somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুক্তমনা ব্লগার
আমি বিশ্বাসী, কিন্তু মনের দরজা খুলে রাখাতে বিশ্বাস করি। জীবনে সবথেকে বড় অনুচিত কাজ হল মনের দরজা বন্ধ রাখা। আমি যা জানি সেটাই সত্য, বাকি সব মিথ্যা…এটাই অজ্ঞানতার জন্ম দেয়।

শিশুর বয়স ভিত্তিক যৌন শিক্ষাঃ কি, কেন, কখন, কিভাবে

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিশুর যৌন-শিক্ষা বা সেক্স এডুকেশন নিয়ে আমরা খুবই অনুৎসাহী। শিশুকে সঠিক বয়সে সঠিক যৌন শিক্ষা না দিলে যে তারা নানবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয় এমনকি যৌন নিগ্রহের স্বীকার হয় তা অভিবাবকদের বোঝা উচিত এবং এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। মনে রাখা দরকার আপনি এখন আপনার শিশুকে যা জানাতে সংকোচ বোধ করছেন একদিন তা সে অন্যের কাছ থেকে জানবে, তার মধ্যে থাকবে ভুল, ভ্রান্তি, অভিনয়, কুসংস্কার এবং মিথ্যাও, অনেক সময় জানতে জানতে অনেক বেশী দেরী হয়ে যাবে, তাই আপনার উচিত নিজ দায়িত্বে সঠিক কাজটি, সঠিক উপায়ে, সঠিক সময়ে নিঃসঙ্কোচে করা। শিশুকে কখন, কিভাবে, কি যৌন শিক্ষা দেবেন তার একটা রুপরেখা বিভিন্ন গবেষণার আলোকে নীচে তুলে ধরলামঃ
যৌনশক্ষা কিঃ যৌনশিক্ষা হলো যৌন অঙ্গ, যৌন প্রজনন, যৌনাচার, প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক সম্পর্ক, প্রজনন অধিকার এবং দায়িত্বসমূহ, বিরতি এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি মানব যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়ের নির্দেশনা। যৌন শিক্ষার জন্য প্রচলিত পন্থার মধ্যে রয়েছে, পিতা-মাতা বা অভিভাবক, বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকতা, এবং জনস্বাস্থ্য প্রচারণা।(সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)

কোন বয়সে কি জানাবেনঃ
১-২ বছরঃ শরীরের সব অঙ্গের সঠিক নাম শেখান। যৌনাঙ্গের জন্য ছদ্মনাম একদম ই ব্যাবহার করবেন না। প্রয়োজনে মেডিকেল টার্ম ব্যাবহার করুন।
২-৫ বছরঃ এই বয়সে শিশুরা বাচ্চা কিভাবে হয় এই বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠে, প্রশ্ন করে।আপনি এসময়য় সন্তান জন্মের সহজ ব্যাখ্যা দিন। বলুন বাবা আর মায়ের ভালোবাসায় সন্তান হয়। মায়ের ভেতরে পেটের ভেতর সন্তান থাকে পরে তারা ভ্যাজাইনা দিয়ে বেরিয়ে আসে।
এছাড়াও দেখবেন এসময়য় তারা উলঙ্গ থাকার সময় অথবা ডায়পার পরিবর্তনের সময়, গোসল করানোর সময় তাদের নিজেদের যৌনাঙ্গে হাত হিচ্ছে, অন্য শিশুর যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করছে। তাদের ধমক দেবেন না এতে নিজের শরীরের প্রতি বিরূপ ধারনা জন্মায়। একান্তে আলোচনা করুন, শরীর তাদের ব্যাক্তিগত সম্পদ এটা বোঝান, শরীরের কিছু কিছু স্থান একান্তই ব্যাক্তিগত, এসব অন্যদের সামনে দেখাতে হয় না এটা বোঝান, নিজের ব্যাক্তিগত স্থানে হাত দেয়া অন্যায় বা লজ্জাজনক নয় তবে অন্যের সামনে করা অশোভন এটা বোঝান। অন্য কেউ এমন কি পরিবারের কারও কোন অধিকার নেই তার ব্যাক্তিগত স্থানে হাত দেয়ার এটা জোর দিয়ে বলুন এবং কেউ এমন করতে চাইলে তা যেন অবশ্যই আপনাকে জানায় এটা বলবেন। ভাল এবং খারাপ স্পর্শের, আদরের পার্থক্য বোঝান।
৫-৮ বছরঃ এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষের সমাজে সমান অধিকার সেটা বোঝান।এসময়য় পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কদের ভেতরে খোলামেলা আচরণ পরিহার করুন যেমন শিশুর সামনে পোশাক পরিবর্তন, প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনের মাধ্যম ইত্যাদি। শিশুরা এসময়য় উদ্ভট প্রশ্ন করে আপনাকে অপ্রস্তুত করে ফেলতে পারে কিন্তু তাদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন, প্রয়োজনে একান্ত বৈঠকে।
শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে ধারনা দিন। হরমোনের ধারনা দিন। নারীপুরুষের শরীর ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বেড়ে উঠে এই ধারনা দিন। নারী-নারী, পুরুষ-পুরুষ এবং নারী-পুরুষ এইসব বিন্যাসেও সম্পর্ক গড়ে উঠে এই ধারনা দিন। বয়ঃসন্ধির লক্ষন গুলো বলুন এবং শারীরিক পরিবর্তন কে কিভাবে মোকাবেলা করতে হয়, কিভাবে প্রস্তুত হতে হয় সেই ধারনা দিন।
যৌন-মিলন কি, মাস্টারবেশন কি এসব প্রশ্ন করলে সঠিক জবাব দিন তবে সহজ ভাষায়, যেমন পুরুষের পেনিস নারীর ভ্যাজাইনায় দিয়ে যৌনমিলন হয়, প্রয়োজনে শিশু বান্ধব গ্রাফিক ব্যাবহার করুন। যৌন মিলনের ফলে কি হয় এবং নির্দিষ্ট বয়সের আগে কেন তা করা উচিত না বলুন। ভালবাসার ধারনা দিন। এই বয়সের জন্য এই সব শিক্ষাকে যদি আপনার বাড়াবাড়ি মনে হয় তাহলে নীচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুনঃ
১। এসময় বয়ঃসন্ধির সময় ঘনিয়ে আসে।
২। আমাদের মত দেশে প্রচুর পরিমাণে মেয়ে বাল্যবিবাহের স্বীকার হয়
৩। শিশু নিগ্রহকারীরা এই বয়সের ছেলেয়েদের বেছে নেয়। বাচ্চারা আগে থেকে ব্যাপারটা না বুঝলে কেউ নিগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করছে সেই ব্যাপারটা বুঝতেই পারবে না, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে পারবে না
৪। এই বয়সের বাচ্চারা যৌন প্রক্রিয়া বা মাস্টারবেশন সম্পর্কে অনাকাঙ্খিত প্রশ্ন করলে উত্তর দেবেন, অন্যথা স্বাভাবিক শিক্ষাপ্রকিয়াই যথেষ্ট, তবে ৯-১৩ এই বয়সীমায় অবশ্যই যৌনতা সম্পর্কে ভালভাবে জানাতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সচেতনতা তৈরি না করে এবং যৌনতার প্রতি চরম কৌতুহল নিবারণ না করে এই হার কামানো যাবে না।তবে যেকোন শিক্ষা দেবার সময় ই শিশুর বিকাশ এবং পরিবেশ মাথায় রাখতে হবে।

