দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমান সময়ের এক অন্যতম আলোচ্য বিষয়ের নাম পিষ্টোরিয়াস বনাম রাষ্ট্রপক্ষ মামলা,গতো বছর চৌদ্দই ফেব্রুয়ারীতে নিজ বান্ধবী স্টিনক্যাম্পকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আসামি তিনি।যদিও অব্যাহতি পেয়ে গেছেন বান্ধবী হত্যার দায় থেকে কারন রাষ্ট্র পক্ষ এটা প্রমানে ব্যার্থ হয়েছে যে বান্ধবীর প্রতি পিস্টোরিয়াসের কোন ধরনের বিদ্বেষ ছিলো,জুরিস্প্রুডেন্স অনুযায়ী কাউকে হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ সাঁজা দিতে হলে বিদ্বেষ অথবা খুন করার মানুষিকতা প্রমান আবশ্যক অন্যথায় সেটা সর্বোচ্চ শাস্তি যোগ্য অপরাধ নয় কখনও কখনও শাস্তিযোগ্য অপরাধও নয়।
কারণ;হতে পারে নিতান্তই দুর্ঘটনাবশতঃ ব্যাপারটি ঘটেছে।
পিষ্টোরিয়াসের জবানবন্দি অনুযায়ী:- তিনি চুর সন্দেহে বাথরুমে থাকা মানুষটিকে গুলি করেছেন এবং তখনও তিনি জানতেন যে তার বান্ধবী শোবার ঘরে আছেন,
একটা নিতী আছে আইন বিজ্ঞান অনুসারে যেটাকে বলা হয়"jus necessity"অর্থাৎ প্রয়োজন আইন মানেনা।
ব্যাপারটা এরকম:-ধরা যাক উত্তাল সমুদ্রে দুইজন মানুষ ভেসে আছে একটা কাটের ঠুকরা আঁকড়ে ধরে,কাঠের টুকরাটার অবস্থা এমন যে দুইজন এটাকে ধরে রাখলে যেকোন সময় ডুবে যেতে পারে,এ অবস্থায় একজন আরেকজনকে ফেলে তীরে চলে আসার পর ফেরত আসা ব্যাক্তিকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা যাবেনা কারন তিনি এটা করেছেন নিতান্তই অনিচ্ছা স্বত্তে; শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য।
অনেক সময় এটাও হতে পারে চাকু হাতে এক ব্যাক্তি অপর ব্যাক্তি কে হত্যা করার মনোভাব নিয়ে আতর্কিত হামলার করেছে এবং হামলার শিকার হওয়া ব্যাক্তিটি তখন পকেটে থাকা পিস্তল দিয়ে হামলাকারীকে হত্যা করেছেন এটাও"jus necessity"অনুযায়ী বিবেচনা যোগ্য কিন্তু পিষ্টোরিয়াসের বিষয়টা মোটেও এরকম নয়।
সুতরাং উনার শাস্তিটা কমানোর সুযোগ এই দিক থেকে নেই।
তাছাড়া চুর সন্দেহে গুলি করা একজন সভ্য মানুষের কাজ কখনোই হতে পারেনা।
পিষ্টোরিয়াসের অপরাধ দ্বিমাত্রিক প্রথমতঃ আইন নিজ হাতে তুলে নেয়া;উনার তখন করনীয় ছিলো পুলিশে খবর দেয়া তিনি তা না করে গুলি করে বসেছেন যদিও কিছু দিয়ে আঘাত করে হালকা জখম করা যেতো।
দ্বিতীয়ত তিনি একজন হত্যাকারী ও বটে।
যদি কারও বাড়ির আংগিনায় অপরিচিত কেউ ঢুকে তখন প্রাথমিকভাবে সেটাকে অনধিকার প্রবেশ বলা হয় যা তেমন আমলযোগ্য অপরাধ নয় তবে প্রবেশটা যদি হয় ডাকাতির উদ্দেশ্যে অথবা কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সেটা যদি প্রমাণিত হয় আদালতে তখন এটা মারাত্মক শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিন্তু পিষ্টোরিয়াসের মামলায় এই সব কিছুই অনুপস্থিত-
বাড়ির বাথরুমে একজন আগন্তুক থাকলে কিছু জিজ্ঞেস না করে চুর সন্দেহে গুলি করা!!!!
বিচারপতি থোকোজাইল মাসিপা শাস্তি ঘোষণা করবেন আগামী তেরোই অক্টোবর;
শাস্তি হতে পারে সাত থেকে পনেরো বছর কারাদণ্ড,হতে পারে স্থগিত শাস্তি পাওয়ার আদেশও!
যাই হউক সবকিছুর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দানের মধ্য দিয়েই যেন হয় মামলার নিষ্পত্তি।
মামলার বিষয়টা অনেক জঠিল এবং শিক্ষনীয় ও বটে।
আমি এটা বলছিনা পিষ্টোরিয়াসের সর্বোচ্চ শাস্তি হউক অথবা বিচারটা এমন হউক তেমন হউক এটা বলার অধিকার ও আমার নেই তবে আইনের ছাত্র হিসেবে এসব নিয়ে ভাবার অধিকার আছে বিশ্লেষণ করার দুঃসাহস বা মানুষিকতা কোনোটাই নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




