somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

রঙের খেলা: ম্যানিপুলেটরদের চোখে ধুলো দিতে শিখুন!

৩০ শে মার্চ, ২০২৪ রাত ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সতর্কতা: এই প্রবন্ধে বর্ণিত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ ধারণা প্রদান করে। পোশাকের রঙ দেখে কারো ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করা সম্ভব নয়। মানুষের ব্যক্তিত্ব জটিল এবং বহুমুখী, যা পোশাকের রঙের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

আপনি কখনো কি ভেবেছেন আপনার পরনের পোশাক আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করতে পারে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি ঐ ‘রঙ’ -ই বেছে নেন যেটা আপনার খুব পছন্দের। এতে করে আপনার ‘ব্যক্তিত্ব’ সম্পর্কে বাইরের মানুষ জেনে যেতে পারে বা আন্দাজ করতে পারে।

আপনার ‘ব্যক্তিত্ব’ সম্পর্কে সহসাই কেউ জেনে গেলে কেমন হবে? তিনি যদি কোনো ম্যানিপুলেটর হোন তাহলে? এই প্রবন্ধে কোন রঙ কি ধরণের ‘ব্যক্তিত্ব’ প্রকাশ করে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দিচ্ছি।

আশা করি এতে করে আপনি আপনার ‘ব্যক্তিত্ব’ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারবেন এবং পাশাপাশি আপনি যে কোনো ম্যানিপুলেটরের মনেডাইভার্স তৈরি করে দ্বিধায় ফেলেও দিতে পারবেন।

প্রথমে জেনে নিন এক রঙ কি কি ধরণের ‘ব্যক্তিত্ব’ প্রকাশ করে:

১. লাল রঙ প্রকাশ করে সাহসী, আবেগী, উদ্যমী এবং আত্মবিশ্বাসী।
২. নীল রঙ প্রকাশ করে বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য, শান্ত এবং শান্তিপূর্ণ।
৩. সবুজ রঙ প্রকাশ করে ভারসাম্যপূর্ণ, সুরেলা, উৎসাহী এবং কর্মে সফলতার জন্য পুনরায় কাজ শুরু করতে পারেন।
৪. হলুদ রঙ প্রকাশ করে আশাবাদী, প্রফুল্ল, সৃজনশীল এবং বুদ্ধিজীবী।
৫. কালো রঙ প্রকাশ করে ক্ষমতা, পরিশীলিত, রহস্য এবং ফর্মালিটি।
৬. সাদা রঙ প্রকাশ করে পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, সরলতা, নতুন সূচনা কে।
৭. যে কোনো ধূসর রঙ বা বিশেষ কোনো পছন্দের রঙ না থাকলে প্রকাশ করে প্রাকটিকাল, বহুমুখীতা এবং প্রশান্তি।
৮. বাদামী রঙ প্রকাশ করে প্রায়শই নির্ভরযোগ্যতা, স্থিতিশীলতা এবং আরামপ্রিয়। এছাড়াও এরা কিছুটা ডাউন-টু-আর্থ।
৯. কমলা রঙ প্রকাশ করে শক্তি, উৎসাহ, বন্ধুত্ব এবং আশাবাদী। এছাড়াও এরা সামাজিক ও সহজলভ্য।
১০. গোলাপী রঙ প্রকাশ করে (শুধুমাত্র নারীত্বের জন্য নয়) দয়া, করুণা এবং ভদ্রতা। এছাড়াও এরা সংবেদনশীল এবং যত্নবান হয়ে থাকে।
১১. স্বর্ণালি রঙ বিলাসিতা, সাফল্য এবং উষ্ণতার সাথে যুক্ত। যারা প্রচুর স্বর্ণালি রঙের পোষাক পরেন তারা আত্মবিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং উঁচু শ্রেণীর কেউ হবার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন।
১২. রুপালী রঙ হচ্ছে আধুনিকতা, পরিশীলিত এবং শান্তির প্রতীক। এছাড়াও এদের উদ্ভাবনী এবং অভিযোজন করার শক্তি থাকতে পারে।

এখন জানা যাক মিশ্র কিছু রঙের আলোকে ব্যক্তিত্ব কেমন হতে পারে?

১. লাল এবং কমলা: এই জ্বলন্ত মিশ্রণ জীবনের জন্য উত্তেজনা, আত্মবিশ্বাস এবং উদ্দীপনা প্রকাশ করে। এরা সাহসী হয় এবং সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু।
২. টিল এবং হলুদ: একটি প্রাণবন্ত সংমিশ্রণ যা সৃজনশীলতা, খেলাধুলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহলের প্রতীক।
৩. নেভি এবং বারগান্ডি: এই ক্লাসিক জুটি কর্তৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং ভালো টেস্ট প্রকাশ করে। এরা ঐতিহ্যকে মূল্য দেয় এবং শান্তিপ্রিয়।
৪. ধূসর এবং ল্যাভেন্ডার: একটি শীতল এবং শান্ত সংমিশ্রণ যা জ্ঞান, পরিশীলিত এবং শান্তির প্রতীক। এদের কূটনৈতিক দক্ষতা থাকে, চিন্তাশীল হয় এবং অন্যদের কমফোর্টেবল বোধ করায়।
৫. বেগুনি এবং সবুজ: এই শৈল্পিক মিশ্রণ কল্পনা, ব্যক্তিত্ব এবং প্রকৃতির সাথে সংযোগ প্রকাশ করে। এরা কিছুটা নিজের ঢোল নিজেই পেটায়।
৬. গোলাপী এবং পুদিনা সবুজ: একটি কৌতুকপূর্ণ এবং বাতিক সংমিশ্রণ যা তারুণ্য, আশাবাদ এবং সৃজনশীলতার অনুভূতি জাগায়। এরা হালকা মনের এবং চোখে রঙীন চশমা নিয়ে পৃথিবীকে দেখে থাকেন।
৭. কালো এবং সাদা: এই ক্লাসিক সমন্বয় কমনীয়তা, ভারসাম্য এবং আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করতে পারে। এরা একই সাথে সরল এবং রহস্যময়ও হতে পারে।
৮. সবুজ এবং বাদামী: মাটির টোন যা প্রকৃতি, বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার অনুভূতি জাগায়। এরা হয় নির্ভরযোগ্য, কিছুটা ডাউন-টু-আর্থ। এছাড়াও এদের মধ্যে কৃতজ্ঞতা বোধ থাকে।
৯. বেগুনি এবং কালো: একটি বিলাসবহুল এবং পরিশীলিত জুটি যা সৃজনশীলতা, রহস্য এবং প্রজ্ঞা প্রকাশ করে। এছাড়াও এরা স্বাধীন এবং বিচক্ষণ প্রকৃতির হয়ে থাকে।
১০. হলুদ এবং ধূসর: আশাবাদ এবং নিরপেক্ষতার সংমিশ্রণ। এদের মধ্যে কৌতুহল থাকে, কথায় এবং কাজে ভারসাম্য থাকে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলেন।

