somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহদী সাব্বির
এই ব্লগটি আমার ডাইরির পাতা বলা যেতে পারে। অবসর সময়ে টুকটাক অনেক কিছুই লিখে ফেলি। মাথায় যা আসে তাই। আর সেগুলোই এই ব্লগের পাতায় প্রকাশ করা।

আমার বউ

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ব্উয়ের মন খারাপ । কেন মন খারাপ আমি জানিনা । যতবার ওর চোখে চোখ পড়েছে ততবার ই মনে হয়েছে ওর চোখ ছল ছল করছে । যেকোন সময় আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামবে । আমি অনেক বার জিজ্ঞাসা করেছি কিন্তু ও উত্তর দেয় না । আমার ব্উটার মন খারাপ থাকলে আমার ওমন খারাপ হয়ে যায় । ও একটা ঝাড়ু হাতে নিয়ে পুরো ঘরময় পায়চারি করছে । একবার খাটের নিচে ঝাড়ু দেয় , আবার কখনো সোফার নিচে । একবার আলমারি সরায়ে নিচে দেখে আবার কখনো ওরবাক্স পেটরার মাঝে কি যেন খুঁজে । বুঝলাম কিছু হারাইছে । বললাম,
- কি হারাইছো ব্উ ?
ব্উ কথা কয় না । আমি আরো কয়েকবার জিগাইলাম কিন্তু কথা কয় না । একটা জরুরী কাজ ছিল তাই বাইরে চলে গেলাম ।
ফিরলাম আমার পাশের বাসার ভাবীর ফোন পেয়ে । ভাবী জানালেন আমার বাসায় নাকি কিছুক্ষণ পর পর বিকট শব্দ হচ্ছে । মাঝে মাঝে কান্নার শব্দ হচ্ছে । আমি বুঝতে পারলাম না কি হয়েছে ।
বাসায় ফিরে দরজা নক করতেই দরজা খুলে গেল । বটি হাতে ব্উ দাঁড়ায়ে আছে । চুল অগোছালো । চোখ টকটকে লাল । পরনের শাড়িতে ঝুল, কালি লেগে ওটার বারোটা বেজে গেছে । ও আমাকে দেখে বটি নামিয়ে রাখল । আমাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল । বলল,
- আমি হারাইয়া ফেলছি বাবু , আমি ওটা হারাইয়া ফেলছি ।
- কি হারাইছো ব্উ ?
কান্নার চোটে ব্উ কথা বলতে পারছে না । আমি হঠাত্ খেয়াল করলাম
ওর কান্না বন্ধ হয়েছে । ওর মুখটা কাছে টানতেই বুঝতে পারলাম ও অজ্ঞান হয়ে গেছে । তাড়াতাড়ি করে ওর চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিলাম । ও আস্তে আস্তে চোখ খুলল । আমি ফ্যান ছেড়ে দিলাম। ও স্বাভাবিক হতে লাগল । আমাকে বলল,
- আমার ঘড়িটা হারাইয়া ফেলছি।
- থাক ব্উ । আমি তোমাকে নতুন একটা গিফট করব ।
- নাহ । ওটাই আমার লাগবে । প্লিজ আমার ঘড়িটা খুঁজে দাও!
ও আস্তে আস্তে দাঁড়াল । তারপর চলে গেল বেডরুমে । ঘরের দিকে তাকানোর সময় পেলাম এতোক্ষণে ।
একটা সোফা ফ্লোরে উলটে পড়ে আছে , আলমারি টা শোয়ানো , শোকেইসের সব লক খোলা । কিচেনে হাড়ি পাতিলের ছড়াছড়ি, ব্যাগ আর সুটকেসের সব কাপড় বাইরে । পুরা ঘরটার উপর দিয়ে ঝড় গেছে ।
আমি সব গোছানো শুরু করলাম । মনে পড়ল দুপুরে রান্নাও হয় নাই ।
আমি বেডরুমে গেলাম ।ওকে বললাম,
- আমি বাহির থেকে খাবার নিয়া আসি ?
ও কিছু বলল না । আমার ছোটখাটো সাইজের বাবু বাবু ব্উটা চোখের পানিতে বালিশ ভিজাইয়া ফেলেছে । আমি কান্দিরপাড় এলাম খাবার নিতে ।
বাসায় ফিরতে ফিরতে তিনটা বেজে গেল । বাসায় ঢুকে আবার ও টাশকি খেলাম ।
আমার বাবা , আন্টি , ছোট ভাই , আপু , দুলাভাই , শাকিব , শায়িকা , মাহি ,রাহি, সোনিয়া , আমার শ্যালক , শ্যালিকা ,
শাশুড়ি এবং শ্বশুর মশাই সবাই আমার বাসায় !!! সবাই গম্ভীর মুখে ঘড়ি খুঁজছে ।
আমি খুব বিরক্ত হলাম । সামান্য একটা ঘড়ির জন্য এতো কিছু । মশা মারতে কামান দাগানো । এই প্রথম আমি সত্যিকার অর্থে রেগে গেলাম । পাইছেটা কি ও ? আমি ওর কাছে গিয়ে বললাম,
- এই সব কি শুরু করছ ?
ও কিছু বলার আগেই আমার বাপজান বলে ওঠলেন,
- ব্উমা , দেখছ দামড়াডার কাম ? আমরা সবাই মিল্লাঘড়ি খুঁজি আর সে মোরগ পোলাও এর সুবাস লয়। ব্যাক্কলডার কমনসেন্স ও নাই ।
আমি আর কিছু না বলে আবার আমার স্টাডিরুমে ঢুকলাম । একটু পর আমার ভাগ্নী শায়িকা এলো । বলল,
- মামা , আন্টুম তো খুব কাঁদতেছে ।
- তো আমি কি করব ? যা তোর আন্টুমের কাছে যাইয়া ব্ইসা থাক ।
- তুমি আবার আন্টুমকে বকতে গেছো ক্যান ? ওইটা নাকি তোমার দেয়া প্রথম গিফট ?
আমি এতোক্ষণে বুঝতে পারলাম ও এতো কাঁদতেছে কেন ?
আমার ছোট শ্যালিকা রুমে ঢুকেই চিত্কার শুরু করল,
- ইউরেকা ইউরেকা!!!
সবাই দৌড়ে আমার রুমে চলে এলো । আমি অবাক হয়ে সবার দিকে তাকাইয়া আছি । মুচকি হাসি দিয়ে আমারশ্বশুর শাশুড়ি আর আন্টি আর আব্বু ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসল । আব্বুর গলা শুনলাম,
- দেখছেন দামড়াডার কাম ? নিজের হাতে ঘড়ি রাইখা আমার ব্উমারে কেমনে কান্দাইলো ?
আমি আমার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর ঘড়ি আমার হাতে ।
মনে পড়ল গতকাল সন্ধ্যায় চেম্বারে যাওয়ার আগে আমার ঘড়ি না পেয়ে ওরটা নিয়ে গেছিলাম ।
ঘন্টাখানেক পর................
সবাই চলে গেছে । আবার আমরা দুই টোনাটুনি । ডাইনিং এ বসে মোরগ পোলাও খাচ্ছি । ব্উয়ের হাতে আমার দেয়া প্রথম গিফট ঘড়ি । ওর চোখ মুখে খুশির ছটা ।
কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো আমার ব্উ এতো পাগলা ক্যান??
এত্ত ভালবাসা ক্ই পায় ??

Source :- Click This Link
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×