somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্য রিটার্ন অব গ্রেট পাওয়ার, প্রক্সি ওয়ার

০৮ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রক্সি ওয়ার সম্পর্কে আজকাল প্রায় বিভিন্ন আড্ডায় বা আলোচনায় শোনা যায়। “Proxy War” –এই দুই শব্দ নিয়ে আলোচনায় আরেক যুদ্ধ বেধে যায়। আমি চেষ্টা করছি, প্রক্সি ওয়ার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও যথাযথ বিবরণ দেবার।

“Proxy War” বলতে সাধারণত কি বুঝায়?
DEFINITION OF PROXY WAR: PROXY WAR IS AN ARMED CONFLICT BETWEEN TWO STATES OR NON-STATE ACTORS WHICH ACT ON THE INSTIGATION OR ON BEHALF OF OTHER PARTIES THAT ARE NOT DIRECTLY INVOLVED IN THE HOSTILITIES.
SOURCE: WIKIPEDIA


সাধারণত দুটি দেশের মধ্যে কোন ধরণের আর্মড্ সৈন্য/মিলিটারি লড়াই ছাড়াই যে যুদ্ধ হয় সেটাকে প্রক্সি ওয়ার বলা হয়ে থাকে। এখানে সেনাদের কোন প্রয়োজন পড়ে না। এখন আপনার মনে নতুন একটি প্রশ্নের উদয় হতে পারে যে, আর্মি নাই কিন্তু যুদ্ধ হবে, কীভাবে?

আবার প্রক্সি ওয়ার কে কোল্ড ওয়ার হিসেবেও বিবেচনায় আনা যায়। বলা হয়ে থাকে, কোল্ড ওয়ার হচ্ছে সেই যুদ্ধ যা ইতিহাসে কখনো গরম হয়ে উঠে নাই। এখন কোল্ড ওয়ার সম্পর্কে কিছু জানা যাক তাহলে প্রক্সি ওয়ারও আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারণ কোল্ড ওয়ার নির্ভর করে প্রক্সি ওয়ারের উপর।

কোল্ড ওয়ার ও কোল্ড ওয়ারের ব্লকসমূহ:
কোল্ড ওয়ার (ঠান্ডা মাথার যুদ্ধ) কে দুটি ব্লকে ভাগ করা যায়,
১. ওয়েস্টার্ণ ব্লক
২. ইস্টার্ণ ব্লক

এখন ওয়েস্টার্ণ ভাগে যে দেশ প্রতিনিধিত্ব করছে সেটা হলো যুক্তরাষ্ট্র আর ইস্টার্ণ ভাগে যে দেশে প্রতিনিধিত্ব করছে সেটা হলো রাশিয়া। রাশিয়ার পূর্ব নাম ছিলো, USSR!

এখন “USA” বনাম “USSR” কে যথাক্রমে “ক” বনাম “খ” হিসেবে বিবেচনায় নিলে সামনে যেতে সুবিধে হয়। কিন্তু “ক” কেন “খ” এর সাথে লড়তে যাবে? সোজা হিসেব, শক্তি বা ক্ষমতার জন্য। তাদেরকে যুদ্ধে জড়িয়ে পরতে কাজ করেছ ধরে নেওয়া যাক হাইপোথেটিক্যাল দুটি দেশ “গ” ও “ঘ”। কারণ পুরো যে ঘটনাটি ঘটছে মানে কোল্ড ওয়ার তা নির্ভর করে প্রক্সি ওয়ারের উপর।

এবার আসা যাক প্রক্সি ওয়ার সম্পর্কে
আমি খুবই সাধারণ একটি উদাহরণ দিচ্ছি, স্কুল/কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা আমাদের বন্ধুদের উপস্থিতি ৬০% শতাংশ করে দেবার জন্য তার হয়ে “ইয়েস স্যার”, “জি হুজুর”, “জি জনাব” ইত্যাদি বলে থাকি। লক্ষ্য করুন এখানে “ক” মানে আমার বন্ধু বা ক্লাসমেট ক্লাসে উপস্থিত নেই। কিন্তু আমি তার জন্য সেই উপস্থিতির ঘাটতি পূরণ করে দিলাম। সুতরাং আমি হয়ে গেলাম “গ” অথবা “ঘ”। মানে প্রক্সি দেওয়া তো ঠিক হয়নি কিন্তু হতে পারে এটা আমার বন্ধুর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বাঁচিয়ে দিলো। তাহলে “ক” বনাম “খ” কোনরুপ ঝামেলায় পড়লো না। তাদের মধ্যে এক রকমের কোল্ডনেস বা শান্তিপূর্ণ মনোভাব বজায় থাকলো।

