ইদানীং একটা সু-অভ্যাস হয়েছে
-অনেকের পোস্ট পড়ি মনোযোগ দিয়ে বিশেষ করে ছোট গল্পগুলো,আপনারা এতো সুন্দর গুছাতে পারেন!সালাম আপনাদের লেখনিতে।
কলম আপনাদের হাতিয়ার,আপনারা পারেন পাঠকদের বাধ্য করতে লেখা পড়তে।আমিও একজন পাঠক;যখন পড়ি,খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ি,আমার কাছে তখন মনে হয় একজন জ্ঞানি মানুষ তার চিন্তাটা আমার সাথে শেয়ার করছেন।
নির্দিষ্ট করে কারও সমালোচনা করছিনা,নেই সে দুঃসাহস অথবা যোগ্যতা তবে পাঠক হয়ে কিছু দাবি জানাচ্ছি মাত্র।
আপনাদের লেখা পড়ে এটাই আপাতত মনে হচ্ছে প্রেম-পিরীতি ছাড়া গল্পের আর কোনো বিষয় নেই অথবা বিরহ ছাড়া আর কোনো সমাধানও ও নেই,বুঝিনা,আমাদের লেখকদের এতো প্রেমই বা কেন অথবা এতো বিরহই কেন আসে।
কী এমন হয় একটা কিশোরের গল্প লিখলে,যে বনে যাবে আসল নায়ক,নায়িকার নায়ক নয় একটা সম্প্রদায় অথবা একটা পরিবারের সত্যিকারের নায়ক,যে তার অশিক্ষিত সম্প্রদায়কে নিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে।
একজন চিকিৎসকের গল্প,যে যথেষ্ট পরিমাণ মেধা থাকা স্বত্ত্বেও চলে যাবে পল্লীগ্রামের দুস্থ: মানুষগুলোর সেবা করতে।
একজন শিক্ষিত বেকারের গল্প,যে চাকরি না পেলেও প্রতিষ্ঠা করে বসবে বিরাট এক চাকরীর ক্ষেত্র।
একজন কুমারীর গল্প,যে তার অবৈধ সন্তানের স্বৃকৃতি নিয়ে তবেই নিস্তার দেবে প্রভাবশালীর ছেলেকে।
আপনারা যদি বলেন ওসব বাস্তবে সম্ভব নয়,তবে আমি বলবো বাস্তবে না হোক অন্তুত: গল্পে তো হউক,আপনিতো কলম সৈনিক দিন না এরকম একটা চরিত্র।
আপনার কলমের জোরেই জিতিয়ে দিন চরিত্রটাকে।
আফসোস হয় আমার,আমি আপনাদের মতো লিখতে পারিনা,পাঠকও ধরে রাখতে পারিনা,আপনাদের মতো আমার লেখার পাঠকও নেই,মাঝেমধ্যে লিখতে ইচ্ছা জাগে কিন্তু পারিনা।কী করবো বলেন?মনোযোগই থাকেনা।
আমার ও বিরহ আছে,প্রেমের বিরহ তবে এটা আমাকে যতোটা পীড়া দেয় তার চেয়ে ঢের পীড়া দেয় যখন দেখি চিকিৎসার অভাবে ভাটির অন্তঃসত্তা নববধূটি ডাক্তারের কাছে আসার অনেক আগে নৌকাতেই মৃত্যু বরণ করে,আলোর মুখ দেখেনা নবজাতক,আমি হাহাকার দেখি সেই হতভাগা জনকের,সেই হতভাগা স্বামীর যে একই দিনে হারায় তার সন্তান আর স্ত্রীকে।
আমাকে বেশী পীড়া দেয় সেই কিশোরীর মরা মুখ দেখে যে সন্তানের জন্ম দিয়ে মাতৃত্বের সাধ না নিয়ে মৃত্যুর সাধ নেয়,কারণ সমাজ তাকে উপাধি দিয়েছে কলংকিনি নামে।
সাহিত্যের আবেদন সার্বজনীন,এটা যে কাউকে প্রভাবিত করতে পারে,ধরেন হিমুর কথা,রুপার কথা,মিসির আলীর কথা।
অনেককেই দেখেছি হলুদ পাঞ্জাবী পরে রাস্তায় হাঁটতে,নীল শারি পরে রুপা হতেও দেখেছি।
আপনার সৃষ্টিশিল মনকে কাজে লাগিয়ে এমন এক চরিত্রের জন্ম দিন সমাজ যার জন্য উৎসুক হয়ে আছে,রবীন্দ্রনাথের স্ত্রীর পত্র গল্পটি পড়ুন,একবার মৃনালের কথা চিন্তা করুন।
সালাম আপনাদের লিখনিতে,আবারও বলছি আপনি সৃষ্টি করুন এমন এক চরিত্রের যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
পাঠক তৈরী করুন নতুন ধরনের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



