
মুখে জিকির আর অন্তরে ডলারের ফিকির—ধর্মের নামে এই লেভেলের "মাল্টিটাস্কিং" মুনাফেকি কি আপনিও খেয়াল করেছেন?
ঈমানের তলোয়ার শুধু গরিবের ওপর চলে, আর হোয়াইট হাউজের সামনে গেলেই কেন এদের লুঙ্গি কোঁচা দিয়ে সোজা হয়ে যায়?
ভাইরে ভাই, বাংলাদেশ জামায়াত, হেফাজত আর কওমি ঘরানার কিছু রাজনৈতিক ভাঁড়দের অ্যাক্টিভিটি দেখলে ইদানীং বিনোদনের অভাব হয় না। এদের মুখ আর মনের দূরত্ব পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্বের চেয়েও বেশি! এদের কাছে ইসলাম কোনো আদর্শ না, ইসলাম হলো জাস্ট একটা "লাভজনক স্টার্টআপ বিজনেস"।
চলুন, এদের এই চরম সুবিধাবাদী আর হিপোক্রেট লাইফস্টাইলের টপ ৫টি কমেডি দেখে আসি:
১. জাতীয় সংগীতে অ্যালার্জি, মার্কিন সংগীতে ভক্তি:
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজলে এদের হাঁটুতে ব্যামো ধরে, খাড়া হয়ে দাঁড়াতেও কষ্ট হয়! কিন্তু মার্কিন বা ইউরোপীয় কোনো প্রভু সামনে আসলে কিংবা তাদের জাতীয় সংগীত বাজলে, এরা এমন সবিনয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যে মনে হয় যেন বেহেশতের হুর দেখে ফেলেছে!
২. ফিলিস্তিনের জন্য চোখের জল, আমেরিকার জন্য কোলাকুলি:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিলিস্তিনের জন্য দিনরাত কান্নাকাটি করে এরা লাইক-শেয়ার কুড়ায়। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, যে আমেরিকা ফিলিস্তিনিদের ওপর বোম মারার ফান্ড দেয়, পর্দার আড়ালে সেই আমেরিকাকেই এরা "দুধে-ভাতে পরম বন্ধু" বানিয়ে কোলে বসে থাকে! একেই বলে—কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো আর কেঁদে ডলার কামানো। ন্যাকামি আর কাকে বলে!
৩. মুখে পুঁজিবাদ হারাম, অন্তরে হ্যালুসিনেশন:
ওয়াজের স্টেজে উঠে গলা ফাটায়—"পুঁজিবাদ হারাম", "বস্তুবাদ ইসলাম বিরোধী", "এলজিবিটি মহাপাপ"! অথচ আড়ালে গেলে এদেরই পশ্চিমা লাক্সারি লাইফ, ব্র্যান্ডেড জিনিস আর সেই তথাকথিত নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর প্রতি গোপন লালসা সবচেয়ে বেশি চাড়া দিয়ে ওঠে। মুখে বিষ, অন্তরে মধু!
৪. ক্ষমতার লোভে ফতোয়া চেঞ্জ (নারী নেতৃত্ব স্পেশাল):
মঞ্চে দাঁড়ালেই ফতোয়া দেয়—"নারী নেতৃত্ব ইসলামে হারাম, গজব নামবে!" কিন্তু ২০০১ সালে যখন ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগ পাওয়ার সুযোগ এলো, তখন এই জামায়াতই দেশের প্রথম "ইসলামি দল" হিসেবে নারী নেতৃত্বকে সানন্দে গিলে নিয়েছিল। ক্ষমতার গন্ধ পেলে এদের সব ফতোয়া আইসক্রিমের মতো গলে যায়!
৫. জালিমের বিরুদ্ধে জিহাদ, নাকি জালিমের সাথে ডেটিং:
এদের ডিকশনারিতে আছে—"জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই না করলে মুমিন হওয়া যায় না।" অথচ প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় খলনায়ক, শোষক আর সাম্রাজ্যবাদী জালিমদের ড্রয়িংরুমে এদেরই সবচেয়ে বেশি দহরম-মহরম আর খাতিরদারি দেখা যায়।
আসল সত্যটা কী জানেন?
এরা মনে-প্রাণে চায় বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটা "ফকিন্নি আর দেউলিয়া" মডেলে চালাতে। কিন্তু পাকিস্তান নিজেই এখন ভিক্ষার থালা নিয়ে ঘুরছে, তাই সরাসরি সেই নাম মুখে নেওয়ার সাহস এদের বাপেরও নেই! তাই এরা ঘুরে-ফিরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী বিদেশি প্রভুদের পা চাটতে যায়, যাতে ক্ষমতা আর ফান্ডের টাকাটা ঠিকঠাক আসে।
এদের কাজ আর বিশ্বাস কোনোদিন এক ছিল না, আর হবেও না। এদের ইসলাম মানেই হলো—পাবলিককে ইমোশনাল ফুল বানিয়ে নিজের আখের গোছানো! মুমিন চেনা বড় দায়!
আপনার কী মনে হয়?
এইসব "ডলার-খেকো" এবং ধর্মের নামে ব্যবসা করা পলিটিক্যাল হিপোক্রেটদের চাবুক মারার সময় কি এখনো আসেনি? আপনার খাঁটি বাঙালি মতামত কমেন্টে ঢেলে দিয়ে যান!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



