somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনে-মনে মন কলা খাওয়া

০৮ ই অক্টোবর, ২০২২ সকাল ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা তিন কলিগ গত প্রায় ৫ মাস যাবত অফিসিয়াল প্রোগ্রামে বিদেশে অবস্থান করছি। এই সময়টুকুতে কিছুটা ভিন্নতা আনার জন্য বিভিন্ন উপলক্ষ্য খুজে বের করে বাইরে খেতে যেতাম। উপলক্ষ্য অনুযায়ী খাওয়ার বিলটা কে দিবে সেটা ঠিক হতো আর পর্যায়ক্রমিক হতো। দেশে ফিরবার আর কয়েকটা দিন বাকী। তাই একদিন ঠিক করলাম আমরা বাইরে খেতে যাব; কে খাওয়াবে সেটাও ঠিক হল (পর্যায়ক্রমে যারা বাকী ছিল তাদের মাঝে একজন)।

খেতে বসেছি আমাদের পছন্দের একটি রেষ্টুরেন্টে। সবদিক বিবেচনা করে আমরা প্রত্যেকেই একই মেনু অর্ডার করলাম। বসে বসে খাবার আসবার অপেক্ষা করতে লাগলাম। এর মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিছুক্ষণ পরে খাবার সার্ভ করল; খেতে শুরু করলাম। এর আগেও আমরা এই মেনুটি পছন্দ করে খেয়েছি। খাওয়া শুরু হবার কিছুক্ষণ পরেই আমার দুই কলিগই খাবারের প্রশংসা শুরু করল। প্লেটের প্রতিটি আইটেম নাকি আজ বেশি ভাল হয়েছে অন্যদিনের তুলনায়। আমি চুপচাপ খাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম ঘটনা কি!!

আজ যে কলিগ খাওয়াবে ঠিক হয়েছিল এখানে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট সম্পর্কে একটু বলতে হয়। ওর যেটা আছে বা করবে সেটাই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাল ভাববে এবং আশেপাশের সবাইকে সেটা ভাবার চেষ্টা করাবে। একদিন আলোচনাতে মাছের ব্যপারে বলতে যেয়ে পাঙ্গাস মাছ সবচেয়ে মজার স্বাদের মাছ বলে দিল। আমরা ভিন্নমত পোষণ করতেই বলে উঠল যে আমরা আসল পাঙ্গাস মাছই খাইনি; যদিও পছন্দটা একেকজনের আলাদা। আর অপর কলিগ ছিল বয়সে ছোট। তাই ও পারতপক্ষে তর্ক-বিতর্কে জড়াত না। কিন্তু সে ও ছিল খুব চালাক।

তাই প্রথমজনের খাবার ভাল বলার ব্যাপারটা আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও দ্বিতীয়জন ঠিক কি কারনে খাবারের এত প্রশংসা করছিল আমার বোধগম্য হচ্ছিল না। কারন একই খাবার আমরা আগেও অনেকবার খেয়েছি। যাইহোক খাবার চুপচাপ এনজয় করলাম। খাওয়া শেষ হতেই আমার একটা জরুরী কল আসল। আমি খাবার টেবিল থেকে উঠে রেষ্টুরেন্টের বাইরে যেয়ে কথা বলা শুরু করলাম। কথা শেষ করে রেষ্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকতেই আবিষ্কার করলাম একটা অপ্রিতিকর অবস্থা। যে কলিগের আজ খাওয়ানোর কথা ছিল, খাবারের বিল অন্যজন দিয়ে দিয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, দেশে ফিরবার আগে আমার দুই কলিগেরই একবার করে খাওয়ানোর কথা চলছিল আমাদের মাঝে। একজনেরটা বাধ্যতামূলক আর অপরজনেরটা স্বেচ্ছামূলক (খাওয়ালে আমাদের ওকে জন্মদিনের গিফট দিতে হবে)। তাই আমরা কেউই ওর খাওয়াটা খেতে তেমন একটা উৎসাহিত ছিলাম না।

যার বিল দেওয়ার কথা ছিল ও খুব ক্ষুব্ধ আর রাগান্বিত যে অপরজন কেন বিল দিল। অন্যজন বলে চলছিল যে আমারও তো খাওয়ানোর কথা ছিল। ততক্ষণে আমার কাছে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গেল কেন দুইজনই খাবারের এত প্রশংসা করছিল। কে যে কাকে গোল দিল ব্যাপারটা আপেক্ষিক!!! কিন্তু আমরা মনে-মনে মন কলা খেয়ে বসে আছি।

আমি ওদের সিনিয়র হওয়াতে দুইজনকেই বুঝাতে বুঝাতে বাসায় ফিরলাম আর মনে মনে হাসলাম……যদিও আমার খুব জোরে হাসতে ইচ্ছে হচ্ছিল…

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০২২ সকাল ৮:৫৬
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×