটা একটা সাইন্স ফিকশন। তবে আইনস্টাইনের একটি সূত্র দিয়ে এর ব্যাখ্যা দেয়ারও চেষ্টা করেন কেউ কেউ। আইনস্টাইনের মতে আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন বস্তুকণা থাকতে পারে না। কোনো বস্তুর গতি আলোর গতির যত কাছাকাছি যাবে, ততই মনে হবে সেটা যেন ভারী হয়ে যাচ্ছে। যদি সেই বস্তু আলোর গতির একদম কাছাকাছি চলে যায়, তাহলে সেটা অসীম ভরসম্পন্ন বস্তুর মতোই ভারী হয়ে যাবে। তখন এর চেয়ে আরও বেশি গতি অর্জন করতে হলে অসীম পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হবে, যা অসম্ভব। তাই তাত্ত্বিকভাবেই বলা যায়, কোনো বস্তুর পক্ষে আলোর গতির সমান বা তার চেয়ে বেশি গতি অর্জন সম্ভব নয়। সময়, ভর ও শক্তির সূত্রগুলোতে সূর্যের আলোর চেয়ে বেশি গতি বসিয়ে দেখুন কি হয়। শক্তির সূত্রে বসালে শক্তি অসীম হয়ে যাবে, সময়ের সূত্রে বসালে সময় ঋণাত্মক হয়ে যাবে। অথচ কোন বস্তুর গতি সূর্যের গতির চেয়ে বেশি ধরেই এসব সাইন্স ফিকশন লেখা হয় এবং তাকেই বিজ্ঞান ভাবা হয়।


সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



