somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

রবার্ট ব্রাউনিং কে বুঝিনি!

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




“রবার্ট ব্রাউনিং” নামটি আমার কাছে এসেছে অনেক দেরিতে। বড় ভাইয়েরা যখন আমতলায় বসে “ব্রাউনিং এর দর্শন” নিয়ে আলোচনা করতেন, আমি তখন সেসব দূর থেকে শুনতাম। প্রথমে মনে হত, এই নতুন নামটির মানুষটি আবার কে? আবার কখনো কখনো মনে হত, হায়! আমি কত অজ্ঞাত। জানিনা কিছুই- না আরবি, না ইংরেজি। শুধুমাত্র মাদ্রাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে এসে ইংরেজি বিভাগে আমার দৈহিক স্থানান্তর ঘটেছে মাত্র, মনের নয়। না বুঝি বাংলা সাহিত্য, না বুঝি ইতিহাস। না কবিতা বুঝি, না বুঝি ওয়েস্টার্ণ সংস্কৃতি। মানে আমি অদৌ কিছু বুঝি না! আরবিতে রচনা লিখে, বাংলায় ভাব-সম্প্রাসারণ করে ইংরেজি সাহিত্য বড্ড ভীতির কারণ হয়ে গিয়েছিলো আমার জন্য। কারণ যেদিক থেকে শুরু করবেন সেদিক থেকেই আমার শূন্যতা, সব পারি আবার কিছুই পারি না।

সুতরাং আমার কাছে থেকে ব্রাউনিং কে জানার জন্য এত কষ্ট করে যে এই অনুচ্ছেদটি পড়ছেন তা বৃথা সময় নষ্ট বৈ আর কিছুই হবে না।

রবার্ট ব্রাউনিং(১৮১২-১৮৮৯) ছিলেন ভিক্টোরিয়ান যুগের একজন কবি। রোমান্টিক কবিদের পরপরই তিনি আলোচনায় আসেন। উনাকে অপটিমিস্টিক(আশাবাদী) একজন কবি হিসেবে মানা হয়। যিনি জীবনকে শিল্পের চেয়ে অথবা অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে মূল্যবান মনে করেন। জীবনের বর্ধিত সময়কে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন তার প্রায় সব কবিতাতেই। সিলেবাসের বাহিরে কোন কবির প্রতি আমার খুব বেশি একটা টান কাজ করে না। তাই আমার শব্দচয়ন নিখুঁত হবে না। তবে আমার জানা মতে তাঁর কবিতাগুলোর মধ্যে, “My Last Duchess(১৮৪২)” কবিতাটি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত অথবা পাঠক মনে বেশি জায়গা করে নিতে পেরেছে।

“Monologue” ও “soliloquy” শব্দ দুটির অর্থ হচ্ছে, “স্বগতোক্তি”। এখানে খেয়াল রাখার বিষয় হচ্ছে “Monologue”-এর ক্ষেত্রে শ্রোতা থাকবে না, কিন্তু “soliloquy” এর ক্ষেত্রে শ্রোতা থাকবে। ব্রাউনিং একজন নাট্যকার হতে চেয়েছিলেন হয়তো এজন্যই তিনি তাঁর কবিতাই “Monologue” ডিভাইস ব্যবহার করতেন। এর কিছুটা বুঝতে পেরেছি আ.ফ.ম রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্যার যখন আমাদের শেক্সপিয়রের “ম্যাকবেথ” নাটকটি পড়াচ্ছিলেন। একদিন ক্লাসে তিনি একটা মন্তব্য করেছিলেন, “ঠাকুর ঘরে কে রে! আমি তো কলা খাইনি”। সেদিন হাসলেও, বেকুব রাজার কর্মকান্ড ঠিকই বুঝতে পেরেছিলাম। স্যার কে এরপর আর পাইনি, থাকলে যে আমার জঙধরা মস্তিষ্ক ঘষে-মেজে ঠিক করে দিতেন সেই যুক্তি দাঁড় করানো অনর্থক, তবে ইংরেজি বিভাগের মত সমৃদ্ধ একটি বিভাগ থেকে আরো কিছু হাতে করে আনতে পারতাম সেটা আমি নিশ্চিত।

