মধ্যপ্রাচ্যে তথা আরব বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আলোচিত দেশটির নাম ফিলিস্তিনি ! স্বাধীনতাকামী মুসলিম এই দেশটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে যুদ্ধের কারণেই জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রতিটা অলিগলির মানুষগুলো এই রাষ্ট্র দুটোকে আলাদা ভাবে চেনে !
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি সৃষ্টি হওয়ার আগে থেকেই ইসরাইল ফিলিস্তিনি যুদ্ধ চলেছে; তবুও ফিলিস্তিনের স্বাধীন দেশের মর্যাদা লাভের স্বপ্ন আজও অধরাই থেকে গেলো ! ঐতিহাসিক কিছু কারণে যেমন পূর্ব জেরুজালেম (প্রাচীন বেথেলহাম) এবং পশ্চিম তীর গাজা এলাকা উভয় দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত, যে কারণে দেশ দুটির মধ্যে পৃথিবীর দীর্ঘ স্থায়ী যুদ্ধ চলে আসছে আর জাতিসংঘ থেকে অন্যান্য বিশ্ব নেতারাও আজ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি !
যা হোক যে কথা বলতে চাচ্ছিলাম- বাংলাদেশ এবং ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে একে অপরের প্রতি আকুন্ঠ সমর্থন শুরু থেকেই ! এর প্রমান হিসেবে গত ডিসেম্বরেই ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রশীদ মালিকী 'বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত জীবনী' আরবী ভাষায় অনুবাদ এবং প্রকাশ করে প্রমান করে দিয়েছেন ! এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন- "আমরা যে কোনো পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনির পাশেই থাকবো" !
আমরা জানি বাংলাদেশে ইসরাইল রাষ্ট্রটির কোনো দূতাবাস নেই; নেই কোনো 1972 সাল থেকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে ইসরাইলে ভ্রমণ কিংবা ডাক ও টেলি যোগাযোগের সম্পর্ক !
গত ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রশীদ মালিকী বাংলাদেশে এসে ঘুরে গেছেন তাঁর আরবী ভাষায় অনুবাদকৃত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত জীবনী' বইটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে, সেই সাথে আরেকটা একটা আশাবাদ ব্যক্ত করে গেছেন যে, বাংলাদেশের কাছ থেকে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের কলাকৌশল শিক্ষা নিতে চায় ! অর্থাৎ পাকিস্তান ও তার সহযোগী আমেরিকার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে কিভাবে 1971' সালে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো সেই কলাকৌশলটাই ফিলিস্তিনের এখন বড় প্রয়োজন বলে মনে করছে ফিলিস্তিনি ! নিঃসন্দেহে এটা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্মান !
ফিলিস্তিনির জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভে বারাক ওবামা প্রশাসন বিশ্ব নেতাদের চাপে অনেকদূর এগিয়েও এসেছিলো ! কিন্তু মুসলিম বিদ্বেষী ট্রাম্প কি পৈতৃক সূত্রে মুসলিম রক্ত বারাক ওবামার এই উদ্যোগ সফল হতে দিবেন ? যেহুতু পৈতৃক সূত্রে মুসলিমের রক্ত ওবামার শরীরে থাকতেই তো ওবামার ছায়াও তাঁর প্রশাসনের মধ্যে কোথাও দেখতে চান না ট্রাম্প ! যেকারণে মুসলিমদের উপর ঝাঁল ঝাড়ছেন ট্রাম্প !
সেক্ষেত্রে সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ পশ্চিম তীর গাজা এলাকায় ইসরাইলকে বসতি স্থাপন করতে আদেশ দিয়েছেন ট্রাম্প, যা ওবামা বন্ধ করে রেখেছিলেন, তাই ফিলিস্তিনির পৰিস্থিতি যে ভবিষ্যতে আরও অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে এটা দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সহ প্রতিটি লোকই বুঝতে পেরেছে ! তাইতো তারাও যে বসে থাকবে না এবার এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সর্বস্ব শক্তি নিয়ে ইসরাইল তথা আমেরিকার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরবে এটা সহজেই অনুমান করা যায় এবং প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যে এবার ভিন্ন কৌশলে ভিন্ন পথেই হাঁটবেন এটাও অনুমান করা যায় ! যে কারণেই হয়তো প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই প্রথমবার তিনদিনের সফরে এসে বাংলাদেশ ঘুরে গেলেন !
যা হোক, আমরাও চাই ফিলিস্তিনির জয় হোক কিন্তু একটি আশংকা থেকেই যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিকে পাশে পেয়েছিলো; ফিলিস্তিনি কি পাবে পাশে এমন কোনো শক্তিকে ??
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



