somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

যে শূন্যতা পূরণ হয়নি!

২৪ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার হিন্দু বন্ধুদের মধ্যে অধিকাংশই নিম্নবর্ণের শূদ্র। উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের মধ্যে বামুন-ঠাকুর ব্যতিত অন্যদের তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যায় না বাংলাদেশে। বন্দোপাধ্যায়, চট্টপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, ভট্টাচার্যদের সংখ্যা একেবারেই কম। এদেশে ক্ষত্রিয় আগে থেকেই নেই। কিছু বৈশ্য সম্প্রদায়ের মানুষ দেখা যায়। দেশে বসবাসকারী হিন্দুদের সিংহভাগই শূদ্র। বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রধান পূজা দুর্গা পূজা। শূদ্রদের অনেকেই এই পূজার আয়োজক। আমাদের গ্রামের তিনটি পূজার দুটির সম্পূর্ণ আয়োজকই তারা। অন্যটির নেতৃত্বেও তারা রয়েছেন। অথচ একসময় শূদ্রদের পূজা করার অধিকারই ছিল না। তাদের বেদ পাঠতো দূরের কথা, শোনারও অধিকার ছিল না। এমনকি একজন শূদ্র যদি ব্রাহ্মণের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসে পড়তো, তবে তার বুকে গরম লৌহদণ্ডের ছ্যাকা দেয়া হতো অথবা পশ্চাৎদেশ কর্তন করে নেয়া হতো। এখন সেই শূদ্রদেরই দেখি হিন্দু ধর্মকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করতে। তাদেরই দেখি অন্য ধর্মের প্রতি অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হতে আবার নির্যাতিতও হতে।


মনুসংহিতায় রয়েছে- পরমেশ্বর নিজের মুখ থেকে ব্রাহ্মণ, বাহু থেকে ক্ষত্রিয়, উরু থেকে বৈশ্য আর পা থেকে শূদ্র সৃষ্টি করেছেন। এখানে বলা হয়েছে, দাসত্বের কাজ করার জন্যই বিধাতা শূদ্রদের সৃষ্টি করেছেন। মনুর বিধান হল- শূদ্রদের উপার্জিত ধন সম্পত্তি নিজেদের ভোগেরও অধিকার থাকবে না। সব উপার্জিত ধন দাস-মালিকরা (উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা)ই গ্রহণ করবে। তিন বর্ণের মানুষের ক্রীতদাস হয়ে সেবা প্রদান করবার জন্যই তাদের জন্ম। তিন বর্ণের মানুষদের থেকে শূদ্ররা যে ভিন্নতর জীব তা জানানোর জন্য, প্রতি মাসে মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলবার নির্দেশ রয়েছে। আজকের শূদ্ররা মনুর কথাকে অগ্রহ্য করে মহাপাতকের কাজ করে চলছে এটা বলা যায়। তবে তারা যে নিজেদের বদলে নিতে পেরেছে এটাও কম কথা নয়, এটা একটা উত্তরণই। এতে বর্ণপ্রথার তীব্রতা কিছুটা ম্লান হয়েছে।

ভারত ভাগের আগে ব্রাহ্মণরাই ছিল সমাজের অগ্রসর অংশ। কলকাতার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বন্দ্যোপাধ্যায়-চট্টপাধ্যায়দের সংখ্যাই ছিল অর্ধেকের বেশি। এরাসহ অগ্রসর হিন্দুরাই বাংলাদেশের পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো গড়ে তুলেছিলেন। অনেকে প্রগতিশীল রাজনীতি করেছেন। এই অংশটা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াতে আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। প্রগতিশীল নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়। জ্যোতি বসু-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা কলকাতায় গিয়ে সিপিএমকে শক্তিশালী করে তুলেন। আমাদের বাম সংগঠনগুলো নেতৃত্বশূন্যতা থেকে বের হতে পারেনি আর। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। এদেশে দুই ধর্মের মানুষই মৌলবাদের চর্চাটাই করছে, সংস্কৃতিটাকে দূরে সরিয়ে। শূদ্রদের মধ্যে প্রগতিশীল মানুষ পাওয়া দুষ্করই, অথচ তাদেরই নিজেদের স্বার্থেই প্রয়োজন ছিল প্রগতিশীল হওয়া। তবে প্রগতিশীল হওয়াওতো সহজ নয়। এজন্য প্রচুর পড়াশোনা ও অনুশীলন প্রয়োজন। একদা এই পড়াশোনা আর অনুশীলনের মধ্যে ছিলেন ওই উচ্চ বর্ণের হিন্দুরাই। আমাদের বিক্রমপুরের স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, সরোজিনী নাইডু, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জিব চট্টোপাধ্যায়, জয়ন্তানুজ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, সমরেশ বসু, সিদ্ধার্থ শংকর রায়, চিত্তরঞ্জন (সি.আর.) দাশ, সত্যেন সেন, জ্ঞান চক্রবর্তী, কালী প্রসন্ন ঘোষ, প্রতিভা বসু, হরিআনন্দ বাড়রি, স্যার চন্দ্রমাধব ঘোষ, অতুল প্রসাদ সেন, শ্রেয়া ঘোষাল এবং আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব যারা প্রায় সবাই উচ্চ বর্ণের তারা দেশ ছেড়েছিলেন। তাঁরাই বাংলাদেশের পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলো ছড়িয়েছিলেন। এই শূন্যতা আর পূরণ হয়নি, হতে আরো সময় লাগবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:০৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×