৯-১৩ বছরঃ বয়ঃসন্ধির বিস্তারিত ধারনা দিন এবং শারীরিক-মানসিক পরিবর্তন ও জৈবিক চাহিদা সম্পর্কে অবগত ও প্রস্তুত করুন। শিশু কিভাবে জন্মায় তার বিস্তারিত ধারনা দিন, সন্তান জন্ম দেয়া এবং প্রতিপালন কতটা কস্টসাধ্য সেটা বোঝান। নিরাপদ যৌন আচরণ এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের ধারনা দিন। যৌনবাহিত রোগ সম্পর্কে ধারনা দিন। সম্পর্কের মধ্যে পারস্পারিক সম্মানের গুরুত্ব বোঝান, লিঙ্গ বৈষম্য খুব ই অন্যায় কাজ সেটা বোঝান। মিডিয়া প্রেসেন্টেশনে যৌনতার সাথে বাস্তব যৌনতার পার্থক্য বোঝান।
১৩-১৮ বছরঃ আপনার শিশু ইতমধ্যেই সচেতন তবে সমস্যার বাইরে নয়, তার সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনুন, উত্তেজিত হবেন না, ঠাণ্ডা মাথায় যুক্তি দিয়ে বোঝান। কোন ভুল তারা করে থাকলে সহযোগিতা করুন। বাস্তব আর ফ্যান্টাসির পার্থক্য বোঝান। যৌন সম্পর্ক গোপনীয় নয় তবে একান্তই ব্যাক্তিগত ব্যাপার ব্যাপার এটা বোঝান, এর প্রচার বা রেকর্ডিং সম্পূর্ণ নিরুৎসাহিত করুন, কুফল বোঝান। নিরাপদ যৌনতা এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বিস্তারিত শিক্ষা দিন।
১৮+ বছরঃ আপনার সন্তান আর শিশু নাই, তারা পরিণত এবং আপনার দেয়া সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত, তারা প্রযুক্তিতে আপনার চেয়েও উন্নত।আপনার কোন সমস্যা হলে আপনের সন্তানের সাথে আলোচনা করতে পারেন, তারা আপনার সমস্যার সমাধানের পথ দেখাতে পারবে।
এড়িয়ে যাবেন না, সংকোচ করবেন না। আপনার শিশুকে সুন্দর জীবনের জন্য প্রস্তুত করা আপনার দায়িত্ব। হঠাত ঋতুচক্র শুরু হওয়ায় ঘাবড়ে গিয়ে স্কুলের টয়লেটে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে আপনার মেয়ে আহত হোক, অযথা লজ্জা পাক, কিংবা আপনার শিশু কারও হাতে নিগ্রহের স্বীকার হোক, বা আপনার সন্তান লিঙ্গ বৈষম্য করুক কিংবা যৌননিপীড়িত হয়ে আত্মহত্যা করুক তা নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না। যৌনতা কোন অপরাধ নয়, লজ্জাজনক বিষয় নয়।

(মূলভাবনাঃ Today’s Parent ম্যাগাজিনে প্রকাশিত Age-by-age guide to talking to kids about sex প্রবন্ধ, লেখকঃ Cheryl Embrett)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×