সন্ধ্যার পরে এক বড় ভাই ডেকেছিল তার ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে...পড়লাম তুমুল বৃষ্টির মুখে...তাকে যাচ্ছেতাই বলললাম...বললাম আপনার মত অকাজের মুরুব্বির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে...এই অবস্থা...বয়স্ক কেউ হলে আকাশের দিকে তাকিয়ে নিষেধ করত...বড় ভাই বললো...তুমি...মেয়ে-মানুষের সামনে...ওহ পরে খেয়াল করলাম...এক ভদ্রমহিলা হালকা ভেজা পেছনে দাঁড়িয়েছে...আমরা কয়েকজন পুরুষ তাকে ঘিরে...আশ্চর্য খেয়াল করলাম সবার পেছনে দাঁড়িয়েও তিনি নিরাপদ অনুভব করছেন নিজেকে...সব কজন পুরুষের মানসিকতা যেন অর্ধসিক্ত ওই নারীর নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়া...গর্বিত হলাম এমন সুন্দর মানসিকতার জন্য...
তবে একটু পরেই মানসিকতার পরিবর্তন...বৃষ্টি কিছুটা কমতেই আমরা একটু দৌড় দিলাম..সামনের দিকে...শাহবাগ মোড়ের মাঝের চায়ের দোকানগুলো যেখান থেকে গাড়িতে ওঠা যায় (অগ্রণী ব্যাংকের সামনে)...সেখানকার চায়ের দোকানের প্লাস্টিকের ছাউনিটাতে আশ্রয় নিলাম...তবে সেখানে একেবারে সিক্ত একজন রমণী এলেন...হাতে অনেকগুলো ব্যাগ...তাকিয়েছিলাম হ্যা করে...
সাহায্য করতে ইতস্তত করলাম কারণ সকলেই ভাবে পুরষরা সুযোগ পেলেই নায়ক সাজতে চায়...দুরাবস্থা দেখে একটু সরে গিয়ে জায়গা করে বললাম আপনি এদিকটায় দাঁড়ান...ঊনি একেবারেই সিক্ত তাই ইতস্তত করলেন...বললেন আমি ভিজলেও সমস্যা নেই...এগুলো যেন না ভিজে...বুঝলাম তাতে ঈদ শপিংটাই মাটি হবে...তারপর তিনি কাছে এলেন...এইসময় আমাদেরও বাস এল দৌড়ে চলে গেলাম...
তবে মিথ্যে বলবো না...সময়ের সাথে মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে...মনে হয়েছে পথে-ঘাটে, কর্মস্থলে-শিক্ষাঙ্গণে আমাদের বোনদের নিরাপত্তা দেয়াটা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব...আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন দরকার...যা বেড়ে চলা নিপীড়ন দমনে সহায়ক হবে...এগুলোই পূণ্য...ঘরে বসে নামাজ পড়া আর তসবিহ পড়ার চাইতে এ পূণ্যের মূল্য সমাজের জন্য অনেক বেশি...
রাত ১টায় দুই অন্ধকে রাস্তা পারাপারে সহায়তা করে মনে হল শবে ক্বদরের রাতে অনেক বড় পূণ্য করলাম...সবার মত জানিনা...পূণ্যের ধরণটার মধ্যে পরিবর্তন আনা দরকার...
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




