শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে খুব! কতো সাদামাটা স্বপ্নে বিভোর হতাম!একটা চকোলেটের দোকান দেয়ার বড্ড খায়েশ ছিলো
-চকোলেটকে ঘিরেই ছিলো সমস্ত স্বপ্ন,মনে হতো! ইশ চকোলেটের দোকানের মালিকগুলো কী বড়লোকরে!চকলেটের দোকান দিয়েই হবো কোঠিপতি।
স্কুলে যাওয়ার সময় বায়না একটাই ধরতাম-আমাকে চকোলেট কিনে দিতে হবে।
খুব ভোরে আম্মা ঘুম ভাঙ্গাতেন মক্তবে পাঠানোর জন্য,না উঠলে দুই দফায় গজবি পেদানি খেতাম প্রথম দফায় আম্মা শায়েস্তা করতেন আর পরের দফায় আগেরদিন মক্তবে না যাওয়ার নিমিত্তে হুজুর শায়েস্তা করতেন ধোলাই দিয়ে।
সকাল আটটায় মক্তব থেকে এসে নয়টায় স্কুলে যেয়েই কানে ধরে নিল ডাউন করতে হতো কারন স্কুলে যাওয়া যেমন আবশ্যক ছিলো তেমনই স্কুল পালানোটাও ছিলো নৈমিত্তিক ব্যাপার।
দুপুরে খেয়ে আব্বা পাশে নিয়ে ঘুম পাড়াতেন আর আব্বাকে পাঁখা দিয়ে বাতাস করে অথবা মাথায় হাত ভূলিয়ে ভূলিয়ে উল্টা ঘুম পাড়িয়ে চম্পট মেরে চলে যেতাম খেলার মাটে।
সন্ধ্যায় ঘরে এসে পেঠে ব্যাথা দাতে ব্যাথা বলে ইশ উশ করে করে কোনোমতে নয়টা বেজে গেলেই হলো,ভাত খেয়ে নিদ্রা রাজ্যে চলে যেতাম।
আজ আমাকে কেউ পেটায়না দেরী করে উঠার জন্য!কোনোদিন যদি একটু সকাল ঘুম ভেঙ্গেই যায় তাহলে আব্বা-আম্মা দুইজনই সংকা প্রকাশ করে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলেন,কী হয়েছে বাবা?শরীর খারাপ নাকি?এতো সকাল উঠে গেলি যে!
হাসিমুখে বলি কিছু হয়নি,চা দাও।
আর রাতের সেই নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
সারারাত আমি ঘুমাতে পারিনা,কেন জানি তন্দ্রা আসেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



