somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

অপশন

০৯ ই জুন, ২০২৩ সকাল ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




অপশন
প্রথম প্রকাশ: ২১ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:৩১ মিনিট

'অপশন' নিয়ে কিছু লেখার পূর্বে লিনিয়ার ও নন-লিনিয়ার এর মধ্যে পার্থক্য জানা প্রয়োজন। শুধুমাত্র 'হ্যাঁ', 'না'/'সাদা', 'কালো'/'সত্য', 'মিথ্যা'/'ভুল', 'ঠিক' দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর যেমন দেওয়া যায় না ঠিক তেমন করে জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীর ব্যাপারেও খুব দ্রুত উপসংহারে পৌঁছানো যায় না।

ধরুন, প্রশ্ন হলো আপনার কি চা পছন্দ? উত্তর কিন্তু বিভিন্নভাবে আসতে পারে,

• হ্যাঁ পছন্দ, কিন্তু র’চা পছন্দ করি আমি।
• হ্যাঁ পছন্দ, কিন্তু লেবু চা পছন্দ করি আমি।
• হ্যাঁ পছন্দ, কিন্তু দুধ চা পছন্দ করি আমি।
• হ্যাঁ পছন্দ, কিন্তু ঝাল চা পছন্দ করি আমি।
• হ্যাঁ পছন্দ, কিন্তু চায়ে আদা বেশি পছন্দ করি আমি।
• হ্যাঁ পছন্দ, কিন্তু র’চা হতে হবে এবং কড়া লিকার।
• হ্যাঁ পছন্দ, কিন্তু র’চা আবার লিকারটা কম হবে।
• হ্যাঁ পছন্দ, কিন্তু অমুক ভাইয়ের তমুক চা আমার পছন্দ।
• না, আমি চা পছন্দ করি না।
• পছন্দ করি কিন্তু সবসময় না, বন্ধুরা মিলে রাত দুপুরের আড্ডায় এক কাপ চা-কফি হতেই পারে।
• পছন্দ করি না কিন্তু কেউ চায়ের কাপ এগিয়ে দিলে ফিরিয়ে দেইনা।
• পছন্দ, তবে শীতের সময়।
• চা আমার খুব পছন্দ কিন্তু এতে করে স্কিন খারাপ হয়ে যায় তাই খাওয়াটা আর হয় না।
• না, কিন্তু আমার প্রিয়তম/প্রিয়তমা করে দিলে অন্য কথা।

সামান্য এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর শতাধিক বা তারও বেশি যোগ করা সম্ভব। তারমানে হলো একজন মানুষের কাছে শুধুমাত্র চা খাওয়ার জন্য এতগুলো অপশন থাকে।

টিভি দেখতে বসে একদিন খুব বিড়ম্বনায় পড়ে যাই। চ্যানেল সুইচ করতে করতে একসময় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমি পুরো একঘন্টা সময় কিছু না দেখেই কাটিয়েছি। কারণ আমার সবচেয়ে ভালোলাগার অনুষ্ঠান বা মুভিটি আমি বিভিন্ন চ্যানেলে খুঁজছিলাম।

এছাড়া ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা যেটা হয়, হাতে রাখা পাঁচমিনিট নিয়ে ইউটিউবে বসে কখন জানি পাঁচঘন্টা কাটিয়ে দিয়েছি। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে একজনের বার্তার অপেক্ষায় অন্য বিশজনের সাথে চুটিয়ে চ্যাটিং করে ঘুমের সময়টাও নষ্ট করেছি। আড্ডা দিবো না ভেবে বাইরে বের হয়ে পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হওয়ায় পুরো দিনটাই আড্ডা দিয়েছি।

ব্যাপারটা হলো, অনেক উপন্যাস লিখে ঔপন্যাসিক হওয়ার চিন্তা মাথায় নিয়ে এক পৃষ্ঠাও লেখা হয়নি যেন।

ভাবছিলাম এই 'অপশন' শব্দটা কতটা ভয়াবহ। কিছুই ঠিকঠাক দেখা হয় না, বুঝা হয়ে ওঠে না। তার আগেই আচমকা সময়টা চলে যায় একেবারে বাউন্ডারি পেরিয়ে জীবন মাঠের একদম শেষ প্রান্তে। যেখানে আর ফিরে যাওয়া যায় না।

