somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুঃ গোলাম মোর্শেদ (উজ্জ্বল)
নিজেকে বোঝার আগেই মনের মধ্যে একটা চেতনা তাড়া করে ফিরতো। এই ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে বদলাতে হবে, একটা বিপ্লব দরকার। কিন্তু কিভাবে?বিপ্লবের হাতিয়ার কি? অনেক ভেবেছি। একদিন মনের মধ্যে উঁকি দিয়ে উঠলো একটি শব্দ, বিপ্লবের হাতিয়ার 'কলম'।

মানব সমাজ এবং পশু সমাজ ।

২৮ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীতে প্রাণীকুলে দুই ধরণের সমাজ বিদ্যমান, একটি মানব সমাজ অন্যটি পশু সমাজ ।উন্নত মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়ায় মানুষ তার
চিন্তা ও বুদ্ধি দ্বারা অন্য প্রাণী থেকে আলাদা।ফলে মানুষ তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য আইন আদালত ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছে।
কিন্তু জঙ্গলের অনেক মানব আকৃতির থেকে বৃহৎ পশুর বসবাস থাকলেও শুধু চিন্তাশক্তি উন্নত না থাকায় শৃঙ্খলিত একটি পশু সমাজ গঠন তাদের দ্বারা সম্ভব নয়।ফলে পশু সমাজের বৈশিষ্ট্য হল সবচেয়ে হিংস্র ও শক্তিশালী পশু দ্বারা অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী পশুর নিয়ন্ত্রিত হওয়া এবং যাদের হিংস্রতা নেই বা অন্যের আক্রমণ থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা করার শক্তি সাহস নেই তারা সারা জীবন হিংস্র পশুর ক্ষুধা নিবারণের আহার হবে এবং ভয় ও ভীতির মধ্য দিয়ে আমৃত্যু জঙ্গলে বসবাস করতে হবে।
আমরা মানুষেরা সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের জন্য রাষ্ট্র সৃষ্টি করলেও এখনো পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রে পশু সমাজের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।এইসব রাষ্ট্রে পশু সমাজের মতই সমাজের আর্থিক ও রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী হিংস্র মানুষদের দ্বারা দুর্বল মানুষদের নিয়ন্ত্রিত হতে হয় এবং সমাজে তাদের বেঁচে থাকা না থাকা তাদের দয়ার উপর নির্ভরশীল।আইন আদালত থাকলেও মূলত ওগুলো প্রভাবশালীদের সুরক্ষা দেবার জন্যই তৈরি করে রাখা হয়েছে।বনের হিংস্র পশুর যেমন দুর্বল প্রাণীর রক্ত মাংসের স্বাদ নেবার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় বিন্দু পরিমাণ চিন্তা করতে হয়না এই হিংস্রতার জবাবদিহিতার জন্য, বরং অন্য অন্য প্রাণীর রক্ত মাংস খাওয়া তার জন্মগত অধিকার।জঙ্গলের পশু সমাজ বৈশিষ্ট্যের রাষ্ট্রগুলোতেও বসবাসরত মানুষরূপী হিংস্র পশুগুলোও নিশ্চিন্তে নির্ভয়ে দিবালোকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্য মানুষকে কুপিয়ে জখম করে রক্তের খেলায় মেতে উঠতে পারে।বনের পশুর যেমন সঙ্গমের ইচ্ছে জাগলে স্বজাতি যে কোনো পশুর অনুমোদন ছাড়াই সঙ্গমের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে, তেমনি পশু সমাজ বৈশিষ্ট্যের রাষ্ট্রে একজন মেয়ে ইচ্ছে করলেই তার নিজের মত করে বাঁচার অধিকারের কথা চিন্তা করতে পারেনা কারণ সমাজে ঘুরে বেড়ানো পশু মনোবৃত্তির লালায়িত মানব জানোয়ার নির্ভয়ে আক্রমণ করে যে কোনো সময় থামিয়ে দিতে পারে তার বেঁচে থাকার স্বপ্ন,আশা,আকাঙ্ক্ষা।এমন মানব জানোয়ারেরা জানে তার এই হিংস্রতার জন্য বনের পশুর মতই তার কোন জবাবদিহিতা থাকবেনা কারণ অর্থের বিনিময়ে এই সমাজ থেকে সমস্ত অপরাধের পরিণাম থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে।বরং এমন রাষ্ট্রের মানব জানোয়ারেরা জঙ্গলের হিংস্র পশুর মতই ভাবে অন্যের রক্ত মাংস,সম্ভ্রম নিয়ে খেলা করা তার জন্মগত অধিকার।
পশুর সমাজে হিংস্র পশুদের দয়া না থাকেলেও,পশু সমাজ বৈশিষ্ট্যের রাষ্ট্রগুলোতে দয়ার উপস্থিতি রয়েছে,এমন রাষ্ট্রের জনগণ জানে প্রচলিত আইন আদালত তাদের বিচারের জন্য নয়, তাই তারা আক্রান্ত হলে সরাসরি রাষ্ট্র প্রধানের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন, রাষ্ট্র প্রধান যদি কোন দুর্বলের উপর দৈবক্রমে দয়া বর্ষণ করেন তবে কখন কখন কেউ কেউ বিচার পেয়েও থাকে।এতোটুকু শুধু জঙ্গলের পশু সমাজ থেকে এমন রাষ্ট্রের পার্থক্য।
সভ্যতা চূড়ায় আরোহণ করা বিশ্বে এখনো এমন পশু সমাজ বৈশিষ্ট্যের রাষ্ট্রগুলো কিভাবে টিকে আছে, সেটাই উত্তরহীন আশ্চর্য প্রশ্ন?

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১:০৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

দরজায় কড়া নাড়ছে সংকট: ডেঙ্গু কি তবে শুধুই দূরের পরিসংখ্যান?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০০


অনেক দিন আগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি লেখায় এমন একটি ভাবনা পড়েছিলাম—যুদ্ধ যখন দূরে থাকে, তখন তাকে নিয়ে আমরা উত্তেজিত হই, আলোচনা করি, পক্ষ-বিপক্ষ নিই। কিন্তু সেই যুদ্ধ যখন নিজের উঠোনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×