দিন দিন নিজেকেই চিনতে পারছি না। পিছনে ফিরে তাকালে যে আমাকে দেখতে পাই তার সাথে যেনো কোনো মিলই নেই আজকের আমার। আগের মত আর প্রাণখুলে হাসতে পারি না। মাথার মধ্যে কবিতার লাইন গিজগিজ করে না। কথা বলতে ভালো লাগে না। ঘুরতে ভালো লাগে না!!!! কিন্তু কেনো কিছুই ভালো লাগে না তা বুঝতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয় হয়তো বয়স বেড়ে যাচ্ছে তাই.. আবার কখনো কখনো মনে হয় হয়তো পারিপার্শ্বিক অবস্হাই এর জন্য দায়ী। কিন্তু আমার মতো মানুষকেও যে কখনো আশেপাশের অবস্হা নষ্ট করে ফেলতে পারবে তা নিজেই বিশ্বাস করতে পারি না।
এই তো মনে হয় সেদিনও আমার মত করে সারাদিন কেউ হাসতে পারত না। অনেক পড়ার চাপের মধ্যে কলেজ শেষ করে স্যারের বাসায় যাওয়ার পথে রিকশায় জ্যামে বসে আশেপাশের মানুষজনকে হুট করে ভেংগিয়ে খিলখিল করে হাসা ছিল আমার ট্রেডমার্ক। সারারাত বন্ধুদের সাথে আজাইরা কথা বলে ফজরের আযানের সময় ঘুমাতে যেতাম, আবার ঠিক সকাল ৬.৩০ এই ঘুম থেকে উঠে স্যারের বাসায় পড়তে যেতাম। কতদিন বকুনি খেয়েছি মায়ের সেজন্য। কিন্তু কথা যেনো আমার শেষ হত না। এখনও রাত জাগি, কিন্তু অনেক কথা জমা থাকলেও তা কাউকে বলতে পারিনা। কেনো যেনো মনে হয় আমার কি যেনো নেই। কোথায় যেনো একটা শূণ্যতা, একটা ভয় , একটা বাধা।
একটা সময় মনে হত একে ছাড়া থাকা সম্ভব না , ওকে ছাড়া থাকা সম্ভব না। কিন্তু এখন মনে হয় সব ছাড়াও হয়তো থাকা সম্ভব। আগের মত আর লিখতেও ইচ্ছা করে না। মনের সব আবেগগুলো কেনো জানি দিন দিন মরে যাচ্ছে। রাগ, দুঃখ, সুখ, ভালোবাসা, অভিমান কিছুই যেন আর বেঁচে নেই। তবু মানুষ আমি এটা বুঝতে পারি যখন মাঝে মাঝে মা'র জন্য মন খারাপ হয়ে যায়, চোখ দিয়ে পানি ঝরে। তখন বুঝি এখনও মরে যাইনি। বেঁচে আছি। কি অদ্ভুত!! সবথেকে কষ্টের অনুভূতিটা আমার মধ্যে একটা আশা জাগায়।
আজ কেনো জানি খুব ইচ্ছে হচ্ছে এক ফুঁ দিয়ে নিজের সমস্ত অতীতটা পাল্টে দেই। ঠিক সেই জায়গা থেকে শুরু করি যেখান থেকে সবকিছু কেমন জানি এলোমেলো হয়ে গেলো। অনেক মানুষই আছে ব্যাডলাক, কুফায় বিশ্বাস করেন না। কিন্তু আমার মনে কেনো জানি এটা একটা শিকড় গেড়ে ফেলেছে। জীবনের একটা সিদ্ধান্তকে পাল্টে দিতে ইচ্ছা করে। অনেকেই আমাকে বুঝিয়েছে যে আমার জীবনের সব খারাপের সাথে ঐ সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু আমি কেনো জানি মানতেই পারি না এই কথাটা। আমার অবচেতন মন বারবার সেই মুহূর্তটাকেই দোষারোপ করে। হয়তো আজ আমি অন্যরকম হতে পারতাম, অন্যরকম সময় কাটতো আমার। আমার আশেপাশের মানুষগুলোও ভিন্ন হতো। আসলে কপালের লিখন না যায় খন্ডন। তবুও হতাশাকে পিছু ছাড়াতে পারি না।
জানি যা লিখছি একান্তই আমার মনের কথা। অনেকে হয়তো পড়ে বিরক্তও হবে। কিন্তু কি করবো?? নিজের ভিতরে এসব আর পুষে রাখতে পারছি না। এক সমুদ্র এই হতাশা কোথায় রাখি?? তাই নাহয় এক বালতি এখানেই ফেললাম । তাও যদি একটু শান্তি পাই!!!
** যদি পড়ে খুবই বিরক্ত হন আর আমাকে আপনার একটা হতাশাগ্রস্হ বোকা মেয়েমানুষ মনে হয় আর খুব মেজাজ খারাপ হয়, তাহলে সেজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী**

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