কিন্তু এখানে আমার বন্ধু আমাকে প্রভাবিত করলো বা একরকম বিপদে ফেলে দিলো যে, হয় তুমি আমার হয়ে প্রক্সি দাও নতুবা আমি তো আর টিকতে পারছি না (যেহেতু উক্ত স্থানে তার ৬০% শতাংশ উপস্থিতি থাকাটা জরুরী)। তাহলে যে আমাকে প্রভাবিত করলো বা বিপদে ফেললো সে আমার বন্ধু এবং একই সাথে আমি তাকে “ক” বা “খ” বলে সংজ্ঞায়িত করবো।

“ক ও খ” বনাম “গ ও ঘ” এর বাস্তব উদাহরণ
দেখুন একটু মনোযোগ দেবেন। কারণ সংখ্যাগুলো একই থাকলেও আবার অনেকের মাথায় পেঁচিয়ে যায়। আমি আমার মাথা দিয়েই ভাবছি। যাইহোক, ইতিহাস থেকে আমরা টুক করে জার্মানি কে তুলে নিতে পারি। এখানে লক্ষ্য করলে দেখবেন, “ক” আর “খ” মানে একটু আগে যারা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ছিলো। মনে আছে? তো তারা জার্মানি কে দুই টুকরো করলো, ১. ইস্ট জার্মানি এবং ২. ওয়েস্ট জার্মানি। একই সূত্র ধরে আরো সামনে গেলে আমরা দেখতে পাই কোরিয়া কে। এখানেও ক ও খ মিলে কোরিয়াকে ভাগ করে দিলো, ১. নর্থ কোরিয়া এবং ২. সাউথ কোরিয়া।

ঠিক একই রকমের বিষয় দেখতে পাবেন ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের মধ্যেও। আফগানিস্তানের সাউথ আলায়ান্স কে নাম দেওয়া গেল “তালিবান”। যদিও আমার আজকের বিষয় এসব ভাগাভাগি নিয়ে নয়, বিষয়টি পরিষ্কার করতে এটুকু জানাতে বাধ্য হলাম।


প্রক্সি ওয়ারফেয়ার পুনর্বিবেচনা
প্রক্সি ব্যবহার করার কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টে ফিলিপ বাম্পের ২০১৮ সালের একটি নিবন্ধ অনুসারে, ইরাক যুদ্ধে প্রায় ৫,০০০ আমেরিকান সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। একটি দেশ যুদ্ধ করার জন্য একটি ভিন্ন দেশের সামরিক অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলি যুদ্ধে মার্কিন সেনা পাঠানো এড়াতে পারে এবং ফলস্বরূপ, জীবনহানি এবং বেসামরিক ঝুঁকি বৃদ্ধি এড়াতে পারে।


একটি প্রক্সি যুদ্ধ জড়িত একটি দেশের “Downsides (খারাপ দিক)” কি কি?
প্রক্সি যুদ্ধ কেন উপকারী নয় তার একটি প্রাথমিক উদাহরণ হল দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের ঝুঁকি। একটি প্রক্সি যুদ্ধে জড়িত হওয়ার মধ্যে একটি দেশকে অস্ত্র, অর্থ বা পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। স্বল্পমেয়াদে, প্রক্সি যুদ্ধকে একটি দেশের জন্য সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর উপায় হিসেবে দেখা হয়। যাইহোক, প্রক্সি যুদ্ধ আসলে ব্যয় এবং রাজনৈতিক ঝামেলা বাড়াতে পারে।

প্রক্সি যুদ্ধ কেন আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে তার আরেকটি উদাহরণ হল জবাবদিহিতার সমস্যা। অস্ত্র হস্তান্তর, তহবিল বা মূল্যায়ন সহায়তার পরে, দেশ বা ননস্টেট অভিনেতাদের কাছে সেই সম্পদ থেকে যায়। উপরন্তু, এটি সেই সম্পদ কীভাবে ব্যবহার এবং বরাদ্দ করা হয় তা চূড়ান্তভাবে জানাতে ব্যর্থ হয়। এটি দুর্নীতির সাথে একটি মেলবন্ধন তৈরি করে যেখানে একটি দেশের সাহায্য প্রদানের মূল উদ্দেশ্য এই সাহায্য গ্রহণকারী দ্বারা পূরণ নাও হতে পারে। অস্ত্রগুলি বেসামরিক লোকদের আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে বা যুদ্ধে অন্য দলগুলিকে দেওয়া যেতে পারে যা তাদের উদ্দেশ্যে ছিল না।


