somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী ব্রুস লীর মৃত্যু রহস্য কি ছিল ?

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ব্রুস ইয়ুন ফান লী একজন চীনা মার্শাল আর্ট শিল্পী,শিক্ষক,অভিনেতা এবং জিৎ কুন দো নামক নতুন ধরনের মার্শাল আর্ট ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা। তার জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিস্কোতে। তাকে সর্বকালের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বিখ্যাত মার্শাল আর্ট শিল্পীদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। তার শিক্ষকের নাম ছিলো ওয়াইআইপি ম্যান। ব্রুস লির মৃত্যু হয় হংকং এ এবং এই মৃত্যু নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের সূত্রপাত হয়।ব্রুসলীর মৃত্যু হয় ১৯৭৩ সালের ২০শে জুলাই। হঠাৎ করেই এই তরুণ অভিনেতা এবং মার্শাল আর্ট শিল্পী ব্রুস লীর মৃত্যু হলেও অনেকের মধ্যে এর মৃত্যু নিয়ে নানা সন্দেহ ও মত বিরোধের শেষ নাই।


ব্রুসলী মাত্র ৩২ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেছেন। সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো ব্রুসলীর তরুণ ভক্ত গণ। অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্র গতিতে তিনি যেভাবে তার হাত এবং পা ছুড়ে দিতেন সেই স্টাইল তরুণদের বিমোহিত করতো। সারা পৃথিবীতে হাতেগোনা যতো বিখ্যাত মানুষ আছেন এই ব্রুস লী তাদের মধ্যে অন্যতম একজন যিনি পশ্চিমা এবং প্রাচ্যের সংস্কৃতির মধ্যে বৈষম্য দূর করে কিছুটা মিলন ঘটিয়েছিলেন।


ব্রুসলীর মৃত্যু বেশ নাড়া দিয়েছিলো হংকং থেকে হলিউডকেও। তার মরদেহ বহনকারী কফিন দেখার জন্যে রাস্তায় নেমে এসেছিল শোকাহত হাজার হাজার মানুষ ও তার ভক্তগণ। তাদের মধ্যে বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রীরা যেমন ছিলেন তেমনি ছিলো যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কমিউনিটির খুবই সাধারণ লোকজনও।ড্যান ইনোস্যান্টা একজন মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক। ব্রুসলী সারা বিশ্বে যে তিনজন ব্যক্তিকে নিজ হাতে মার্শাল আর্ট ইন্সট্রাক্টরের সার্টিফিকেট দিয়ে গিয়েছিলেন তাদের একজন তিনি। একসময় তিনি ব্রুসলীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। ব্রুসলীর শেষ এবং অসমাপ্ত ছবি গেইম অফ ডেথেও তাকে দেখা যায়। ব্রুসলীর মৃত্যুর প্রায় দশ বারো বছর আগে তাদের পরিচয় হয়েছিলো।


ব্রুসলীর মৃত্যুকে ঘিরে এখনো নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের কথা শোনা যায়। তার জন্যে যেসব ধারণা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ ড্রাগ, এমনকি তার পরিবারের ওপরে অভিশাপও। তার মৃত্যুর পর এন্টার দ্যা ড্রাগনের কারণে ব্রুসলী অমর হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করে সব শিশু কিশোররাও মার্শাল আর্টের শিল্পী হতে আগ্রহী হয়ে উঠলো।কুং ফুর মতো টিভি অনুষ্ঠানগুলো খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠল। ফ্লিনস্টোন্সের নির্মাতা হানা বারবারা মুক্তি দিলেন হংকং ফুয়ি এবং পিঙ্ক প্যানথার্স সিরিজে কেটোর মতো চরিত্র। টাইম ম্যাগাজিন তখন বিংশ শতাব্দীতে সবচেয়ে প্রভাবশালী যে একশোজনের নামের তালিকা তৈরি করেছিলো তাতে উঠে এলো ব্রুসলীর নাম।লস অ্যাঞ্জেলেসের চায়নাটাউনে তার একটি ভাস্কর্যও স্থাপন করা হয়েছে। এত বছর পর ব্রুস লীর আবেদন আজও টিকে থাকার পেছনে ড্যান ইনোস্যান্টারও আছে নিজস্ব কিছু ধারনা। তার মত অনুযায়ী সম্ভবত ব্রুসলী হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি আমরা যার মতো হতে চাই।তিনি বলেন একেক জনের কাছে এর পেছনে হয়তো একেক রকমের ব্যাখ্যা থাকতে পারে। আমার মনে হয় তিনি প্রচুর গবেষণা করেছিলেন। ব্রুসলী ভালোবাসতেন মার্শাল আর্ট।ড্যান স্বীকার করেছেন তার জীবনে এরপরে এমন একটি দিনও খুঁজে পাওয়া যাবে না যেদিন তিনি ব্রুস লীকে নিয়ে একবারও ভাবেননি।তবে কারো ধারণা মতে ব্রুসলির মৃত্যু হয় পেনকিলার থেকে অ্যালার্জির কারণে।

