somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকদের ভ্রান্তি

১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অরুণ কুমার বসাক একজন বিশিষ্ট পদার্থ বিজ্ঞানী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বরেণ্য শিক্ষক ছিলেন এবং এখনো পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে এমিরিটাস প্রফেসর। তাঁর ডান হাতের দিকে তাকিয়ে দেখুন- তর্জুনী, মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা আঙুলে চারটি আংটি। তিনি শুধু শোভা বর্ধনের জন্যই এগুলো ব্যবহার করেন তা নয়, একটি বিশ্বাস থেকেই করেন। মানুষ অষ্টধাতুর আংটি পরে। কি কি ধাতু আছে এই আংটিতে? সোনা, রূপা, তামা, রাং, সিসা, পারদ ও লোহা। অনেকে কাসা, পিতল ও ব্রোঞ্জ এর কথাও বলেন। তবে এ তিনটি মৌলিক ধাতু নয়- তামা, রাং/টিন, সিসা/দস্তা এর একেক মিশ্রণ। হীরা, রুবি, নীলকান্ত, পান্না, গার্নেট, গোমেদ, মুক্তা (পাথর নয়) ইত্যাদি পাথর বসানো আংটিও অনেকে পরেন। স্রেফ স্বর্ণ বা রূপার আংটি যারা পরেন তারা অবশ্য শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যই পরেন। অষ্টধাতুর আংটির মধ্যে থাকা পারদ ও সিসা মানব শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। অন্য ধাতুগুলোও হাতে ব্যবহার করলে ক্ষতি ছাড়া, কোন উপকার হওয়ার সুযোগ নেই। কোন পাথরেরও কোন উপকারিতা নেই। কেতু, রাহু বা শনির দোষ বলেও কিছু নেই আর কোন দোষ কাটানোর ক্ষমতাও নেই পাথরের। বসাক স্যার যখন পাথর বসানো আংটি পরেন তখন পাথর ব্যবসায়ীদের জন্য সুখ বয়ে আনেন আর বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের জন্য বিড়ম্বনা তৈরি করেন। লিটন দেওয়ান চিশতিরা দেখাতে পারেন- দেখুন দেশের সেরা পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকও আংটি পরেন। বিজ্ঞানের শিক্ষক হলেই তিনি বিজ্ঞানমনষ্ক হবেন তার নিশ্চয়তা থাকে না। যদি কেউ না হন তবে ক্ষতি অনেক।মৌলবাদী চক্র তাকে ব্যবহার করে বিজ্ঞানমনষ্কতার বিপক্ষে মতাদর্শ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন।


এমনটা আমরা দেখি এম. শমশের আলীর ক্ষেত্রেও। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। এর আগে তিনি ইতালির ট্রিস্টে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, এর পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশনগুলিতেও কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি বাংলাদেশের সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ছিলেন। তিনি যখন কোয়ান্টাম মেথডের ক্লাসে বক্তব্য রাখেন তখন হতাশ হতে হয়। ধ্যানকে মানুষের আত্মউন্নয়ন ও ব্যাক্তিত্বের বিকাশে এই ম্যাথড প্রয়োগ করে। এরসাথে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কোন সম্পর্ক নেই, নামটি স্রেফ চুরি করা। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীদের নাম ব্যবহার করে এবং তাদের বক্তব্য বিকৃত করেই তারা কাজ করে। এম. শমশের আলী কোয়ান্টাম মেথড নিয়ে একটি বই লিখেছেন ‘ইসলাম বিজ্ঞান মেডিটেশন’ নামে যা প্রকাশ করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। বইটিতে তার ১৭টি প্রবন্ধ রয়েছে যাতে আত্ম উন্নয়ন ও কোয়ান্টামের কথা লিখেছেন। তিনি দুই দশক ধরে কোয়ান্টাম মেথড নিয়ে কাজ করছেন বলেও বইটি থেকে জানা যায়। বইটির ভূমিকায় তিনি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, গুরুজী ও মা-জীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি ওয়াজেও বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন স্থানে তাঁর নামের আগে আল্লামাও লেখা দেখা যায়। তার কারণে কোয়ান্টাম মেথড যে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অংশ নয় সেটা মানুষকে বুঝানো মুশকিল হয়ে যায়।

এমনটা আরো দেখেছি। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের একজন শিক্ষিকার কথা আগেও বলেছি, যিনি কালী দেবীর সাধনা করেন। তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেন, পদার্থও শক্তি কালীও শক্তি তাহলে দুটি এক হল না! ওনারই এক সহকর্মীর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল যিনি তাবলিগ জামাতের নেতা। আমাদের বিক্রমপুরের সরকারি শ্রীনগর ডিগ্রি কলেজের একজন পদার্থবিদ্যার শিক্ষক ছিলেন। তিনি ক্লাসে সবসময় বলতেন, ‘পদার্থবিদ্যার সমস্তসূত্রই এসেছে কোরআন থেকে’। কোরআন ধর্মগ্রন্থ। এটাতো পদার্থবিদ্যার বই নয়।পদার্থবিদ্যায় আমিও মাস্টার্স করেছি। তাই আমি প্রমাণ করার আহবান জানিয়ে ফেসবুকেই পোস্ট দিয়েছিলাম। সেখানে বলেছিলাম, আপনার কাছেই তাহলে আগামীতে পদার্থবিদ্যার অন্তত দুটি নোবেল আসবে এমন আবিষ্কার প্রত্যাশা করছি। যেহেতু আপনি জেনে গেছেন অতীতের সব আবিষ্কারই কোরআন থেকে হয়েছে তাই আপনিই পারবেন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করতে। ওনি ক্লাসে গিয়ে ছাত্রদের হুমকি দিয়েছিলেন যে, কে ফাঁস করেছে? তাকে দেখে নিবেন। কিন্তু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে এগিয়ে আসেন নি।

পদার্থবিদ্যার অনেক শিক্ষকই আছেন যারা প্রগতিশীল ও বিজ্ঞানমনস্ক। কিন্তু তাদের পরিবর্তে অপ্রগতিশীল ও বিজ্ঞানমনস্ক নন তাদেরই কদর বেশি সামাজিকভাবে। তারা বিজ্ঞানবিরোধী কথা বলে সহজেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এমনসব বই লিখেন যা সাধারণ মানুষ পাঠ করে দ্রুতই বিজ্ঞানমনস্কবিরোধী হয়ে উঠেন। তারা এবং কিছু সংগঠন এ ধরনের শিক্ষকদের খুবই গুরুত্ব দিয়ে বক্তা হিসেবে নিয়ে যান এবং বিজ্ঞানবিরোধী প্রচার করান। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় তারাই হয়ে উঠেন প্রতিবন্ধক
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:০০
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×