
বিভিন্ন কারণেই রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম একজন প্রিয় মানুষ। প্রখর মেধাবী এই মানুষটির দুটি দিক আমাকে আকৃষ্ট করে-
১। যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার করতে সক্ষম হওয়া
২। সাদাসিধে জীবন যাপন করা।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সহজ ছিল না। তারা সকলেই ছিলেন বিস্তর প্রভাবশালী মানুষ। অনেকের ভোট্ ব্যাংকও ছিল। কয়েকজন ছিলেন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার নিকতাত্মীয়। এই খুনিদের বিচার করতে গেলে রাষ্ট্রে অরাজকতা সৃষ্টির ধোয়াও তুলেছিলেন কেউ কেউ। তারা ছড়াচ্ছিলেন এতে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যেতে পারে। আমরা তাদের ছাড় দেয়ার প্রবণতাও দেখছিলাম। গণজাগরণ মঞ্চ এসব ভীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। এটর্নী জেনারেলও কখনো হাল ছাড়েননি। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও হাল শক্ত করেই ধরে রাখেন। তার মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য অনবরত হুমকি দেয়া হয়েছে। তাঁর পুত্র ও কন্যার উপরও নাশকতামূলক দুটি ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তাঁর গাড়িতে হামলা হতে পারে এই আশঙ্কায় তিনি পারতপক্ষে তাঁর গাড়িতে পরিবারের লোকজনকে উঠাতেন না। মরতে হলে একাই মরবেন। তিনি ন্যায়ের লড়াইতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত সংশপ্তক!
আমাদের অনেকগুলো ছোট-বড় অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হয়ে এসেছিলেন। তাঁর স্ত্রী বিনতা মাহবুবও একটি বৈশাখী উৎসবে অতিথি হয়ে এসেছিলেন। তিনি অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি। ওই কমিটির একজন সদস্য হিসেবে তার পল্টন অফিসে অনেকগুলো সভা করেছি।তিনি মৃদুভাষী, স্মীত হাস্যে দেখাতেন মেধার স্ফূরণ।সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাড়িতে ফেরার সময় সাথে করে নিয়ে যেতেন অনেকগুলো ফাইল রাতে দেখার জন্য। হাঁটতে হাঁটতে, লবিতে দাঁড়িয়েও মামলার কথা শুনে যথাযথ দিক নির্দেশনা দিতেন। তাঁর অফিসের লোকেদের কাছে তাঁর বিস্ময়কর মেধা ও প্রজ্ঞার কথা শুনেছি। এটর্নী জেনারেল অফিসকে অনেক শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
এটর্নী জেনারেল হিসেবে তিনি সফল ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি বিরতিহীনভাবে দায়িত্ব পালন করে থেকেছেন অবিতর্কিভাবে। দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন সবসময়। হঠাৎ করেই যখন শুনলাম মানুষটি করোনাসংক্রমিত হয়েছেন তখনই আতঙ্কবোধ করেছি তাঁর ৭১ বছর বয়সের কথা ভেবে। তিন/চারদিন আগে জানলাম তিনি করোনামুক্ত হয়েছেন। গতপরশু রাতে জানলাম অবস্থা সংকটাপন্নের কথা। তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও কয়েকটি পত্রিকা আরো আগেই দাবী করেছিল তিনি আইসিইউতে। শুনেছিলাম- তা সত্য নয়। তাঁর ফুসফুস কাজ করছে না শুনে বিচলিত বোধ করছি। এমন একজন দক্ষ মানুষকে রাষ্ট্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। তাঁকে কোন ভাবেই হারাতে চাই না। আশা করছি তিনি শিঘ্রই আরোগ্য লাভ করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