ব্রুসলির সম্পর্কে কিছু তথ্য

১৯৬২ তে একটি ফাইটে প্রতিপক্ষকে ১৫ পাঞ্চে এবং এক কিকেই ধরাশায়ী করে দেন।এবং পুরো বিষয়টা ১১ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করেছিলেন।
ব্রুসলির ক্ষিপ্রতা হয়রান করে দেওয়ার মতো ছিল। তার সম্পর্কে প্রচলিত তিনি নাকি কোনও ব্যক্তির হাত থেকে পয়সা নিয়ে তার হাতেই ধরিয়ে দিতেন। এবং ওই ব্যক্তি টেরও পেতেন না।ব্রুসলির কিকের ক্ষিপ্রতা এত বেশি ছিল যে একটি ফিল্মের শুটিংয়ের সময় পায়ের গতি ৩৪ ফ্রেম ধীরে করতে হতো যাতে দর্শকদের মনে না হয় তিনি নকল অভিনয় করছেন।

গামা পালোয়ানের বড় ভক্ত ছিলেন ব্রুস লি। গামা ছিলেন এমন এক জন কুস্তিগীর যিনি ছিলেন অপরাজেয়।ওয়ান টু চা চা চা ঊষা উত্থুপের এই গান নিশ্চয়ই শুনেছেন। ব্রুস লি ছিলেন এই চা চা ডান্স স্টাইলের ওস্তাদ। ১৯৫৮-য় হংকং এ আয়োজিত চা চা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন।ব্রুস লি বিখ্যাত বক্সার মহম্মদ আলির বিরাট বড় ফ্যান ছিলেন। টিভিতে আলির ফাইট মুগ্ধ হয়ে দেখতেন। তার ইচ্ছা ছিল আলির সঙ্গে ফাইট করার।ব্রুস লির আঙুলের এত জোর ছিল যে, তিনি কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্যান ফুটো করে দিতে পারতেন। বলে রাখা দরকার, ওই ক্যান পাতলা অ্যালুমিনিয়ামের নয়, স্টিলের হত।

জ্যাকি চ্যান তার ফিল্মের কেরিয়ার শুরু করেন ব্রুস লির স্টান্টম্যান হিসাবে। তিনি ব্রিসলির বড় ভক্ত।বই পড়তে খুব ভালবাসতেন ব্রুস লি। ভালবাসতেন টিভি দেখতেও।তার নিজস্ব একটা লাইব্রেরি ছিল। সেখানে প্রায় ২ হাজারের বেশি বই ছিল।ব্রুসলির জন্ম হয়েছিল সান ফ্রান্সিসকোতে। তার মা ছিলেন জার্মান। ব্রুস লি-র শখ ছিল কবিতা লেখা। খুব সুন্দর কবিতা লিখতেন তিনি।

এক ঘণ্টা মার্শাল আর্ট শেখানোর জন্য ব্রুস লি ২৭৫ ডলার নিতেন। বর্তমানে এই অর্থের মূল্য দেড় লক্ষ টাকা।ব্রুস লি সম্পর্কে এ কথাও প্রচলিত যে তিনি চালের দানাকে শূন্যে ছুড়ে দিতেন।এবং চপস্টিক দিয়ে সেই দানাকে শূন্যে ভাসা অবস্থাতেই ধরে ফেলতেন।তার উপর হামলার আশঙ্কায় ব্রুস লি নিজের কাছে সব সময় .৩৬৭ ম্যাগনাম পিস্তল রাখতেন।ব্রুস লি-র এক বিশেষ ক্ষমতা ছিল। তিনি নাকি একই সঙ্গে টিভি দেখতেন, বই পড়তেন এবং মার্শাল আর্ট প্র্যাকটিসও করতেন।ব্রুসলির লোকপ্রিয়তাকে মাথায় রেখে ফিল্ম ডিরেক্টাররা তার মৃত্যুর পর তারই ডামিকে নিজেদের ফিল্মে কাজ দিতেন দর্শকদের চাহিদা মেটাতে।


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:৪০
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×