somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

না বলতে পারা কথা বলার আর্ট বা নিজেকে সঠিক ভাবে উপস্থাপনঃ অনুরোধে ঢেঁকি গেলা উচিৎ নয়।

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


না বলতে শেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন দক্ষতা, যা আত্ম-যত্ন, মানসিক শান্তি এবং ব্যক্তিগত সীমানা নির্ধারণের জন্য জরুরি। এই দক্ষতা অর্জনের জন্য নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া, আত্মবিশ্বাসী থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে 'না' বলতে পারা প্রয়োজন।

আপনার সব বন্ধু মিলে সামনের সাপ্তাহিক ছুটিতে ট্যুর প্ল্যান করলেন। এদিকে আপনি বুঝতে পারছেন, এই ছুটিতে পরিবারকে সময় দেওয়া খুব দরকার। কীভাবে বন্ধুদের না বলবেন? আজ হয়তো আপনার সহকর্মী কোনো কাজে সহায়তা চাইছেন, যা অনেক সময়সাপেক্ষ। কিন্তু আজ নিজের কাজ শেষ করার মতো যথেষ্ট সময়ও আপনার হাতে নেই। কীভাবে সহকর্মীকে না বলবেন? আবার আপনার খালাতো বোন হয়তো সব সময় সবার সামনে আপনাকে কটাক্ষ করে কথা বলে। আপনি সম্পর্কে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করেন না; কিন্তু এ জন্য আপনি প্রচণ্ড চাপ অনুভব করেন। আমরা সবাই প্রতিদিনের জীবনে এরকম নানা বিষয়ের মুখোমুখি হই। তবে মজার বিষয় হলো, না বলার পরিবর্তে উল্টো অন্যের হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলিয়ে আমরা নিজের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করি।

চলুন প্রথমে জেনে নেই কেন আমরা ‘না’ বলতে পারি না।

১. আমরা অন্যদের মনে কষ্ট দিতে চাই না।
২. আমরা সবাইকে খুশি রাখতে চাই।
৩. আমরা মনে করি, নিজের কষ্ট হলেও কোনোরকম সামলে নেব।
৪. অনেক ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করার জন্যও আমরা না বলি না।
৫. অপরাধবোধ অনুভব করেও অনেক সময় আমরা না বলি না।

উপরোক্ত সব ক্ষেত্রে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে, আমি নিজে ভালো না থাকলে আমার আশপাশে কাউকে ভালো রাখতে পারব না। তা ছাড়া সবাইকে একসঙ্গে খুশি রাখা অসম্ভব এবং সবাইকে খুশি রাখা আপনার একার দায়িত্বও নয়। নিজেকে অন্যের কাছে সব সময় প্রমাণ করার চাপও ভীষণ অহেতুক। আপনার ক্ষমতা সম্পর্কে আপনি অবগত বা আত্মবিশ্বাসী থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন না বলা শিখতে হবে
মানসিক চাপ হ্রাস: অনবরত নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করা বা অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়া থেকে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা ‘না’ বলতে পারলে কমে যায়।
ব্যক্তিগত সীমানা রক্ষা: নিজের সময়, শক্তি এবং মানসিক সুস্থতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ব্যক্তিগত সীমানা নির্ধারণ করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ: কোন কাজগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোতে মনোযোগ দিতে এবং ভালোভাবে শেষ করতে সাহায্য করে।
আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: 'না' বলার মাধ্যমে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমে এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে।
কীভাবে না বলতে শিখবেন
নিজের সীমাবদ্ধতা জানুন: আপনি কতটা কাজ করতে পারবেন এবং আপনার হাতে কতটা সময় আছে, তা আগে থেকেই জেনে নিন।
আত্মবিশ্বাসী হন: 'না' বলার সময় আত্মবিশ্বাসী থাকুন। মনে রাখবেন, অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা আপনাকে খারাপ মানুষ বানায় না।
স্পষ্টভাবে বলুন: ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে না বলে স্পষ্টভাবে 'না' বলুন। প্রয়োজনে অল্প কথায় বুঝিয়ে বলুন যে আপনি কেন কাজটি করতে পারবেন না।
কাজের গুরুত্ব বুঝুন: কোন কাজটি আগে করা প্রয়োজন এবং কোনটি পরে করা যাবে, তা বিবেচনা করুন। আপনার অগ্রাধিকার ঠিক করে নিন।
সাহায্য করতে না পারলে বিকল্প খুঁজুন: যদি আপনি সরাসরি সাহায্য করতে না পারেন, তাহলে অন্য কোনোভাবে সাহায্য করার উপায় আছে কিনা, তা বিবেচনা করতে পারেন বা অন্য কারো সাহায্য নিতে বলতে পারেন।
শিখে নেওয়ার মানসিকতা রাখুন: এটি একটি দক্ষতা, যা অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করতে হয়। তাই অনুশীলন চালিয়ে যান।

