somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেক ভাল মানুষ ছিলো

৩০ শে জুলাই, ২০২০ রাত ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




অনেক ভাল মানুষ ছিলো
মূলঃ রাকেশ তিওয়ারি
(হিন্দি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। ভুলক্রুটি মাফ করবেন।)

অনেক ভাল মানুষ ছিলো, তাই না? অনেক ভাল মানুষ ছিলো। ধরো, এই কথা তুমি বলে দিয়েছো বিশ্বাস করে অথবা অনুমান করে। কারণ কিছু না কিছু বলা কর্তব্য আছে তো তোমার তার জানাযায় বলার জন্য। না বললে তোমার ভালোমানুষির উপর পৃথিবীর সংশয় জাগতো। আর তোমার এই কথা আজ যদি সে শুনতো তাহলে সে খুশিতে নিঃসন্দেহে পাগল হয়ে যেত। বাদ দাও, এটা তো বলো যে, “যদি ভাল-ই থাকত তাহলে ভাল থাকার মূল্যায়ন কেন করলেনা?” সপ্তাহ জুড়ে তোমাকে তো সে অনেক প্রশ্ন করতো কিন্তু সেসবের উত্তর কেন দিলে না? যখন সে বলতো, “বন্ধু, আমার জীবনে দুঃখ ছাড়া আর কিছু কি পাবো না!” আর তুমি হাসি দিয়ে বলতে, “বন্ধু, এসব ছাড়া তোর অন্যকিছু কি বলার আছে?”

উইশ, এই হাসিটার সময় তার দুঃখ ও কান্নার কারণ খুঁজতে একবার। উইশ, সে যতবার বিদায় বলতো তখন অন্তত একবার পিছনে ফিরে তাকালে জানতে যে, তোমার সাথে দেখা করার পর আর কোনদিন সে ঘরে ফেরেনি। তার চেহারা থেকে দুঃখের ছাপ তখনও মুছে যায়নি। ঐ রাস্তার পাশে এক গাছের নিচে একা বসে সে কাঁদত। তুমি নিশ্চয় জানতে যে, সে আমাদের থেকে আজকাল দূরে-দূরে থাকত। একটু উদাসীন হয়ে থাকত। কিন্তু এটা কি জানতে যে, সে একা একা বদ্ধ রুমে শুয়ে থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা সিলিং ফ্যানের ঘূর্ণন গণনা করতো? সে তো বলেছিলো, বন্ধু চলো একবার দেখা করি। বিশেষ কিছু কথা তার শুধু তোমায় কাছে বলার ছিলো। আর তুমি? জীবনে কীভাবে চলতে হয় সেজন্য ম্যাসেঞ্জারে কিছু মজার-মজার কথার সাথে হাসির ইমুটিকন দিয়ে ভেবে নিয়েছিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর যদি এতেও কাজ না হয়?

তাতে কি! সে বেশ সমঝদার মানুষ, বুঝে যাবে। কিন্তু তোমার ঐ ম্যাসেজ থেকে সে ভাবতো এমন কি হলো যে, আমার জীবনে হাসির কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না? আর ভাবতো আমার বেঁচে থাকাটা খুব বেশি জরুরী নয় হয়তো। কিন্তু জরুরী ছিলো, উইশ! সেই জরুরী থাকাটা তাকে বুঝিয়ে দিতে পারতে এবং তাকে ভাল অনুভব করাতে পারতে। উইশ, তুমি তাকে এই অনুভব দিতে পারতে এবং কোন শর্ত ছাড়াই তাকে বুকে জড়িয়ে নিতে। উইশ, তুমি জানতে যে, সে প্রতিদিন কিছু না খেয়ে কেন বেহুশ হয়ে পড়েছিলো? উইশ, তুমি জানতে সে কথা বলতে বলতে হঠাৎ থেমে যেত কেন? উইশ, ওর ফেসবুক টাইমলাইন না ঘেঁটে একটু ওর ডায়েরি পড়ে নিতে? তাহলে জানতে তার চোখে বিশেষ কোন স্বপ্ন ছিলো না। বরং তার অনেক কাছের মানুষ থাকলেও মূলত কেউ কাছের ছিলো না। উইশ, আমাদের মধ্যে কেউ অন্তত ওর ঘরে সময়মত পৌঁছাতে পারতাম তাহলে অন্তত সে ঐ ঔষুধের শিশি খোলার পূর্বে একবার ভাবত। উইশ...

