somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুঃ গোলাম মোর্শেদ (উজ্জ্বল)
নিজেকে বোঝার আগেই মনের মধ্যে একটা চেতনা তাড়া করে ফিরতো। এই ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে বদলাতে হবে, একটা বিপ্লব দরকার। কিন্তু কিভাবে?বিপ্লবের হাতিয়ার কি? অনেক ভেবেছি। একদিন মনের মধ্যে উঁকি দিয়ে উঠলো একটি শব্দ, বিপ্লবের হাতিয়ার 'কলম'।

বাঙালির নৈতিকতাবোধ

০৮ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন এক সময় মানুষের অশিক্ষা ,অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারনে ন্যায় অন্যায় বিচারবোধ উপলব্ধি না করে নানা লোমহর্ষক কর্মকান্ড ঘটাতো। আমরা দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলে থাকি সেই মধ্যে যুগিও বর্বরতার কথা। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য যুগে যুগে আবির্ভাব হয়েছে নানা দার্শনিক ,সামাজিক ,রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং ধর্মীয় বিধিবিধান। অনেক মহামানবদের আত্মত্যাগ,সাধনা ও রক্তের ফসল আমাদের আজকের এই ধরণী এবং সভ্যতা।

মানব সভ্যতার স্বর্ণ যুগে আজ আমাদের অবস্থান। আজও জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রগামী জাতীগোষ্ঠীর মানুষেরা তাদের পূর্ববর্তীরদের ভূল থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার চর্চায় মগ্ন রেখেছে। ঠিক তখন আমারা কি চর্চা করছি? যে বাঙ্গালী জাতীগোষ্ঠী নিয়ে আমাদের এত গর্ব সেই অহংকারের জাতীকে আজ কোন পথে নিয়ে যাচ্ছি। অনেক গ্লানী, দুঃখ, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও রক্তপাতের মধ্যে দিয়ে শত শত বছরের পরাধীনতার শৃংখল ছিন্ন করে আমাদের পূর্ববর্তীগন একটি স্বাধীন জাতীগোষ্ঠী উপহার দিয়ে গেলো। সেই স্বাধীনতার ফলাফল কি? কি চর্চা করছে এই জাতীগোষ্ঠীর মানুষ। আজ বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর বৃহত্তর চারটি ধর্মীয় দর্শন চর্চা করে,কেউ কেউ কোন ধর্মীয় দর্শন বিশ্বাস না করে নিজেকে মানবতাবাদী পরিচয় দিয়ে সেরা মানুষ দাবি করে থাকে,অনেকেই আবার বাংলাদেশ বলতেই চেতনায় কাতর হয়ে যায় ,মঙ্গল প্রদীব জ্বালায় , পতাকার রঙে শাড়ী পানজাবী পড়ে,কেউ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কমিউনিজম আন্দোলন করে জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে,কেউ বাংলার মানুষের মত প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গনতন্ত্রের আন্দোলন সংগ্রাম করে রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পৃথিবীর জ্ঞান বিজ্ঞানের সমস্ত শাখা প্রশাখা আজ বাংলাদেশে রপ্তানী হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কেউ হয়েছেন গনতন্ত্রের মানষ কন্যা ,কেউ আপসহীন নেত্রী ,কেউ পল্লীবন্ধু ,আরো অনেক উপাধিতে ভূষিত আমাদের কান্ডারী জাতীর মাঝি মাল্লাগন। এদের নেতৃত্বাধীন জাতীর সমস্ত জ্ঞান চর্চার ফলাফল স্বরুপ আজ যা দেখতে পাচ্ছি তাহলো,বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী ধারী যুবক রাষ্ট্রের সেবক ও সম্মানে আসনে বসে নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ভিক্ষুকের মনোবৃত্তি নিয়ে হাত বাড়িয়ে ঘুস খাচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি জনগনের প্রতিশ্রুতি পূরণের পরিবর্তে, নিজেকে সর্বোচ্চ তুষ্টির জন্য সৌদি আরবের গরিব মিস্কিনের উদ্দেশ্যে পাঠানো দুম্বার মাংশ গরিবকে নাদিয়ে নিজের বাড়িতেই রান্না করে পরিবার পরিজন ও নেতাকর্মী নিয়ে ভূরিভোজ করছে। এখন একজন ছাত্রের আর পড়াশুনার পাশাপাশী শিল্প সাংস্কৃতিতে মন বসেনা, লুটতরাজ রাজনৈতিক দলের ফ্রন্ট লাইনে আসার জন্য সে মানুষ কোপাতেই ভালোবাসে। একজন ছদ্দবেশী কমিউনিষ্ট নিজেকে গনমানুষের নেতা দাবি করলেও পাজামা পানজাবির ভাঁজ, পাজেরো গাড়ি ও মন্ত্রীত্বের স্বাধ দীর্ঘায়ী করার জন্য লুটেরাদের দালালী করতে আর লজ্জাবোধ করেনা। একজন চিকিৎসকের এখন আর একজন মমূর্ষ রোগীকে দেখে হৃদয়ের মানবিকতার দুয়ার খোলেনা,বরং গুলশানের ফ্লাটের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য একজন রোগীকে একবারের পরিবর্তে তিনবার পেটে সার্জারির ছুরি চালানোর ব্যাবস্থা করে। একজন বুদ্ধি ব্যাবসায়ী রাষ্ট্রীয় পদক ধরার দৌড়ে এগিয়ে থাকার জন্য অশিক্ষিত ও মূর্খ রাজনৈতিক নেতার ভিত্তিহীন মন্তব্যকে সত্য রুপে প্রতিষ্ঠার জন্য টিভি টকশোতে ঘন্টার পর ঘন্টা যুক্তি প্রদার করে। অনেক ধার্মিক নিজেকে সমাজের সেরা মানুষ দাবি করলেও অন্য ধর্মের মানুষের উপর অত্যাচার ও উপাসনালয় ভেঙ্গে ফেলা পূর্ণের কাজ মনে করে। আর মানুষ হত্যা যেন ইদুর বিড়ালের মৃত্যুর মত, বিচারতো দুরের কথা যা আজ রাষ্ট্রীয় রেজিষ্টার খাতায় এন্ট্রিই হয়না, ফলে সরকারের ষ্টেশনারী খরচ সাশ্রয় হয়। আর এসবের দোহাই দিয়ে অনেক এনজিও ও মানবাধিকারের ফেরিওয়ালারা বিদেশী দাতা সংস্থার ভিক্ষা এনে নিজেদের ব্যাংক ব্যালেন্স ভারী করছে। মাছ ব্যাবসায়ী ফল ব্যাবসায়িককে,ফল ব্যাবসায়ী মাছ ব্যাবসায়িকে ফরমালিন খাওয়াচ্ছে, এরুপ সবার মধ্যে দ্রুত অর্থ বিত্তের মালিক হওয়ার লালসা ডুকিয়ে দিয়ে আমাদের সবাইকে একে অপরকে দ্বারা বিষ খাত্তনোর ব্যাবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে পূজিপতিদের ব্যাবসার বাজার সৃষ্টি করে জাতীকে ধংসের মুখে ঠেলে দিয়ে এ্যাপোলো,স্কয়ার, ল্যাব এইড,ইউনাইটেডের মত রক্তচোষাদের রমরমা স্বাস্থ্য বানিজ্যের ব্যাবস্থা করে দেওয়া হয়েছে ।