সমস্ত রঙের তালিকা এবং সমস্ত রঙের সংমিশ্রণের তালিকা অনুযায়ী ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করা খুব কঠিন। আবার একই সাথে মনোবিজ্ঞানের এই স্টাডি শতভাগ সত্য সবসময় নাও হতে পারে। তবে অনেকখানি ধারণা দেয় আমাদের ‘ব্যক্তিত্ব’ এর ধরণ নিয়ে। জরুরী নয়, কেউ কোনো রঙ খুব পছন্দ করেন বলেই তার মধ্যে এই সকল বৈশিষ্ট্য থাকবেই। কিন্তু যেহেতু একাধিক স্টাডি থেকে এসব পাওয়া গেছে তাই আমরা পুরোপুরি ফেলেও দিতে পারি না; উচিতও নয়।

আপনার ড্রেসিং সেন্স যদি এই অনুপাতে সাজিয়ে নেন তাহলে আপনার মনের মধ্যে আত্ববিশ্বাস গড়ে উঠবে। শুধু তাই নয় একাধিক জায়গায় একাধিক রঙ বিন্যাস আপনাকে সফলতা এনে দেবে। যেমন, জব ইন্টারভিউ, ফার্স্ট ডেট, উৎসব, শিক্ষক বা ছাত্রের ভূমিকা, ভালো বক্তা ইত্যাদি। কথায় আছে, “প্রথমে দর্শনদারী পরে গুণবিচারী।”

যেহেতু আমাদের সমাজ আস্তেধীরে ভয়ানক বস্তুবাদী হয়ে পড়েছে তাই আমার মতে মানুষের পোশাক দেখে আপনি গভীর পর্যায়ের অনেক তথ্য পাবেন। যদিও এই সূত্র বাঙালীদের উপর যুগ যুগ ধরে খাটে নাই কিন্তু এখন এর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। সুতরাং কাউকে জানতে হলে তার পছন্দের রঙ দেখে তার ব্যক্তিত্ব বুঝে ম্যানিপুলেট করা এখন শিওর শট!

একই সাথে যারা সাহিত্য এবং দর্শনে ভালো জায়গা করে নিয়েছেন তাদের রঙ বা পোশাকে যাবেন না। এমনকি যিনি সাহিত্য/দর্শন নিয়ে কিছু পড়াশোনা করেছেন তিনিও এসব বস্তুবাদী বিষয়ে আগ্রহী নাও হতে পারেন। আর এক একাংশ বাঙালী এখনো বস্তুবাদী নয়। এরা সাদামাঠাভাবে চলাফেরা করে, এদের পোশাক দেখে নির্ধারণ করা মানে গর্তে পড়ে যাওয়া।

ছবি: Bing Enterprise (Copilot)
Also Read It On: রঙের খেলা: ম্যানিপুলেটরদের চোখে ধুলো দিতে শিখুন!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০২৪ রাত ৩:২২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

যতবার শেষ, ততবার শুরু

লিখেছেন রাজসোহান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১



তেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের মা মারা যান। জীবনস্মৃতিতে তিনি সেই রাতের কথা লিখেছেন। "যে রাত্রীতে তাঁহার মৃত্যু হয় আমরা তখন ঘুমাইতে ছিলাম। তখন কত রাত্রি জানি না, একজন পুরাতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই যোদ্ধা!

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৭


এই লোকটির নাম আল আমিন। সে বিশেষ একটি দলের হয়ে জুলাই মঞ্চে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয় মাঝেমধ্যে। এর সম্পর্কে গুরুতর একটি অভিযোগ উঠেছে, সে নাকি ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি যা জানো, আমি তা জানি না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



তোসার সাথে কথা চালাচালি হয় না মেলাদিন;
বসন্তদিনে অস্ত গেলেই বেশ জমিয়ে,
আড্ডা হতো চিলেকোঠার বারান্দায়।
তোমার মতো স্মৃতিশক্তি প্রখর না হলেও
ভালোই হতো স্মৃতিচারণ।
কতো যে স্মৃতিসমষ্টি- দগদগে-... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী প্রতিষ্ঠান বিটিভির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছে বেসরকারী ব্যক্তি কাজি জেসিন!

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৫২




আশির দশককে বলা হয় বিটিভির নাটকের স্বর্ণযুগ । সেই সময়ে বিটিভিতে মহাপরিচালক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান,এম এ সাঈদ , জামিল চৌধুরি প্রমুখ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×