
গিলমামেশকে মহাকাব্যই বলা হয়। এটা আনুমানিক ৪১০০ বছর আগে রচিত হয়। বাস্তবিক এটিই সবচেয়ে প্রাচীন সাহিত্যকর্ম। পারস্য দেশের গল্প। টাইগ্রিস আর ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকাতে রাজত্ব করতেন গিলগামেস। সে দেবী আর মানুষের পুত্র। রাজত্ব, বন্ধুত্ব আর অমরত্ব খোঁজার অলৌকিক গাঁথা। হোমারের ওডিসি আর ইলিয়াড দেবতা আর মানুষের গল্প। দেবতাদের বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া মানুষদের অবস্থার বর্ণনা। দেবতাদের ইচ্ছা অনিচ্ছা, লোভ-লালসার বলি হতে হয় মানুষকে। আবার মানুষ ও দেবতা/দেবীর প্রণয়ও ঘটে। ভারতের দুটি প্রধান মহাকাব্য হল রামায়ণ ও মহাভারত। রামায়ণ-মহাভারত জুড়েও দেবতা ও মানুষের গল্পই রয়েছে। রামায়ণ ও মহাভারত রচিত হয় খৃস্টপূর্ব তৃতীয়/চতুর্থ শতকে। এ দুটি অবশ্য হিন্দু ধর্মগ্রনে'র মর্যাদা পেয়েছে। তবে এগুলো আসলে সাহিত্য অর্থাৎ মহাকাব্য হিসাবেই খ্যাত। সম্ভবত রামায়ণ মহাভারতের আগে বা সমসাময়িক ছিলেন গৌতম বুদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্মকে অনেকে বলেন নাস্তিক্যবাদী ধর্ম। বৌদ্ধ ধর্মের মূল গ্রন' ত্রিপিটক। যা সংকলীত হয় গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর পর। অবশ্য প্রধান ধর্মগ্রন'গুলোর সবই প্রেরিতপুরুষদের মৃত্যুর পরেই সংকলিত হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের সম্ভবত হাজার বছর (সাতশ বছরও হতে পারে) পূর্বেই আরবে আবির্ভাব ঘটেছিল মুছা নবীর। তাঁর অনুসারীদের ইহুদী বলা হয়। তাদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ বা তাওরাত। মুসলমান ও খৃস্টান সম্প্রদায় এই কিতাবকে স্বীকার করে। প্রচলিত কেতাবী ধর্মগুলোর মধ্যে মুছা নবীর ইহুদী ধর্মই প্রাচীন। মুছা পৃথিবীর মানুষের কাছে দেবদেবীর পরিবর্তে ঈশ্বরের ধারণা দেন। তিনি ঈশ্বরের ডাক শুনেন এবং ইহুদীদের মাঝে গিয়ে ঘোষণা দেন, তিনি ঈশ্বরের প্রেরিত পুরুষ এবং ইহুদীদের রক্ষা করতে এসেছেন। ইহুদীরাও জানতেন তাদের রক্ষা করতে একজন কেউ আসবেন। একই রকমভাবে ইশা বা যিশুও আসেন ঈশ্বর বা আল্লার প্রেরিত পুরুষ হিসাবে। তাঁর ধর্ম খ্রিস্টান এবং ধর্মগ্রন' ইঞ্জিন বা বাইবেল। যিশুর ছয় শ বছর পরে আসে ইসলাম ধর্ম। মুসলমানের ধর্মগ্রন্থ কোরআন। মুসলমানরা যদিও দাবী করেন ইসলামই শেষ ধর্ম। তবে বর্তমানে প্রচলিত কয়েকটি ধর্ম এর পরেও এসেছে এবং টিকে রয়েছে। বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ৪৩০০টি ধর্ম টিকে রয়েছে। অনুসারীরা প্রত্যেকটিকেই শ্রেষ্ঠ এবং সঠিক বলেই দাবি করে। অনেক ধর্মেরই গ্রন্থ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রয়েছে হিন্দু ধর্মের।

হিন্দু ধর্মের প্রাচীন গ্রন্থ হল বেদ। বেদের কোন রচয়িতা নেই। বলা হয় এগুলো অলৌকিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে। বেদ প্রাচীন ঋষিদের ধ্যানে প্রকাশিত হয়েছিল যা সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। আবার মহাভারতে বলা হয়েছে ব্রহ্মা সৃষ্টি করেছেন বেদকে। বেদ হল চারটি যথা- ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ। বেদকে যারা স্বীকার করতো তারাই আস্তিক আর অন্যরা নাস্তিক। বাংলাদেশে যারা নিজেদের আস্তিক দাবি করে তাদের সকলেই কি বেদকে স্বীকার করে নেয়? বাস্তবিক তা নয়- তখনকার হিসেবে আজীবিক, চার্বাক, বৌদ্ধ, জৈন ও লোকায়ত- যাদের কাছে বেদের প্রামাণ্যতা স্বীকৃত নয়, মূলত তারাই ছিল নাস্তিক। হিন্দুদের উপনিষদ রয়েছে ১০৮ টি। এজন্যই হিন্দু ধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে উপনিষদের সংখ্যা ২২৩টির তালিকাও পাওয়া যায়। পুরাণ রয়েছে বিভিন্ন রকমের। এরমধ্যে মহাপুরাণ ১৮/২০টি, উপপুরাণ ১৮টি ছাড়াও স'লপুরাণ, কুলপুরাণ ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়া ভগবদ্গীতা ও মনুসংহিতা হিন্দুদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ। তাহলে মহাভারত ও রামায়ণ কি?
মহাভারত ও রামায়ণকে পঞ্চবেদের মর্যাদা দেয়া হয় পরবর্তী কালে। মহাভারত ও রামায়নের চেয়েও বেদ পুরাতন। মহাকাব্যর যে সকল বৈশিষ্ট থাকে তার সবগুলোই রয়েছে মহাভারত ও রামায়ণে। এদুটো যে মহাকাব্য তাতে কারো কোন আপত্তি নেই। সুদীর্ঘকাল এদের জনপ্রিয়তাও ছিল সর্বোচ্চ। এখনো হিন্দু ছাড়াও অন্যদের কাছে এর আকর্ষণ, জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব রয়েছে। কি কারণে দুটি মহাকাব্য ধর্মগ্রন্থ হয়ে গেল আর কিভাবেই মহাকাব্যের চরিত্রগুলোও হয়ে গেল দেবদেবী? না দেবদেবীরাই ঢুকে পড়েছিল মহাকাব্যে? বিভিন্ন গবেষকগণ এ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন, যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাতে নিরপেক্ষ গবেষকগণ মহাভারত ও রামায়ণকে পৃথিবীর সেরা চারটি মহাকাব্যের দুটি বলেই স্বীকৃতি দিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২০ ভোর ৬:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



