জাতিকে অবাক করে দিয়ে একটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ...........মঞ্জুর হোসেন ঈসা
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান গঠিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি প্রহসনের নির্বাচন জাতির দেখতে হলো। যে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি এডঃ আব্দুল হামিদ, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বি চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদসহ ভিআইপিরাও নির্বাচনে নিজেদের ভোট অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইতিমধ্যে সারা দেশে নির্বাচনী সহিংসতায় ১১জন নিহত হয়েছে। দেড় শতাধিক ভোট কেন্দ্র স্থগিত হয়েছে। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত শূন্য কোঠায় ভোট প্রয়োগ হয়েছে। এরই মধ্যে চলছে একটি প্রহসনের নির্বাচন। হয়তো আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আসন নিয়ে আবারও সরকার গঠন করতে যাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২১-২৫ সিট নিয়ে জাতীয় পার্টি একটি গৃহপালিত বিরোধী দলের আশায় সম্ভাবনা উকিঝুকি দিচ্ছে। বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৯ দিন যাবত গৃহবন্দি অবস্থায় অবরুদ্ধ রয়েছে। সেনাকুঞ্জে বন্দি কি না, এখনও পরিস্কার হয়নি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নাটকের শেষ দৃশ্যের। দেশ-বিদেশী সকল সুধী ও সুশীল সমাজ ও কূটনীতিকদের বাঁধার মুখেও যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো ইতিহাসের পাতায় ৫ই জানুয়ারি আরেক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। যারা ইতিহাসের এই নৃশংস ঘটনার জন্ম দিল ইতিহাসের কাঠগড়ায় একদিন তাদেরকে দাঁড়াতেই হবে। বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে তারা বলেছেন এবারই বাংলাদেশে একটি অদ্ভুত নির্বাচন দেখলো। যে নির্বাচনে সূচনা রক্তের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। এবারই জাতি দেখলো নিবার্চনী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ১৯৫টি স্কুল আগুনে পুড়ে গেছে। যা আগামীতে শিক্ষা জীবনে একটি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে। এক তরফা নির্বাচনের মধ্যেও জাতিকে দেখতে হয়েছে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শামছুল হক টুকুর গুনধর পুত্র একাই প্রায় ৫শতাধিক ভোট প্রয়োগ করেছে। বিভিন্ন স্থানে মন্ত্রী এমপি’রা নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার করেছে। এক তরফা নির্বাচনেও কিছু কিছু জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচন থেকে নিজদেরকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। এত কিছুর পরেও সরকারি দলের নেতারা নির্লজ্জভাবে বলছেন ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগন করছেন। তাদের এই নির্লজ্জ মিথ্যাচার থেকে জাতি লজ্জা পেতেও ভুলে গেছে। বিএনপি বিহীন আওয়ামীতরফা নির্বাচন শেষে জাতি নতুন করে হিসাব নিকাশ শুরু করবে। আসলে দেশটি কোথায় যাচ্ছে। সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে দেশের বর্তমান সংকট শুধু রানৈতিক সংকট নয়, এটা জনগনের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সংকটে পরিনত হয়েছে। যেখানে সংবিধান অনুযায়ী জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস অথচ সেখানে সাধারণ ভোটররা তাদের ভোটার অধিকার থেকে ভোটের আগেই বঞ্চিত হলেন ১৫৩টি আসনে। বাকি ১৪৭টি আসনে ভোটের নামে যে তামাশা চলল ইতিহাসের পাতায় এই তামাশার অধ্যায় ৭৫’র বাকশালের অধ্যায়কেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। পরিশেষে আমরা এখন প্রত্যাশা করছি যে, আগামী ২৪শে জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সরকারের মেয়াদ রয়েছে। আজকের এই প্রহসনের নির্বাচনের সরকার আগামী ২৪শে জানুয়ারির পরেই শপথ নেয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে। ৫তারিখ থেকে ২৪ তারিখের এই মধ্যবর্তী সময় জাতি আবারও নতুন কোন সংকটের মধ্য পড়ে তাহলে তার দায়-দায়িত্ব কে নেবে? আমরা এখনও জাতির এই সংকট থেকে মুক্তি চাই।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের...
...বাকিটুকু পড়ুন
নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের...
...বাকিটুকু পড়ুন
পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত...
...বাকিটুকু পড়ুন