
সেদিন এক ভদ্রমহিলা কলামে লিখেছেন- “বয়স- সুইট সিক্সটিন। যারে দেখি তারেই লাগে ভালো। প্রথম চিঠি এলো প্রেমের।
-ছেলেদের চিঠি! পড়োনা, ছিঁড়ে ফেল।
-কোনো ছেলের সাথে বেড়াতে যেওনা। নদীর ধারে বসোনা। কোনো ছেলের হাত ধরোনা।
এই রকম নানা নিয়মতান্ত্রিক জটাজালেই আমার জীবনের শুরু। শুধু আমার কেন বাংলাদেশের যে কোনো নারীর ‘নারী’ জীবনের এমনই শুরু।”
যদিও তাঁর সবগুলো কথা মেনে নেইনি...কারণ সুইট সিক্সটিনে আমার বোন কিংবা স্বজনদের নিরাপত্তার স্বার্থেই নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে আমি...তবে শিক্ষার পথ রুদ্ধ করে নয়...তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রেখে...সর্বদা তাকে নিরাপদ রাখার স্বার্থেই তার প্রতি পরিবারের দৃষ্টি থাকে।
আমিতো চাইনা আমার বোন কিংবা স্বজন শেয়াল কুকরের শিকার হোক...একইভাবে চাইবো না আমার ভাইও বদঅভ্যাসে অভ্যস্ত হোক...আমার মা যদি আমাকে ওই বয়সে নিয়ন্ত্রণের ভেতর না রাখতেন আমিও আজ সুন্দর অবয়বের একটা দুঃশ্চরিত্র মানুষ হতাম...কেউ বুঝত না...না ঘর না পর!
এখন একদল মানুষ আমাদের চিরায়ত পারিবারিক বন্ধনটা ঠিল করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। যে নারীরা সারাজীবন একজনের ঘর করতে পারলো না...একটা ফুটফুটে মানুষ (সন্তান) পৃথিবীতে উপহার দিতে পারলো না তারা এখন নারীবাদী...নারিত্বের অবমূল্যায়ন তারা করছে না সমাজ?
আর কথায় কথায় ধর্মান্ধতা এই সেই এসব সংলাপ ছোড়েন- ইসলাম দেখলে আবার নাক সিটকানোর বেরামটা বেশি। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই- সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারীর মধ্যে হযরত আয়েশা (রা.) দ্বিতীয়....প্রথম হলেন হযরত আবু হোরায়রা (রা.) মজার ব্যাপার হলো- আবু হোরায়রা (রা.)ই হযরত আয়েশা (রা.) এর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন; এখন পদাধিকার বলে কে সেরা?
ওরা হাসায়!! ইসলাম কোন সময় নারীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না...এরা কোথায় কোন বিতর্কিত বিষয় আছে সেগুলো খুঁজে বের করে উল্টো কথা বলবে...
একটু নিরপেক্ষ মন নিয়ে সবকিছু পড়লে ঠিকটা জানা যায়- আমার প্রতি বিদ্বেষ যার থাকবে আমার চলন-বলন সবই তার কাছে বাঁকা ঠেকবে...আর ভালোবাসা থাকলে সবকিছুতেই ভালোই দেখতে পারবে...
দৃষ্টিভঙ্গিটা অনেক বড় বিষয়- শিক্ষা আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করুক...আমরা নিরপেক্ষভাবে জ্ঞান চর্চা করি...সত্যের সঙ্গী হই...নারীদের অধিকারের পক্ষে তবে চরমপন্থার বিপক্ষে সর্বদাই কথা বলবো...
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