● কবিতাটির কিছু সার-সংক্ষেপঃ “My Last Duchess”-একটি ড্রামাটিক মনোলগ যা নামবিহীন ডিউকের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে। কবিতায় ডিউক এবং একটি নির্দিষ্ট মহিলার মধ্যে বিয়ের ব্যবস্থা করতে প্রেরিত একজন মেসেঞ্জারের সাথে কথা বলছেন। এটি ক্ষমতা সম্পর্কে একটি কবিতা, ডিউকের দ্বারা পরিচালিত রাজনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষমতা এবং তিনি তার জমির উপর নিয়ম অনুসারে বাড়িতে তাঁর বিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি লোহার মুষ্টি মানে কঠোর ভাবে শাসন করেন। এই কবিতায়, শক্তিটি চালিত করার উপায়গুলি হল কীভাবে যোগাযোগ করবেন এবং কী কী প্রতিরোধ করবেন তা চয়ন করা। এটি কাল্পনিক শিল্পের মাত্র এক টুকরো সম্পর্কে শিল্প। একজন স্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করছে! কেন? কারণ তিনি অন্য লোকেদের দিকে তাকান এবং তখন গালে লাল আভা প্রকাশ করেন এবং হাসেন, যদিও এই ব্যাপারগুলো তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে এবং সম্ভবত সম্পূর্ণ নির্দোষ কর্মকান্ড। এই কবিতায় ডিউক বেশ সবুজ চোখের দানব অবতার যেন। তিনি সহিংসতার প্রায় রূপক ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রচণ্ড ঈর্ষা কেবল রোমান্টিক মনোযোগই নয়, যে কোনও ধরণের মনোযোগ সম্পর্কেও। তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা এবং তার ছবি আঁকার একমাত্র কারণ ছিল তার শক্তি এবং বীরত্ব প্রদর্শন করা।

যাইহোক, কবিতাটির অগ্রগতির সাথে সাথে ব্রাউনিং প্রকাশ করেছে্ন যে, ডিউক তার আগের স্ত্রীকে হত্যা করেছিল কারণ খুব শীঘ্রই তিনি খুশী হয়েছিলেন। অন্যদিকে তিনি ডিউক এবং তাঁর এই নয়শত বছরের পুরনো নাম ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা আনন্দিত এবং খুশি হয়েছিলেন, যা তিনি একেবারেই মেনে নিতে পারেননি। ব্রাউনিং কবিতাটির মাধ্যমে তাঁর অপরাধীর মনস্তত্ত্বের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ান সমাজে লিঙ্গ এবং শ্রেণীর প্রতি মনোভাবের সন্ধান করেছেন। ডিউকের অহঙ্কার এবং তার অপরাধ সম্পর্কে তার অনুশোচনা এবং খোলামেলা অনুভূতি তাকে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বোধ করতে বাধ্য করতে পারে। কারণ সমাজ তাকে বলছে যে, তিনি যা চান তাই করতে পারবেন এবং তিনি চাইলে এ থেকে দূরেও সরে যেতে পারেন। মদ্দকথা অপরাধের প্রতি ভিক্টোরিয়ান সমাজের মনোভাব ছিল যে, উচ্চবিত্তরা অপরাধ করার ক্ষেত্রে পিছনে ছিল না।

