somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী ........... আজ ২৫ শে বৈশাখ

০৭ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো , প্রভু ,
পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু ।
এই যে হিয়া থর থর কাঁপে আজি এমনতরো
এই বেদনা ক্ষমা করো ,
ক্ষমা করো প্রভু ।।

এই দীনতা ক্ষমা করো , প্রভু
পিছন-পানে তাকাই যদি কভু ।
দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায় শুকায়
মালা পূজার থালায়
সেই স্লানতা ক্ষমা করো ,
ক্ষমা করো প্রভু ।।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্তের একটি উজ্জ্বল উধাহারণ । বাংলা সাহিত্তে তার মহত্ত্ব , সৃষ্টি , অবদান বাংলা সাহিত্যকে করেছে ধন্য । তাকে ধন্যবাদ দিলে তাকে খালি ছোটই করা হবে । বাংলা সাহিত্তের এমন কোন শাখা নেই যেখানে তার সোনালী স্পর্শ পড়েনি । আসলে তিনি তার সাহিত্য প্রতিভা নিজের পরিবার থেকেই পেয়েছিলেন ।

হে মোর চিত্ত , পুণ্য তীর্থে
জাগো রে ধীরে --
এই ভারতের মহামানবের
সাগরতিরে ।
(গীতাঞ্জলী)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ই মে (বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে । তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং প্রপিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর । এই বংশ সাহিত্তের উন্নতি সাধন ছাড়াও ইংরেজি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে লালিত এবং আত্মপ্রতিষ্ঠিত ব্যাবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি জনহিতকর কাজেও সাফল্য অর্জন করেন ।

আছে দুঃখ আছে মৃত্যু বিরহ-দহন লাগে
তবুও শান্তি তবুও আনন্দ তবুও অনন্ত জাগে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান । তাঁর মা সারদা দেবী সম্বন্ধে তেমন বিশেষ কিছু জানা যায়নি । রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন দার্শনিক ও কবি , মেজো ভ্রাতা সত্তেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন প্রথম ভারতীয় আই.সি.এস ; অন্য ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ ও নাট্যকার এবং বোনদের মধ্যে স্বর্ণকুমারী দেবী ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন । ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ ছিল সঙ্গীত , সাহিত্য ও নাট্যঅভিনয়ে মুখর । শুধু তাই নয় , বাইরের জগতের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ ছিল নিবিড় ।

আমার এ গান ছেড়েছে তাঁর সকল
অলংকার ,
তোমার কাছে রাখেনি আর সাজের
অহংকার ।
অলংকার যে মাঝে পড়ে মিলনেতে
আড়াল করে ,
তোমার কথা ঢাকে যে তাঁর মুখর
ঝংকার ।

তোমার কাছে খাটে না মোর কবির
গর্ব করা ,
মহাকবি তোমার পায়ে দিতে যে
চাই ধরা ।
জীবন লয়ে যতন করি যদি সরল
বাঁশি গড়ি ,
আপন সুরে দিবে ভরি সকল ছিদ্র
তাঁর ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একাধারে একজন কবি , সঙ্গীতজ্ঞ , কথাসাহিত্তিক । নাট্যকার , চিত্রশিল্পী , প্রাবন্ধিক , দার্শনিক , শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক । মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত । ১৯১৩ সালে তাঁকে সর্বপ্রথম একজন নন-ইউরোপিয়ান হিসেবে "গীতাঞ্জলী" কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্তে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় । এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন । তাঁর সাহিত্তের প্রধান ছদ্মনাম ছিল "ভানুসিংহ" ।

পউষের পাতা-ঝরা তপোবনে
আজি কী কারণে
তলিয়া পড়িল আসে বসন্তের মাতাল বাতাস
নাই লজ্জা , নাই ত্রাস
আকাশে ছড়ায় উচ্চহাস
চঞ্চলিয়া শীতের প্রহর
শিশির-মন্থর ।

সংক্ষেপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঃ (নীচে)

জন্মঃ ১৮৬১ সালের ৭ই মে (বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ শে বৈশাখ)
মৃত্যুঃ ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট (বাংলা ১৩৪৮ সালের ২২শে শ্রাবণ)
ছদ্দনাম বা সাহিত্যিক নামঃ গুরুদেব / ভানুসিংহ ।
জাতীয়তাঃ ভারতীয় ।
ধর্মঃ হিন্দু ।
সবচেয়ে বড় অর্জনঃ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ । (গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের জন্য) ।
স্ত্রীঃ মৃণালিনী দেবী (সাল ১৮৭৩ - ১৯০১) ।

ছাদের উপরে বহিয়ো নীরবে
ওগো দক্ষিন-হাওয়া
প্রেয়সীর সাথে যে নিমেষে হবে
চারি চক্ষুতে চাওয়া ।

ঝরনা , তোমার স্ফটিক জলের
স্বচ্ছ ধারা ,
তাহারি মাঝারে দেখে আপনারে
সূর্য তারা ।

বিশ্বমনস্ক কবি মৃত্যুর পূর্বে প্রত্যক্ষ করেছেন মানবসভ্যতার গভীর সঙ্কটকে । তথাপি তিনি মানুষের মহত্তে চির আস্তাবান ছিলেন । রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনন্ত জীবন , মানবাত্মা ও প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যের কবি । মৃত্যুকে তিনি দেখেছেন মহাজীবনের যতি হিসেবে । জীবন-মৃত্যু ও জগৎ-সংসার তার নিকট প্রতিভাত হয়েছে এক অখণ্ড রূপে ।

হে অচেনা
দিন যায় , সন্ধ্যা হয় , সময় রবে না
তীব্র আকস্মিক
বাধা বন্ধ ছিন্ন করি দিক
তোমারে চেনার অগ্নি দীপ্তশিখা উঠুক উজ্জ্বলি
দিব তাহে জীবন অঞ্জলি ।

রবীন্দ্রনাথ কেবল তাঁর কালের কবি নন , তিনি কালজয়ী । বাংলা কাব্যসাহিত্তের ইতিহাসে তাঁর আবির্ভাবে ছিল এক যুগান্তর । আজ এই মহান মানুষটির জন্মদিন । তাকে আমার আর সকল বাঙালীর পক্ষ থেকে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা । আমার খুবই ছোট্ট ক্ষমতাবলে আমি আজকের এই দিনটি তাকেই উৎসর্গ করলাম ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১১ রাত ৮:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মীয়তা বজায় রাখা ইসলামে ফরজ

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:১৪

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রাহিম) একটি মৌলিক নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআন ও হাদীসে বারবার আত্মীয়তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×