'আবার আসিবো ফিরে' জীবনানন্দ দাসের কবিতার এই অভিব্যক্তি যদি পুনর্জন্মবাদের উচ্চারণ অভিলাষ ঘটে থাকে; জাতীয় শিক্ষা পাঠ্যক্রমে তাহলে জীবনানন্দ দাসের স্থানে কোন মাওলানার স্থান হবে বুঝে আসছে না !
পৃথিবীতে কায়েমী স্বার্থবাদী মহলের কায়েমী স্বার্থ হাসিলের তাগিতে কায়েমী তথা সাম্প্রদায়িক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও শুনেছি 'শিক্ষা' নাকি অসাম্প্রদায়িক শব্দ !
শিক্ষার বহু রকম প্রকার রয়েছে ! কেউ জীবন জানার জন্য কেউ জীবন বাস্তবতার জন্য শিক্ষা অর্জন করে থাকি ক্ষুদ্র জীবনের প্রতিটা ক্ষণ থেকে ! যেহুতু জীবন একটা পরিণতি এবং প্রতিটা মুহূর্তেই সেই পরিণীতির হাত ধরে হেটে চলেছি !
জীবনানন্দ দাস ব্যক্তি জীবনে কতটা ধার্মিক ছিলেন জানিনা তবে কবি-সাহিত্যিকেরা যে অসাম্প্রদায়িক বা ব্যক্তি জীবনে দেশ-কাল, জাতি-ধর্মের উর্দ্ধে থাকেন এটা নিশ্চিত ! এ জন্যই পাঠকের অন্তরে কালজয়ী লেখক কবি সাহিত্যিকদের নিদৃষ্ট কোনো দেশ, জাতি থাকেনা !
যা হোক বলতে চাচ্ছিলাম পুনর্জন্মবাদ নিয়ে ! হিন্দু সনাতন ধর্মে পুনর্জন্মে বিশ্বাসী আর মুসলিমদের একটা অংশ 'কাঠমোল্লা সম্প্রদায় পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাসী না ! হিন্দু মুসলিম জাতিগত বৈরিতার মূল কারণগুলোর এটাও একটা কারণ !
অনেকেই 'কাঠমোল্লাদের মতবাদ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেন না অর্থাৎ দ্বিধান্বিত ! সঠিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার যথেষ্ট কারণও আছে ! এ জন্যই কাঠমোল্লাদের নিয়ে মাওলানা রুমী বলে গেছেন- "ধর্মের মজ্জাটুকু খেয়ে খোঁসা ফেলে দিলাম যা নিয়ে কাঠমোল্লারা কাড়াকাড়ি করতেছে" !
হেফাজতে ইসলাম সংগঠনের 'তেরো দফা' নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে জাতীয় পাঠ্যনীতি নিয়ে একটা দফা দেখছিলাম ! এ নিয়ে বর্তমান সরকারের সাথে গত কয়েক বছর অনেক আলোচনা, চুক্তি, যুদ্ধ সবই হয়েছে ! অবশেষে এই বছরে এসে তার ফলাফল যা দেখতে পেলাম, এখন বাকিটুকু দেখার অপেক্ষায় রইলাম ! মনে হলো আওয়ামীলীগ সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেফাজতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত আট বছরে দেশকে যে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন, শুধু একটা শিক্ষা খাতের জন্য ঠিক ততটাই নিচে নেমে গেলেন ! এক সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী হেফাজতের কৌশলের কাছে এটা কি শেখ হাসিনার পরাজয় নাকি ফতোয়াবাজদের শক্তির পূর্ণ বার্তা নিয়ে এলো বাংলাদেশ এটাই এখন দেখার বিষয় !
মূল কথা 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় পুনর্জন্মের কথা বলা হয়েছে এমন চিন্তার ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষা পাঠ্যক্রম থেকে জীবনানন্দ দাসকে বাদ দেওয়ার যে নতুন চক্রান্ত চলতেছে; চক্রান্তকারীরা হয়তো এখানেও জয়ী হবেন ! কিন্তু মুসলমানদের মহা পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআন এর বাণী কি মুছে ফেলতে পারবে এই কায়েমী স্বার্থবাদী মহল ?? পবিত্র কোরআনেই তো আল্লাহ্পাক পুনর্জন্মবাদকে ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন আঙ্গিকে ! সেখানে জীবনানন্দন দাস শঙ্খচিল বলাকা হতে চেয়ে কি অন্যায়টা করেছিলেন এটাই তো বুঝে আসছে না ! আমি তো প্রার্থনা করবো আল্লাহ যেন কবির এই চিরন্তন ইচ্ছা-বাসনার আকুতিটুকু শোনেন !
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



