somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৌশল ও কঠোরতার যথোপযুক্ত ব্যবহারের একটি উদাহরণ

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৌশল রাজনীতির জন্য যা কঠোরতা দেশ শাসনের জন্য ঠিক তাই। কিন্তু আমরা সঠিক জায়গায় কঠোরতার ব্যবহার খুব কমই দেখার সুযোগ পেয়েছি। সেদিকে আর না যাই। যা দেখতে পাচ্ছি তা হল বর্তমান সরকারের উগ্রপন্থী দমনে একের পর এক কার্যকরী পদক্ষেপ।

জন কেরির আগমন বাংলাদেশে অবশ্যই এই জন্য নয় যেন তিনি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন বা দেশের সাফল্যের গুণ গাইতে পারেন। কিংবা এই জন্য নয় যে তিনি আমাদের সাথে কাজ করার কথা বলে যাবেন। মূল ইস্যু ছিল (অবশ্যই) জঙ্গি দমনের কৌশল নিয়ে আলোচনা আর সে সঙ্ক্রান্ত তথ্য বিনিময়। ব্যাপারগুলো সেই উচ্চতাতেই ছিল যে কারনে জন কেরিকে আসতে হয়েছে।

একটা বিষয় লক্ষ্য করতেই হয় যা হল আমেরিকান সচিব বাংলাদেশের কঠোরতার সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। আর ব্যাপারটা তাই হওয়া উচিৎ। বাংলাদেশ পুলিশ যে ধরনের ক্ষমতা রাখে তাতে যে কোন অস্থিতিশিলতা সামাল দেয়া যাবে। তাঁদের ক্ষমতা গুলশান হামলা প্রতিরোধ করার মতই। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। সরকার বারবার বলে যাচ্ছিল যে দেশে জঙ্গি নেই ... পরিস্থিতি স্বাভাবিক ... কিন্তু হামলার পরবর্তীতে কি হল? পুলিশের একের পর এক আগ্রাসী অভিযান এবং সবগুলোতেই বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া হয়নি। তারা ব্যাপারটি নিয়ে কোনরূপ ঝুঁকি নিচ্ছে না আর এখন পর্যন্ত তাঁদের কাজ তারা চালিয়ে যাচ্ছে। তো এইসব ঘটনা পরিক্রমা থেকে যা যা উঠে আসছে তা হলঃ

১. সরকার প্রথমদিকে জঙ্গি সমস্যার কথা প্রত্যাখ্যান করে নিজের ভাবমূর্তি পরিষ্কার রাখতে চেয়েছিল।
২. যে মুহূর্তে সমস্যাটি সবার সামনে চলে আসে তখন সরকার তার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আত্মরক্ষামূলক আবস্থান থেকে পর্যায়ক্রমে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে এগিয়ে গেছে।
৩. আর উপরোক্ত কঠিন কাজের জন্য সরকার "পাবলিক সাপোর্ট" তৈরি করে তা এখন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।
৪. এই সমর্থন সরকারকে আরও কঠোর হতে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে যা এখন পর্যন্ত সফল বলে মনে করা যায়।

হ্যাঁ। সরকার বিগত মাস ধরে সকল ক্ষেত্রে এই বিষয়টিতে জনগণের মনোযোগ টেনে নিচ্ছে। সকল প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়েছে, সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ের কোন অনুষ্ঠানে এই বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে। এমনকি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকেও প্রচারণার জন্য লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। হয়তবা সরকার পুরো ব্যাপারটা এতটা সজ্ঞ্যানতার সাথে পরিচালনা করেনি কিন্তু তাঁদের উদ্বেগ আর দৃঢ়তা (যা আসলেই দুর্লভ) আজ প্রশংসার দাবী রাখে। এরকমভাবে জনগনের সম্পৃক্ততার জন্য কষ্ট করতে সরকারকে দেখা যায় না আর সফল হওয়ার কথা না হয় বাদই দিলাম।

এখানে সরকার এর গুণ গাইতে আসিনি। কিন্তু সরকাররের এই অসাধারণ শক্তিকি আমাদেরকে এটা ভাবিয়ে তোলে না যে, সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি সবসময় ছিল ও থাকবে - দেশের মানুষ। আর, আরো দূর চিন্তা করলে, জনগন যা চাবে সেটাই সরকার করতে সাহস পাবে, ওটাই কি হওয়ার কথা নয়?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×