প্রতি বৃহস্পতি-শনিবার আমার বিশেষ পড়া দিবস! এই কয়টা দিন আমি সাধারণত একটা কোনও বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করি, সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করি। এই সপ্তাহে আমার বিষয় ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনীতি। বেশ কিছু তথ্য জেনে আমি বেশ অবাক হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি, কষ্টও পেয়েছি। খুব জানা, তবুও আবারও পড়তে গিয়ে কেমন যেন কষ্ট লাগে এমন একটি বিষয় হলো- বঙ্গবন্ধুর ডাকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ যখন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন, খোদ বঙ্গবন্ধুর সামনে যখন ফাঁসির দড়ি ঝুলছে, চার নেতাসহ শীর্ষ যোদ্ধারা যখন দেশের ভিতরে-বাইরে নানা শত্রু আর সংকট মোকাবেলায় অস্থির, তখন কলকাতায় বসে কয়েকজন নেতা ঝগড়া করছেন প্রবাসী সরকারের পদ-পদবী নিয়ে! কেউ কেউ যুদ্ধ চলাকালে কলকাতায় বিয়ে করে ভিআইপি পার্টিও দিয়েছেন! অথচ তাঁর সহপাঠীদের অনেকেই তখন যুদ্ধক্ষেত্রে অকাতরে সর্বস্ব বিলিয়ে যাচ্ছেন দেশ স্বাধীন করার স্বপ্নে। অন্যদিকে দেশ স্বাধীন হলে কে কোন মন্ত্রণালয় নিবেন, সমাজতন্ত্র, নাকি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র হবে, এমনকি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব নিয়েও তারা অবিরাম বিতর্ক করেছেন কেউ কেউ, যুদ্ধের ময়দান থেকে অনেক দূরে, আরাম-আয়েশে থেকে! সেগুলোই তুলে ধরছিলাম ফেসবুকে আর ব্লগে। এতে আমি আমার কোনও মূল্যায়ন তুলে ধরিনি, সেই সাহস আর যোগ্যতা আমার নেই। আমি কিন্তু যেমন তেমন কারো লেখা থেকেও উদ্বৃতি দিইনি। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা থেকে তুলে ধরছিলাম। আমি জানি ফেসবুকে আমার পোস্ট অল্প কয়েকজনই হয়ত পড়ে, ব্লগেও তাই। কিন্তু কয়েকটা প্রতিক্রিয়া এবং ফোনে কয়েকজনের উদ্বেগ আমাকে প্রচ- নাড়া দিয়েছে। খুব বুঝতে পেরেছি দেশে এখন দুই ধরনের মৌলবাদ গোষ্ঠীর প্রচ- সক্রিয়তা- ধর্মীয় মৌলবাদ, আর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে মৌলবাদ! প্রকৃত ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা, প্রকৃত দেশপ্রেম থেকে অনেক দূরে এদের বসবাস। বঙ্গবন্ধু বা জননেত্রীর স্বপ্ন এরা ধারণ করো না, এই স্বপ্ন এদের কাছে সুবিধা লাভের হাতিয়ার।
এদের কাছে যুক্তি, তথ্য, সত্য বড় অসহায়, এগুলো যে এদের ব্যবসায়ের জন্য বড় হুমকি!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


