CrPC ৫৪ ধারা;ফৌজদারী কার্যবিধিতে খুব পুলিশপ্রিয় একটি ধারা।
পুলিশপ্রিয় বলছি এই কারণে,কতিপয় অসাধু শ্রেণীর পুলিশ এটাকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ উপায়ে কিছু টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় প্রায়শই।
সম্প্রতি ঢাকায় এর অপব্যাবহার হচ্ছে খুব করে।
যেহেতু এখানে পুলিশকে একচ্ছত্র কিছু ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে এবং এর অপব্যাবহার হচ্ছে সুতরাং রাষ্ট্রের প্রতিটা সচেতন মানুষেরই এ সম্পর্কে অবগত থাকা উচিৎ,অন্তুত: নূণ্যতম ধারনা থাকা দরকার।
এতে করে অযথা হয়রানির শিকার হওয়া থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে সামান্য হলেও।
ধারাটিতে সুস্পষ্ট নয়টা গ্রাউন্ড রয়েছে যার উপর ভিত্তি করে পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে যে কাউকে যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে গ্রেফতার করতে পারবে।
এর মধ্যে বেশীরভাগ গ্রাউন্ডই এমন যে আপনার সাধারণ জ্ঞান বলে দেবে এক্ষেত্রে গ্রেফতার করা উচিৎ।
*যেমন কারো সাথে মাদকজাত দ্রব্য থাকলে পুলিশ সাথে সাথেই আটক করে ফেলতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে*
প্রথম গ্রাউন্ডটাই সকল নাটের গুরু তবুও এটা এমন না যে আপনাকে আন্দাজী ধরে ফেলবে এটার বরাত দিয়ে।
একটু সচেতন হলে পুলিশের বাপ ও অযথা ধরে হয়রানি করতে পারবেনা কাউকে।
ওখানে বলা হয়েছে যদি কেউ আমলযোগ্য অপরাধ করেন অথবা যার বিরুদ্ধে *যুক্তিযুক্ত* অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে অথবা বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পাওয়া গিয়েছে,অথবা যুক্তিযুক্ত সন্দেহ রয়েছে যে এই মানুষটা একটা আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত।
তবেই পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে।
তিনটা ঘটনা বলছি।
১:- আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এটা উপশহরের রাস্তা এবং এর সাথে অন্য রাস্তার ও সংযোগ আছে;একটু আগে উপশহরে একটা খুন হয়েছে।
পুলিশ যদি আপনাকে গ্রেফতার করে এই বলে যে এটা উপশহরের রাস্তা,উপশহরে একটা খুন হয়েছে সুতরাং এর সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে আপনাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
সেটা হবেনা কারণ এটা যুক্তিযুক্ত সন্দেহ নয়।
যদি এমন হতো আপনি রক্তমাখা শার্ট পড়ে আসছেন তবে কিছুটা যৌক্তিক সন্দেহ করা যেতো।
যৌক্তিক সন্দেহ হিসেবে লিপিবদ্ধ করে রাখার মতো ঘটনাও হতো।
২:-একজন এসে অভিযোগ করলো আপনি ট্রেনে চড়ে সুনামগঞ্জ যাওয়ার পথে ক কে আঘাত করেছেন সে এখন হাসপাতালে অথচ সুনামগঞ্জে কোনও ট্রেনের লাইন নেই।
এটা নয় যুক্তিগ্রাহ্য অভিযোগ সুতরাং আপনাকে গ্রেফতার করতে পারবেনা পুলিশ।
৩:- বিশ্বাসযোগ্য সংবাদের বরাদ দিয়ে একজন বললো যে একটা নির্দিষ্ট একটা স্থানে ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে অমুক দিনে অথচ ওই দিন ওই সময়টাতে ওই জায়গায় একটা জাঁকজমকপূর্ণ সফল অনুষ্ঠান হচ্ছিলো সুতরাং এটা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ হবেনা।
এর উপর ভিত্তি করেও পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করতে পারবেনা।
{Law is nothing but codification of common sense}
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে একটু চিন্তা করুণ নিজেদের সাধারণ সেনস দিয়ে।
Bangladesh legal aid & service trust & Ors. Vs bangladesh 55 DLR (HCD) 363-যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কাউকে "যৌক্তিক" সন্দেহে আটক করে তাহলে তাকে অবশ্যই সন্দেহের কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে যদি শুধু "সন্ধিগ্ন" বলে কাউকে আঠক করেন তাহলে সেটা ন্যায়সঙ্গত নয়।
৫৪ ধারার প্রয়োগটা দেখে এটা স্পষ্ট মনে হচ্ছে আসলে যদিও পুলিশকে গ্রেফতার করার অবাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এটা দিয়ে তবুও এতো সোজা নয় আন্দাজী ধরে ফেলবে।
যদি আইন অমান্য করে খারাপ ইচ্ছা চারিতার্থ করতে গিয়ে অথবা ঘোষ নেয়ার ম্যাধ্যমে যেকোন সরকারি কর্মকর্তা তাদের ক্ষমতার অপব্যাবহার করেন আর সাধারণ কোনো নাগরিক এর দারা হয়রানির শিকার হন তাহলে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর কিছু ধারা আছে যা দিয়ে সংশ্লিষ্টরা শাস্তির সম্মুখীন হবেন।
উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ধারা ১৬৩ এবং ১৬৬ উভয় ক্ষেত্রেই বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান আছে যার মেয়াদ হতে পারে অনধিক এক বছর পর্যন্ত সেই সাথে অর্থদণ্ডও থাকতে পারে।
পুনশ্চ :- নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হলেও যে কারও উচিৎ বাংলাদেশ সংবিধান এবং ফৌজদারী কার্যবিধি সম্পর্কে কিছু ধারনা অন্তুত: রাখা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