এখনো প্রক্সি ওয়ার পরিষ্কার নয়!
এর মানে হল আপনি অন্য জাতিকে আপনার জন্য আপনার নোংরা কাজ করতে দিচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনও একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি। যাইহোক, তাদের প্রভাবের ক্ষেত্রে, তারা অন্যান্য জাতিকে তাদের নোংরা কাজ করতে বাধ্য করেছিল। ১৯৪৪-৪৭ সালে গ্রীসে গৃহযুদ্ধ; ১৯৭৯-১৯৮৯ সালের আফগান যুদ্ধ; কোরিয়ান যুদ্ধ, ১৯৫০-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত।


পরিশেষ
খেলা সবসময় হবে “ক” বনাম “খ” এর মধ্যে। কিন্তু “ক” ও “খ” নিজেরা কখনোই যুদ্ধে জড়াবে না, নিজেদের হাত নোংরা করবে না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে তালবাহানা চলবে। যুদ্ধের মাঠে নতুন পরাশক্তি (চীন) আসতেও পারে কিন্তু ভোগান্তিতে পড়বে না। সবসময় নিজের হাত পরিষ্কার রেখেই চলছে “ক” ও “খ”। অন্তত ইতিহাস তাই বলছে। সুতরাং সামগ্রিক বিবেচনায় আপনি বা আমি যতই শান্তিপ্রিয় মানুষ হই না কেন এই দুই পরাশক্তির স্বার্থে আঘাত লাগলে কেউ কাউকে একবিন্দু ছাড় দিবে না। এমনকি কোল্ড ওয়ার/প্রক্সি ওয়ার দিয়ে মাঠে খেলে নিবে “গ” ও “ঘ” কে।

আর “গ” ও “ঘ” তাদের পূজারি হয়ে পূজো করবে। এই গ ও ঘ একবিন্দুও লজ্জা করবে না নিজেদের হাত নোংরা করতে, মানুষ মারতে, টাকা ব্যয় করতে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সীমা ভেঙ্গে চুড়মার করতে। ঠিক যেন এদের জন্মই হয়েছিলো অন্যদের সার্ভ করার জন্য। আমরা যেমন রেস্টুরেন্টে ওয়েটারদের সাথে ব্যবহার করি ঠিক তেমনি “গ” ও “ঘ” নিজ নিজ স্বার্থের জন্য কি তাই করছে না?

আবারও হলিউডে আরো একটি নতুন মুভি মুক্তি পাবে। পঞ্চম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে কিছু অতিপ্রাকৃত দৃশ্য সেখানে থাকবে। এ.আই নামক বস্তু নিয়ে আরো চর্চা হবে। ততদিনে আমি বা আপনি পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবো। কিন্তু মনে বড় প্রশ্ন জাগে, এই খেলা শেষ হবে কবে?


- মেহেদি হাসান(Mehedi Hasan)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫২
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার জটিল ভাইয়ের কুটিল এজেন্ডা ফাঁস!

লিখেছেন জটিল ভাই, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৩৩


(ছবি নেট হতে)

জটিল ভাইকে সবাই হয়তো চিনেন না। আমি কোনোকালেই তাঁর ভক্ত ছিলাম না। এমনকি কখনও আমি তাকে ব্লগার হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে রাজি নই। তাছাড়া ভবিষ্যতে তিনি করবেন এমন একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালাত আদায় বনাম নামাজ পড়া বনাম সালাত কায়েম

লিখেছেন জ্যাকেল , ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১১:৫৪




মুসলমান ও ইয়াহুদী ধর্মের মানুষগণ সেজদা সহ মোটামুটি মিল আছে উপায়ে প্রার্থনা করেন/নামাজ পড়েন। লোকমুখে আমাদের দেশে এভাবে ব্যাপারটা চলে-

নামাজ পড়তে হবে।
নামাজ পড়া বাদ দিলে মুসলমান থাকা যায় না। ফাসেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×