● এই কবিতায় ভিক্টোরীয় সমাজের যে দর্শন ফুটে উঠেছেঃ কবিতার সর্বাধিক আকর্ষণীয় উপাদান সম্ভবত স্পিকার নিজেই, ডিউক। তিনি একটি দৈত্য হিসাবে চিহ্নিত হতে পারেন, যেহেতু তিনি তার স্ত্রীকে এভাবে নাম মাত্র বা অদৌ বিশেষ ঘটনা নয় এমন অপরাধ করার জন্য হত্যা করেছিলেন। তবুও তিনি ভাষায় শব্দচয়নে এবং তার মনমুগ্ধকর ঠিকানা প্রকাশের ক্ষেত্রে উভয়ই ছিলো চিত্তাকর্ষকভাবে মনোমুগ্ধকর। লক্ষণীয় তিনি একজন নৈতিক মানুষ তবুও একটি সৌন্দর্যের ধারনা রাখেন কিন্তু আউট অব দ্য বক্স নয় এবং তিনি তাঁর শ্রোতাদের জড়িত করার ক্ষেত্রে পারদর্শী হন। কিন্তু বাস্তবে, ডিউকের অত্যধিক ডমিন্যান্ট চরিত্রের দাবিটি শেষ পর্যন্ত তার এক মারাত্মক বিপরীত চরিত্র হিসাবে আসে। এর সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হল এই হত্যাকান্ড ও তার স্ত্রী। তার অপরাধকে শুধুমাত্র ফেমিনিন ভায়োলেন্স হিসেবেও অনুধাবন করা যেতে পারে; যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে অন্য পুরুষরা তাকে আঁকতে পারে। তার একচেটিয়াভাবে তার শুভ ঝলক সংরক্ষণ করতে অস্বীকার করেছেন পাঠক সমাজ। কিছুটা হলেও ডিউকের শৌখিনতা এবং অভিজাত্যের দিক দিয়ে বোঝা যায়। ডিউক নিজেকে কেবল সংস্কৃতির মডেল হিসাবেই নয়, নৈতিকতার দানব হিসাবেও প্রকাশ করেছেন। তার নৈতিক কদর্যতা দেখতে না পারা তার জন্য দায়ী হতে পারে একটি “নয়শত বছরের পুরানো নাম” উপাসনা দ্বারা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি এতটা অধিকারী যে তাঁর স্ত্রী যখন খুব স্বল্পভাবে অন্যের প্রতি তার অনুগ্রহ দেখায় সেটাও তাকে বিরক্ত করেছিলো, তখন তিনি এই বিষয়ে তার সাথে কথা বলতে রাজি হননি। আবার তিনি এই ধরনের সাধারণ ঘরোয়া কাজ যেমন “আপোষ” বা আলোচনার প্রতি অবিচলিত হবেন না। পরিবর্তে, যখন তার স্ত্রী অধিকারের ধারণাটি লঙ্ঘন করছেন, তখন তিনি তাকে হত্যার আদেশ দেন। অবশেষে, এই কবিতাটি শিল্পের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি যে মহিলাকে হত্যা করেছেন তার প্রতি তার ভালবাসা রয়ে গেছে, যদিও তার স্নেহ তার প্রতিনিধিত্বের উপর নির্ভর করে। অন্য কথায়, তিনি তার আদর্শ চিত্রটিকে বাস্তবতার চেয়ে পছন্দ করেছেন। বিভিন্নভাবে, এটি শিল্পীর দ্বিধা, যা ব্রাউনিং তাঁর সমস্ত কাজের সন্ধান করেন। কবি হিসাবে তিনি দ্বন্দ্ব এবং আন্দোলন, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাকে ধরার চেষ্টা করেন যা এক বস্তুতে পিন করা যায় না।আমি আবারও বলছি, “যা এক বস্তুতে পিন করা যায় না”।

তাই জন্য ব্রাউনিং এর কবিতাগুলোকে “Obscure” বা দূর্বোধ্য বা অস্পষ্ট হিসেবে মানা হয়। এই কবিতার কিছু লাইন টেনে আজকের মত ব্রাউনিং কে নিয়ে লেখা এই অনুচ্ছেদ শেষ করছি,

♦ This grew; I gave commands;
Then all smiles stopped together. (45-46)


♦ I call
That piece a wonder, now: Frà Pandolf’s hands
Worked busily a day, and there she stands. (2-4)

♦ perhaps
Frà Pandolf chanced to say, "Her mantle laps
Over my lady’s wrist too much," or "Paint
Must never hope to reproduce the faint
Half-flush that dies along her throat" (15-19)

♦ Too easily impressed: she liked whate’er
She looked on, and her looks went everywhere. (23-24)

♦ There she stands
As if alive. (46-47)


(Mehedi Hasan)

●●●

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৩২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×