১. শুরুতেই আপনি যে তাঁকে ও আপনাদের সম্পর্ককে যথার্থ মূল্যায়ন করেন, সেটি তাঁকে জানান।
যেমন বলতে পারেন, তোমাকে হেল্প করতে পারলে আমি অনেক খুশি হতাম বা আমার অনেক ভালো লাগত। তারপর বুঝিয়ে বলুন নিজের অপারগতার কথা।
২. খুব দৃঢ় কিন্তু ভদ্রভাবে আপনার অপারগতার কথা তাঁকে বুঝিয়ে বলুন। কথাগুলো বলার সময় স্পষ্টভাবে চোখে চোখ রেখে, স্বাভাবিক স্বর বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মুখভঙ্গিতে যেন কোনো রাগ বা বিরক্তি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ভদ্র, সুন্দর ও সাবলীলভাবে না বলতে পারলে তিনিও আপনার পরিস্থিতি সহজে বুঝতে পারবেন।
৩. আপনার অপারগতা, সীমাবদ্ধতা কিংবা প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে বলুন। আপনার দিকের কাজের চাপ, সময়স্বল্পতা কিংবা সমস্যা খুলে বলুন।

৪. ক্ষমা চাওয়ার বা অজুহাত দেওয়ার দরকার নেই। এখানে অপরাধবোধ অনুভব করার কিছু নেই; কারণ, সব সময় সবকিছুতে আপনার হ্যাঁ বলার মতো অবস্থা না–ও থাকতে পারে। নিজেকে এ বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন, তাহলেই কথা বলার অহেতুক জড়তা অনুভব করবেন না। কাউকে কোনো প্রসঙ্গে না বলতে চাইলে তাঁকে সরাসরি নিজের ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার কথা খুলে বলাই শ্রেয়।
৫. মনে করিয়ে দিন আপনি তার সাফল্য কামনা করছেন। কথার শেষে বলতে পারেন—আশা করি, তুমি কাজটি ঠিকঠাক করে ফেলবে! তোমার জন্য অসংখ্য শুভকামনা!
৬. নিশ্চিত না হলে একটু সময় নিয়ে তারপর আপনার সিদ্ধান্ত জানান। তড়িঘড়ি করে হ্যাঁ বা না বলে ফেলার চাইতে একটু সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত জানানো ভালো।

চলুন, এবার না বলার কিছু বাস্তব উদাহরণ আমরা দেখি।

১. আমি তো এখন বেশ ব্যস্ত, তাই সময় দিতে পারছি না। পরের বার নিশ্চয়ই তোমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব।
২. দুঃখিত, এই মুহূর্তে আসলে এ কাজটা আমার জন্য করা কঠিন। অন্য কোনো সাহায্য করতে পারি কি না, আমাকে জানিও প্লিজ।
৩. এটি খুব সুন্দর এক উদ্যোগ। দুঃখজনকভাবে আমার হাতে এখন যথেষ্ট সময় নেই, তাই সেভাবে সাহায্য করতে পারছি না। তবে আশা করি, ভবিষ্যতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারব। তোমার জন্য অনেক শুভকামনা!
৪. আসলে আগামীকাল বিকেলে আমি অন্য কাজে কথা দিয়ে ফেলেছি। তোমার ওখানে যেতে পারছি না বলে আমি সত্যিই দুঃখিত। পরের বার নিশ্চয়ই আমাদের দেখা হবে!
৫. আমি নিজেও অনেক খুশি হতাম তোমার জন্য কিছু করতে পারলে। কিন্তু আসলে এটা আমার সাধ্যের বাইরে।
৬. তুমি যে তোমার খুব কাছের একজন মনে করে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছ, এতে সত্যিই আমি কৃতজ্ঞ; কিন্তু আমার আসলে এ ধরনের কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাই এ বিষয়ে একদমই সাহায্য করতে পারছি না!

আশা করছি, এই লেখা পড়ে আপনি রোজকার জীবনে না বলার অভ্যাস শুরু করতে পারবেন। মনে রাখুন, যা আপনি মন থেকে করতে চাইছেন না, যা করবার মতো সময় বা সুযোগ আপনার এখন নেই, সেই কাজগুলো ভদ্রতার কারণে, লোকলজ্জার ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে হাতে নিলে মানসিক চাপে ভুগতে হবে আপনাকেই। জীবন হয়ে উঠবে জটিল। তাই বুঝতে শিখুন কখন, কোথায়, কীভাবে না বলতে হবে!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×