somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফতোয়া যখন আইসক্রিম: ক্ষমতার গরমে গলে, মার্কিন বাতাসে জুড়ায়!

০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




মুখে জিকির আর অন্তরে ডলারের ফিকির—ধর্মের নামে এই লেভেলের "মাল্টিটাস্কিং" মুনাফেকি কি আপনিও খেয়াল করেছেন?
ঈমানের তলোয়ার শুধু গরিবের ওপর চলে, আর হোয়াইট হাউজের সামনে গেলেই কেন এদের লুঙ্গি কোঁচা দিয়ে সোজা হয়ে যায়?
ভাইরে ভাই, বাংলাদেশ জামায়াত, হেফাজত আর কওমি ঘরানার কিছু রাজনৈতিক ভাঁড়দের অ্যাক্টিভিটি দেখলে ইদানীং বিনোদনের অভাব হয় না। এদের মুখ আর মনের দূরত্ব পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্বের চেয়েও বেশি! এদের কাছে ইসলাম কোনো আদর্শ না, ইসলাম হলো জাস্ট একটা "লাভজনক স্টার্টআপ বিজনেস"।
চলুন, এদের এই চরম সুবিধাবাদী আর হিপোক্রেট লাইফস্টাইলের টপ ৫টি কমেডি দেখে আসি:
১. জাতীয় সংগীতে অ্যালার্জি, মার্কিন সংগীতে ভক্তি:
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজলে এদের হাঁটুতে ব্যামো ধরে, খাড়া হয়ে দাঁড়াতেও কষ্ট হয়! কিন্তু মার্কিন বা ইউরোপীয় কোনো প্রভু সামনে আসলে কিংবা তাদের জাতীয় সংগীত বাজলে, এরা এমন সবিনয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যে মনে হয় যেন বেহেশতের হুর দেখে ফেলেছে!
২. ফিলিস্তিনের জন্য চোখের জল, আমেরিকার জন্য কোলাকুলি:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিলিস্তিনের জন্য দিনরাত কান্নাকাটি করে এরা লাইক-শেয়ার কুড়ায়। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, যে আমেরিকা ফিলিস্তিনিদের ওপর বোম মারার ফান্ড দেয়, পর্দার আড়ালে সেই আমেরিকাকেই এরা "দুধে-ভাতে পরম বন্ধু" বানিয়ে কোলে বসে থাকে! একেই বলে—কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো আর কেঁদে ডলার কামানো। ন্যাকামি আর কাকে বলে!
৩. মুখে পুঁজিবাদ হারাম, অন্তরে হ্যালুসিনেশন:
ওয়াজের স্টেজে উঠে গলা ফাটায়—"পুঁজিবাদ হারাম", "বস্তুবাদ ইসলাম বিরোধী", "এলজিবিটি মহাপাপ"! অথচ আড়ালে গেলে এদেরই পশ্চিমা লাক্সারি লাইফ, ব্র্যান্ডেড জিনিস আর সেই তথাকথিত নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর প্রতি গোপন লালসা সবচেয়ে বেশি চাড়া দিয়ে ওঠে। মুখে বিষ, অন্তরে মধু!
৪. ক্ষমতার লোভে ফতোয়া চেঞ্জ (নারী নেতৃত্ব স্পেশাল):
মঞ্চে দাঁড়ালেই ফতোয়া দেয়—"নারী নেতৃত্ব ইসলামে হারাম, গজব নামবে!" কিন্তু ২০০১ সালে যখন ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগ পাওয়ার সুযোগ এলো, তখন এই জামায়াতই দেশের প্রথম "ইসলামি দল" হিসেবে নারী নেতৃত্বকে সানন্দে গিলে নিয়েছিল। ক্ষমতার গন্ধ পেলে এদের সব ফতোয়া আইসক্রিমের মতো গলে যায়!
৫. জালিমের বিরুদ্ধে জিহাদ, নাকি জালিমের সাথে ডেটিং:
এদের ডিকশনারিতে আছে—"জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই না করলে মুমিন হওয়া যায় না।" অথচ প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় খলনায়ক, শোষক আর সাম্রাজ্যবাদী জালিমদের ড্রয়িংরুমে এদেরই সবচেয়ে বেশি দহরম-মহরম আর খাতিরদারি দেখা যায়।
আসল সত্যটা কী জানেন?
এরা মনে-প্রাণে চায় বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটা "ফকিন্নি আর দেউলিয়া" মডেলে চালাতে। কিন্তু পাকিস্তান নিজেই এখন ভিক্ষার থালা নিয়ে ঘুরছে, তাই সরাসরি সেই নাম মুখে নেওয়ার সাহস এদের বাপেরও নেই! তাই এরা ঘুরে-ফিরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী বিদেশি প্রভুদের পা চাটতে যায়, যাতে ক্ষমতা আর ফান্ডের টাকাটা ঠিকঠাক আসে।
এদের কাজ আর বিশ্বাস কোনোদিন এক ছিল না, আর হবেও না। এদের ইসলাম মানেই হলো—পাবলিককে ইমোশনাল ফুল বানিয়ে নিজের আখের গোছানো! মুমিন চেনা বড় দায়!
আপনার কী মনে হয়?
এইসব "ডলার-খেকো" এবং ধর্মের নামে ব্যবসা করা পলিটিক্যাল হিপোক্রেটদের চাবুক মারার সময় কি এখনো আসেনি? আপনার খাঁটি বাঙালি মতামত কমেন্টে ঢেলে দিয়ে যান!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×