মূলত, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী চোর খুনিদের লালন পালন ও চরিত্রবানের সনদ প্রদান করে সেই দেশের সারারণ মানুষের চরিত্রহীনতায় অবাক হওয়ার কিছু থাকেনা।দেশের প্রধান আদর্শের চেয়ার যদি আদর্শহীনতার মডেল হয় সেই জাতির চেয়ে হতভাগা জাতি আর থাকতে পারেনা। আর তাইতো জাতীর চেতনার উৎস ও শ্রেষ্ট সন্তান মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ক্রেষ্টের বরাদ্ধকৃত স্বর্ণের অর্থ চুরি একজন মন্ত্রী বা সচিবের স্বাভাবিক কর্মকান্ডের আওতায়ই পড়ে। যে দেশের মানুষের বৃহৎ একটা অংশে আফ্রিকার বুভুক্ষ জনগোষ্ঠীর প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে, সেই দেশে শত কোটি টাকা খরচে বৃহৎ মানব পতাকার রেকর্ড সৃষ্টির সৌখিন দেশ প্রেম হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই মনে হয়না।

আজকের এই সভ্যতার মোড়কে ঢাকা বর্বরতার যুগে যে মানুষগুলো এখনো সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের ঝান্ডা হাতে দাড়িয়ে আছে এবং জাতির মুক্তি স্বপ্ন দেখে আত্নবিসর্জন দিয়ে সংগ্রাম করছে তাদেরকে সশ্রদ্ধ সালাম ও সমর্থন এবং তাদের ডাকে সাড়া দেবার আহবান।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×