আর ঠিক এই কারণেই আমি বা আপনি ব্যক্তি হিসেবেও একেক জনের কাছে একেক রকম। কারো কাছে আমি/আপনি মূল্যহীন আবার কারো কাছে আমি/আপনি মূল্য দিয়ে পরিশোধ করা যায় না এমন একজন প্রিয়জন।

তবে অন্য কাউকে অপশন হিসেবে রাখা মানুষগুলো নিজের কথা ভাবে না। এবং এই ব্যাপারটা বেশ মজার এবং হাস্যকর। কাউকে প্রিন্সেস(রাজকুমারী) বলে ডাকলে তার মনে করা উচিত যে, সেই ছেলেটা তোমায় সম্মান করে এবং স্পষ্টত তুমি প্রিন্সেস নও। আবার কোন মেয়ে 'হিরো' কমপ্লিমেন্ট দিয়েছে বলেই টম ক্রুজ হিসেবে নিজেকে ভাবার কোন অবকাশ নেই।

কিন্তু আবেগ এবং অপশন এর মধ্যের যুদ্ধটা দেখবার মত। যেমন ধরুন, শুধুমাত্র চাইলেই একজনকে পেয়ে যাবেন হাতের মুঠোয়, সেখান থেকে বের হবার কোন চ্যান্স-ই নেই। কিন্তু আবেগ আপনার সেই দামী ব্যক্তিকে ফেলে রেখে অন্য একজনকে দেখিয়ে দেবে।

এরপর মূলত আপনি সেখানে পড়ে থাকবেন। কখনো কখনো সেটা পুরো জীবনের জন্য। এবং এটা আরো কষ্টের হয় যখন সেই মানুষটি আপনার আবেগটা বুঝে না। ফিরিয়ে দেয় আপনাকে। স্রেফ 'না' বলে দেয়। এরপর আপনার মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে “ইসমে তেরা ঘাটা, মুঝে কুচ নেহী যাতা...” গানটা কয়েকদিন চললেও ফের আপনি রাতের বেলা চোখে জল খুঁজে পান এবং নিজেকে বিশ্বাস করতে বলেন যে, “চোখে কি যেন একটা পড়েছিলো! তাই না?”

এটাকে বলা হয়, 'সেলফ্ ডিসেপশন'; যা অত্যন্ত কঠিন কাজ বলেই আমার কাছে মনে হয়। অবশ্য এদের জন্য চোখে জল আসাটা আমার মতে যুক্তিযুক্ত কিন্তু যারা আপনাকে অপশন হিসেবে রাখছে তাদের বলে দেওয়া ভালো,

“If you treat me like an option, I will leave you like a choice...”

ব্যাস! অতঃপর ইট-পাটকেল থিওরি অনুযায়ী ফেসবুকের (শুধু ম্যাসেঞ্জারের নয়) ব্লকিং নামক অপশনটিতে তার নামটা যোগ করে দিন।

আগামীর দিন হোক আবেগঘন।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০২৩ সকাল ৮:১৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শৈশব থেকে খেলতে খেলতে শিশুকে ইংরেজি শিক্ষা দিন। ২ বছর বয়স থেকে কীভাবে আপনার শিশুকে খেলাধুলা, আনন্দ এবং দৈনন্দিন জীবনের মাধ্যমে ইংরেজি শেখাবেন?

লিখেছেন rezaul827, ২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

অনেক অভিভাবকের ধারণা, ইংরেজিতে সাবলীল হতে হলে ছোটবেলা থেকেই কোচিং, টিউটর বা ব্যয়বহুল স্কুল প্রয়োজন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। আমি আমার সন্তানকে খেলার ছলে, স্বাভাবিক পরিবেশে এবং পরিবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আল্লাহ মহান=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:২২



একবার চিন্তায় ডুবাও মন?
ভেবে দেখো আরো একবার
আল্লাহ কত মহান, কত যে তাঁর দয়া;
ভুমিকম্প হলো প্রকট
তবুও বেঁচে আছি এ যাত্রায়
শোকর গুজার করেছো কী তাঁর?

ভাবনায় একবার আনো,
আল্লাহর দেয়া গজব-কত ভয়ঙ্কর
তবুও কী ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাঠে নামছে জামায়াত-এনসিপি।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৭


বাংলাদেশে এই প্রথম একটা অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। সরকার টেকানোর জন্য মাঠে নামছে বিরোধী দল! জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওহ সরি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×