মানুষ বলে সম্পর্ক আমাদের জড়িয়ে রাখে, তার ঘরেও সেই বন্ধন ছিলো। যে ঘরে ঐ ঔষুধের শিশি ছিলো ঠিক ঐ একই ঘরে তার বাবা-মায়ের ছবিও ছিলো। কিন্তু সেই সময় কেউ ছিলো না, হৃদয়ের রাখা বন্ধু অনেক ছিলো কিন্তু আশেপাশে কেউ ছিলো না। এবার সে মৃত্যুর দিকে যাওয়াটায় জীবনের গন্তব্য বলে মনে করেছিলো। ভেবেছিলো এটাই সঠিক সময় সবকিছু থেকে উধাও হয়ে যাবার। যাবার সময় সে একটা জিনিস শিখে গিয়েছিলো আর চিরকুটে লিখে রেখেছিলো, “আমি আমার নিজের ইচ্ছায় আত্মহত্যা করছি তাই এতে আমার বন্ধুদের কোনভাবে শামিল করবেন না”। আর তুমি যখন ওর চলে যাবার খবর শুনলে তখন মনে হলো, ইশ! সে যা বলতো তা কত সত্য ছিলো। যা সে বলতো তা হৃদয় থেকে বলতো। এখন এসেছো সাদা কাপড়ে শুধু এটা বলার জন্য যে, সে কত ভাল ছিলো? তুমি এখন এখানে এসেছো নিজেকে শুধু এটা প্রমাণ করার জন্য যে, তুমি তোমাদের বন্ধুত্ব কত সুন্দর ভাবে নিভাতে ঠিক যেমনটা আল্লাহ্‌ বা ফেরেশতা করে থাকেন! যখন সে ছিলো তখন তো ওর সাথে দেখা করোনি এখন শেষ বিদায় জানাতে এসেছো। যখন পুরনো স্মৃতির ফ্লাশব্যাকে যাবে, যখন ওর কবরে ফুল দিবে তখন অসহায়, নারাজ এবং গম্ভীর আওয়াজ তার আত্মা থেকে শুনতে পাবে। তার বিদেহী আত্মা বলবে, এমন অনেক ঘটনার সাক্ষী আমরা নিজেরাই তবে এখনো আমার মত ভাল মানুষ তোমার আশেপাশে খুঁজে পাবে। সুতরাং আবার কোন এক ভাল মানুষের সাথে যদি দেখা হয়েই যায় তাহলে তার সাথে কথা বলো, তাকে হৃদয়ে রেখো। আর ঘরে গিয়ে কিছু উপহার দিও আর ঐ ঔষুধের শিশি জানালা দিয়ে বাহিরে ফেলে দিও। হতে পারে তোমার এইটুকু তাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে এবং তাকে সুখে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া শেখাবে। এতে তোমার কিছুটা পূন্যের কাজও হয়ে যাবে এবং দেখবে সে তোমাকে তার বন্ধু তালিকায় প্রথমে রেখেছে।

এই কথাগুলো আমরা সবাই জানি, সবাই মানি। কিন্তু আজ এই কথাটুকু এজন্য বলা জরুরী ছিলো যেন কাউকে তার বন্ধুর শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে না বলতে হয়,
“ভাল মানুষ ছিলো!”


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০২০ রাত ২:১১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন পুলিশ সুপারের আকুতি

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২০ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০৩


ফেসবুক পোস্ট থেকে অবিকল উদ্ধৃত

Shamim Anwar
tS2fponsorhelSd ·
'মানবিক' বলাৎকারকারী!!
"স্যার, ওরা তো খুব ছোট। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি, যেন ওরা বেশি ব্যথা না পায়। আমি তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মভূক

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:০৮


(আজ আমি তোমাদের একটা গল্প শোনাবো। লোটাস ইটার্স বা পদ্মভূকদের কথা জানোতো? গ্রিক কবি হোমারের ওডিসিতে এদের উল্লেখ আছে। প্রাচীন গ্রিসে একটা ছোট্ট দ্বীপ ছিল, সেখানকার মানুষের খাদ্য ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানে রেস্টুরেন্ট ।। সমবায় ভাবনা

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৪১





সকালের খবরে দেখছিলাম বেশ কিছু বিমান পরিত্যাক্ত অবস্থায় ঢাকা বিমান বন্দরের হ্যাঙ্গার এরিয়ায় পড়ে আছে । এগুলো আর কখনো উড়বেনা । এগুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনধারণ খুব ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে। নূন্যতম খাবারের দামও ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে...........

লিখেছেন নীল আকাশ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:২৪



যারা কাঁচাবাজারে যান তারা তো জানেনই, তারপরও বলছি। দেশে এখন জীবনধারণ খুব ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে।
নূন্যতম খাবারের দামও ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাজারের কাঁচা শাক সবজির আগুন মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ছেড়ে যাবেন না; ব্লগ ছাড়লে আপনাকে কেহ চিনবেন না।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০



আজকে, আমার একটা পোষ্টে ব্লগার জাহিদ হাসান কমেন্ট করে জানায়েছেন যে, তিনি ব্লগ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন; আমি না করেছি। উনাকে সম্প্রতি জেনারেল করা হয়েছে, সেটা হয়তো উনাকে হতাশ করেছে;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×