সে খুবই আধুনিকা। আমারই মেসমেট। বয়সে পাঁচ-ছ বছরের ছোট হবে। এখনো লেখাপড়া শেষ করেনি। টিভি সাংবাদিকতা বিষয়ে একটি কোর্সও করছে। আমাদের মেসে উঠেছে মাস তিনেক হলো। এর আগে অন্য একটা মেসে থাকতো। আমার সাথে এখনো তেমন ভাব জমে উঠেনি। কারণ আমার দিক থেকে বললে তা তার অতি আধুনিক স্বভাবের কারণে। গেঞ্জি, টিশার্ট, জিন্সের প্যান্ট এসব আমার মত রক্ষণশীল মানসিকতাও এখন মেনে নিয়েছে। কিন্তু হাফপ্যান্ট এখনো মেনে নিতে পারেনি। সে মেসে প্রায় সময়ই হাফপ্যান্ট পরে থাকে। প্রথম দিন দেখেই বলে দিয়েছি হাফ প্যান্ট পরে বারান্দায় না যেতে এবং মেসবাড়ির মালিক বা তার বউয়ের সামনে না যেতে। মেনে চলছিল। হঠাৎ একদিন দেখলাম সে সালোয়ার কামিজ পরেছে। আমরা কোন মন্তব্য করলাম না। সেদিনই মাগরিবের নামাজের পর সে আমার কাছ থেকে নামাজ সম্পর্কে তালিম নিতে এল। আমি তার হঠাৎ নামাজ সম্পর্কে আগ্রহের কারণ জিজ্ঞাসা না করেই প্রাথমিক তালিম দিলাম। তিন দিন পর সে নামাজ পড়তে শুরু করে দিল। আমরা বিস্মিত হলেও তার এই আকস্মিক পরিবর্তনের ব্যাপারে কিছুই জিজ্ঞাসা করলাম না। পরদিন সে নিজেই বলল সে আর টিভি সাংবাদিকতার কোর্স করবে না। কদিন পর সে তাদের বাড়িতে চলে যাবে। সপ্তাহ খানেক পরে সে চলে গেল সব কিছু নিয়ে। বলে গেল ছুটির পর সে আসবে। মেসের ভাড়াও দিয়ে গেল। ঈদের ছুটির বেশ কদিন পর সে এল।
এবার শুধু সালোয়ার কামিজ নয় , হিজাব সমেত। মেসের অন্যান্য মেয়েরা কৌতূহলী হতেই সে যা জানালো তা হচ্ছে – তার বিয়ে হয়েছে। ছেলে আমেরিকায় থাকে। ধার্মিক টাইপ। তাই তার এ পরিবর্তন। তার পরীক্ষা শেষ হলেই তাকে সেখানে নিয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



