somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

গোলিয়াথ বধে একজন ডেভিড সারা গিলবার্ট

১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


করোনাসংক্রমনে ওরা তিনবন্ধু প্রথম তিনে এসে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প একে, দুইয়ে ব্রাজিলের বালসোনারো এবং তিনে ভারতের নরেন্দ্র মোদী! ব্যর্থতার তিন মহিরুহ। বন্ধু বলেই তাদের কমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে- তারা তিনজনই ধর্মান্ধ মৌলবাদী, জাতীয়তাবাদী এবং বিজ্ঞানমনস্ক নন। অন্যদের অসম্মান ও অপদস্ত করতে তিনজনই যা ইচ্ছা তাই বলেন। এই তিনজনই শুধু নিজ দেশ নয়, বিশ্বের জন্যই ক্ষতিকর, মানবতার জন্য ক্ষতিকর। তারা দানব হয়ে উঠেছেন। তাদেরতো থামাতে হবে, বধ করতে হবে। করোনার সাথে এই তিনটি দৈত্যর কথা মনে হলেই গোলিয়াথ দৈত্যের কথাই মনে আসে।

গোলিয়াথ নামের বিশাল দৈত্যটি গ্রামের ছেলে মেয়েদের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রস্ত করে রাখত। একদিন, ডেভিড নামে একটি ১৭ বৎসরের রাখাল ছেলে গ্রামে তার ভাইদের কাছে বেড়াতে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের জিজ্ঞেস করল, "তোমরা, দৈত্যটার সঙ্গে লড়াই করো না কেন? ভাইয়েরা ভয়ে ভয়ে বলল, "দেখছ না, কি বিরাট চেহারা, ওকে আঘাত করাই মুস্কিল।" ডেভিড বলল, "তা হবে কেন? বিরাট চেহারা বলেই আঘাত কড়া সহজ, কোনও তাক ফস্কে যাবে না।" আমরা সবাই জানি, ডেভিড গুলতির সাহায্যে দৈত্যটিকে হত্যা করে গ্রামের ছেলে মেয়েদের সন্ত্রাস মুক্ত করেছিল। একই দৈত্য সম্পর্কে দু'রকমের দৃষ্টিভঙ্গি, সাহসীর একরকম, আবার ভীতুদের অন্যরকম। ডেভিড শক্তিশালী নয় তবুও আজও আমরা দৈত্যবধের জন্য ডেভিডকেই খুঁজি। অদৃশ্য করোনাভাইরাস, বর্ণবাদী ট্রাম্প, আমাজান খেকো বালসোনারো আর জাতি বিদ্বেষী মোদীকে গোলিয়াথের মতোই অজেয় মনে হচ্ছে অনেকের কাছে। সেই আমেরিকাতেও সাহসী লোক দেখছি। মার্কিন গবেষক অ্যান্টনি ফাউচিকে দেখছি সাহস নিয়ে দাঁড়াতে। ট্রাম্পের প্রতিটি মিথ্যার জবাব দিচ্ছেন সাহস নিয়ে। অনুজীবের বিরুদ্ধে সংঘটিত বহু যুদ্ধে তিনি বিজয়ী। এরা তিনজনই করোনা নিয়ে হাসি-তামাশা করেছে, নিজ দেশে করোনা রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর দিকে। করোনার টিকা আবিষ্কারের দোরগোড়ায় রয়েছেন সারা গিলবার্ট এবং আরো কয়েকজন। করোনা যে কথার তুড়িতে, কোন দোহাইতে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে দূর করা যায় না তা দানবরা বুঝতে এখনো অক্ষম। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুতে তাদের কিছুই যায় আসে না। বিজ্ঞানীদের সফলতাই ট্রাম্প-মোদী-বালসোনারোদের জন্য হবে চপেটাঘাত! মাঝের দুটো মাস পরেই হয়তো আমরা পেয়ে যাবো বহু কাঙ্ক্ষিত টিকা।

ইতিমধ্যের এই প্রতিষেধকের উৎপাদনের কাজ শুরু করে দিয়েছে ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট ‘অ্যাস্ট্রা জেনিকা’। অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের তৈরি প্রতিষেধকটির শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ের ট্রায়ালে ৮,০০০ স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। করোনার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম তাদের তৈরি টিকা, এমনটাই দাবি করলেন অক্সফোর্ডের প্রতিষেধক গবেষণার প্রধান ড. সারা গিলবার্ট। একাধিক পরীক্ষায় তার প্রমাণও মিলেছে। শুধু তাই নয়, তাদের তৈরি এই প্রতিষেধক করোনার বিরুদ্ধে বছরখানেক ধরে প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম। তবে সব কিছুর আগে প্রতিষেধকের সুরক্ষার বিষয়টিকেই জোর দিয়ে দেখছেন অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা। এ ক্ষেত্রে কোনও রকম তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না তারা। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বে সবচেয়ে আশা জাগানো অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা প্রতিষেধকের (ChAdOx1 nCoV-19) মুক্তির দিন-ক্ষণ গুণছে বিশ্বের মানুষ। তারা ২০০ কোটি টিকা তৈরির প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি টিকার দাম হয়ে এক কাপ কফির দামের সমান। খুবই আশা জাগানিয়া খবর নিয়ে আসছে চিকিৎসা বিজ্ঞান।

তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে আসছেন সারা গিলবার্টের টিম। তারা খতিয়ে দেখছেন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেনো না থাকে। একটি ভুল বিপর্যয় নেমে আসতে পারে মানবজাতির উপর। দেখতে হবে টিকা যেনো সর্বোচ্চ কার্যকরী হয়। ট্রাম্প-বালসোনারো-মোদী অবশ্যই আমাদের জন্য গোলিয়াথ কিন্তু এ সময়ে আমাদের সামনে রয়েছে প্রধান গোলিয়াথ করোনাভাইরাস। এই অদৃশ্য দানবের পরাজয়ের মধ্য দিয়েই অন্য দানবদের পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৫৩
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×