
৭১ এ জন্ম হয়নি তারুণ্য এলো দুঃসময়ের ৪০ বছর পর। তাই জানার জন্য ইতিহাসের পাতা ওল্টানো শুরু করি...বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে পড়ে ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক যতটুকু ধারণ করলো তা হলো- অন্যায়ের সাথে আপসহীন ছিলেন বুদ্ধিজীবীরা আর এখন...প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবী হাতে গোনা...সরকারি কবি, বুদ্ধিজীবী এখন সবাই...দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীদের লেখা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে (আমজনতার চোখে) পড়লে সবই জানতে পারা যায়...শুধুমাত্র নিজের মতের বিরোধীদের তুলোধুনা করা্ই এঁদের কাজ...
তাই এখন মনে হয় আসলেই হানাদাররা কতটা শূন্যতা তৈরি করে দিয়েছে...দেশের মাটি কাঁমড়ে পড়ে থাকা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে জাতিকে শত বছর পিছিয়ে দিয়েছে...যদিও আহমদ ছফার ‘সাম্প্রতিক বিবেচনা : বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’ বইয়ে তৎকালীন কিছু বুদ্ধিজীবীর সমালোচনা করে বলা হয়েছে; ‘বুদ্ধিজীবীর যা বলতেন, শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতনা। এখন যা বলছেন, শুনলে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন হবে না।’ পড়ে মনটা কিছুটা খারাপ হয় পরে বুঝলাম- আরেকবার লাইনটি পড়া দিয়ে- “এখন যা বলছেন, শুনলে বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন হবে না।” এটুকুতে বোঝা গেল বুদ্ধিজীবীদের ওই অংশটুকুরই সমালোচনা করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আহমদ ছফা...
তবে সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তিনি। একই বইয়ে তিনি লিখেছেন; ‘বাংলাদেশের নাড়ির স্পন্দন আজ যা ধ্বনিত হচ্ছে, তার সুরটি আন্তর্জাতিক। তার নিজের যা আছে তাই নিয়ে তাকে বিশ্বের সামনে দাঁড়াতে হবে...এই ধারাটি এখন প্রমত্তা পদ্মার মত ফুলে ফুলে উঠার কথা- এবং এই ধারাস্রোতে অবগাহিত হয়ে বাংলার এই অংশে জন্ম নেবে নতুন কালের রবীন্দ্রনাথ, নতুন কালের বিদ্যাসাগর, নতুন কালের জগদীশচন্দ্র বসু এবং নতুন কালের নজরুল ইসলাম।’
বাস্তবতা হলো এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী চিরকালই তাবেদার...তবে এখন আর লেখনির জন্য কাউকে দৌড়ানি খেতে হয় না...সমালোচনা করে লেখেই না তার আবার চাপ!!!
তবে জহির রায়হান রহস্যের উদঘাটন কে করবে? কোথায় হারালেন তিনি? কি জেনেছিলেন তিনি? আমাদের বিরোধীপক্ষ কি কেবল দৃশ্যমানটাই না অদৃশ্যতাও আছে...ইতিহাস যেন কেবল বিজিতের পক্ষেই চলে না যায়...
হারানো সম্পদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি...
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





