somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রামপাল নিয়ে লক্ষহীন বাম রাজনীতি কাদের স্বার্থে ?

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তেল-গ্যাস- কয়লা রক্ষা জাতীয় কমিটির দাবি-বক্তব্যের সঙ্গে আমার কিছু কথা ! রামপাল ইস্যুকে আমি মাতারবাড়ি-গণ্ডামারা-পায়রায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা থেকে আলাদা করে দেখার কারণ এখনো খুঁজে পাইনি। যারা স্লোগানের সুরে শুধু বলেন রামপাল ছাড়া অন্য কোথাও কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আপত্তি নেই তাদের খুব কম লোকই জানেন আগামী ২০ বছরের মহাপরিকল্পনায় রামপাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুই ডজন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার কথা, যার প্রতিটি নিয়েই আপত্তি আছে কয়লা রক্ষা জাতীয় কমিটির। তারাই ২০০৯ সালে দেশের অর্থনীতি উচ্ছন্নে যাবে শোর তুলে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন অথচ সেই বিদ্যুৎ এখন তাদের শহরের বাড়ি আলোকিত করছে। কয়লা রক্ষা জাতীয় কমিটির সমর্থকের অনেকেই জানেন না জিডিপির প্রবৃদ্ধি কেবল ৭-এর কাছাকাছি ধরে রাখতে হলেও প্রতিবছর কত মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা দরকার। এই মুহূর্তে উৎপাদিত বিদ্যুতের কত শতাংশ কৃষির সেঁচে ব্যয় হয়, কারখানার জন্য বিদ্যুৎ ঘাটতি কত অথবা আগামী ২০ বছরে দেশের মোট চাহিদা কত হবে- তাও জানা নেই। আপনারাই আবার বলেন গার্মেন্টস এ নাকি নুন্যতম পনের হাজার টাকা মজুরী করতে হইবো ! অনেকের কাছেই বিদ্যুৎ মানে শুধু ঘরের ঝিলমিল বাতি, তাই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতে তারা ব্লগ ফেসবুকে হারিকেনের ছবি ঝুলিয়ে দেন। তারা যখন বিদ্যুৎ না চাওয়ার শহুরে ফানুস ওড়ান সারাদেশের গ্রাম-গঞ্জ তখন ছেয়ে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক চার্জের ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিক্সায়। প্রতিবছর কেবল ওয়ালটন বিক্রি করছে ১৫ লাখ রেফ্রিজারেটর। সাধারণ শ্রমিকসহ বস্তিবাসী অনেকের ঘরেও এখন টেলিভিশন খুব সাধারণ দৃশ্য। তাই হারিকেন জ্বালানো শুধু ব্লগ ফেসবুকের দুদিনের উৎসব হতে পারে কিন্তু তাতে সারাদেশের ব্যাটারি-রিকশার চালক, কৃষক, শ্রমিকের কিছুই যায় আসে। 'বিদ্যুৎ চাই না' স্লোগান বড়জোর শহুরে মধ্য-উচ্চবিত্তের স্বপ্নের ভুবনেই ঘুরপাক খায়। আর রামপালে সুন্দরবন ধ্বংস, সুন্দরবন ধ্বংসে বাংলাদেশ ধ্বংস- এই 'বিশ্বাসনির্ভর' বাক্যালাপের দিন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পশ্চিমের জলবায়ুজ্ঞানের টোটকা ছাড়াই অর্ধেকের বেশি পৃথিবীর প্রাণ-প্রকৃতি বহাল তবিয়তে টিকে আছে। সুন্দরবন এবং বাংলাদেশও থাকবে। তাহলে রামপাল নিয়ে লক্ষহীন বাম রাজনীতি কাদের স্বার্থে ? হরতালে আমার সমর্থন নেই তবে এও মনে করি- যে কোনো বিষয়ে যে কোনো মানুষ বা গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের অধিকার আছে। জাতীয় কমিটির হরতালের অধিকারকেও তাই প্রবলভাবে সমর্থন করি। দাবি করি- সরকার বা অন্য যে কেউ শক্তি দেখিয়ে প্রতিবাদকারীর মুখ চেপে ধরবে না। শুধু একটি বিষয়ে আপত্তি জানাতে চাই, জাতীয় কমিটি বলেছে, এটা 'সৃজনশীলতা'র হরতাল। যদি তাই হয়, তবে কেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো তাদের ঘোষণাতেও বলা হয়েছে- পথচারী, সাইকেল-রিকশা-ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যমসহ বিদ্যুৎ-ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান হরতালের আওতামুক্ত থাকবে!!!! এর মানে কি ভিন্নমত থাকা সাধারণ গাড়িচালকদেরও হরতাল পালনে বাধ্য করা হবে, রাস্তায় গাড়ি নামালে কি বাধা দেয়া হবে, নাকি 'সৃজনশীল' উপায়ে তা ভাঙা হবে??? আপনার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অধিকারকে আমি সমর্থন করি, আপনি কেন আমাকে বাড়ি থেকে নামার পর রাস্তায় হাঁটতে অথবা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে চলতে বাধ্য করানোর সেই পুরোনো 'সৃজনশীলতা' দেখাবেন???!!!
আসলে আপনারা পারেনও বটে; তাইতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর আপার মতে, "সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প আছে :) " আপার কাছে জানতে ইচ্ছে করছে- 1. তিনি বাসায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন কিনা ? 2. বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প কি আছে ?
পাশাপাশি আনু মুহাম্মদ স্যারের কাছে নিশ্চয়ই 'আলাদ্বীনের চ্যারাগ' আছে; তা না হলে এতো বড় আন্দোলনের অর্থনৈতিক যোগান কোথা থেকে পান :)




(সংগৃহিত তথ্য পর্যালোচনার আলোকে)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:২৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×