সামনে আমার পরীক্ষা,পড়াশোনা একটুও করা হচ্ছেনা,অন্ততঃ পরীক্ষার পড়াটা পড়তে পারছিনা"এভাবেই যদি চলিতে থাকে তাহা হইলে জীবনে আর কিছুই করা হইবেনা"
পড়াশোনা যে একেবারেই করছিনা সেটাও কিন্তু বলার সুযোগ নেই,পড়ছি তবে পাঠ্য-বই অথবা ফেইসবুক কোনোটাই না,সারাদিন খুব যত্নের সাথে নিরালায় বসে বসে শুধু মুক্তমনা ব্লগই পড়ছি আর উপলব্ধি করছি মুক্তমনাদের কী খাঊজ রে বাবা।!!
আমার একটা মিনতি ছিলো বাংলাদেশ সরকারের কাছে"মুক্তিযোদ্ধা নামের যে একটা চমৎকার কোটা আছে সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে সেটাতে পঞ্চাশ ভাগ বরাদ্দ দিয়ে দেন মুক্তমনাদের,নাম হউক মুক্তমনা কোটা।আমি যদি আগামি এক বছর এভাবেই মুক্তমনা বাংলা ব্লগ পড়তে থাকি তবে নির্ঘাত মুক্তমনা কোটায় চাকরী একটা পেয়ে যাবো।
মুক্তমনাকে আমি বিবেচনা করি একটা পদবী হিসেবে যারাই মুক্তমনা হবেন তিনাদের নামের আগে"মুক্তমনা" পদবী জুড়ে দেয়া হউক সম্মানার্থে।
আজ পড়েছি"বিবাহ সভ্য সমাজের অসভ্য প্রথা"শিরোনামে একটা লিখা,লিখেছিলেন জনাব মুক্তমনা বিপ্লব পাল।তিনি কয়েছেন-
[এখন ফ্রান্সের ৩০% লোক ও বিবাহিত নয়-সেখানে লিভ-ইনকেই বিবাহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইউরোপের বাকী সভ্য দেশগুলিতেও আস্তে আস্তে বিবাহ প্রায় অবলুপ্তির দিকে]
লিভ ইনকে বিবাহের স্বীকৃতি দেয়া হয়;আমরা যেটাকে বিবাহ বলি,আরবেরা সেটাকে নিকাহ বলে,হিন্দুরা সেটাকে বলে সাদি,ইংলিশরা সেটাকে বলে ম্যারিজ আর মুক্তমনারা সেটাকে বলে লিভ-ইন টুগেদার।লাউয়ের নাম যেমন কদু ঘাড়ের নামও গর্দনা।আমি লাঊকে কদু বললে যদি আপনারা যারা"কদুকে বলেন লাঊ"আমাকে বর্বর বলেন সেটাতো কাম্য নয়।
""""""সময়ের নিয়মে যে কোন সভ্য সমাজে বিবাহর অবলুপ্তি দরকার। বিয়ের পেছনে না আছে যুক্তি, না স্ফূর্তি। এক পার্টনারের সাথে সারাজীবন কাটানো যাব্জজীবন কারাদন্ড। প্রেমের সমাধি। যদি ধরে নেওয়া যায় সন্তানের কারনে সেটা দরকার, তাহলেও এটা পরিস্কার নয় কেন ঘটা করে, এত অপচয় করে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে হবে। কেও যদি সারাজীবন এক পার্টনারের সাথে থেকে খুশী থাকে-থাকুক। কিন্ত কেও যদি সেটা না চায়, উকিলদের পকেটে পয়সা দিয়ে ডীভোর্স মামলা, খরপোশ মামলা কেন?""""""""
বিবাহের অবলুপ্তির দরকার বলে তিনি বলেছে এর পেছনে না আছে যুক্তি না আছে স্ফুর্তি কারন হিসেবে তিনি প্রথমে বলেছেন এক পার্টনারের সাথে সারা জীবন কাটানো যাবৎ জীবন কারাদন্ডের শামীল,অর্থাৎ তিনি বহু-বিবাহটাকেই সমর্থন করেছেন।আবার এই নাস্তিকেরাই রাসুলের একের অধিক বিবাহ করাকে সমালোচনা করে একেবারে আষ্টে-পুষ্টে।আপনি যদি বলেন এই নিয়মটা শুধু পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য ছিলো নারীদের জন্য কেন ছিলো না?উত্তরে বলবো নারীরা সংখ্যায় বেশী ছিলো।
তিনি আরও বলেছেন এতো ঘটা করে কেন বিবাহ করতে হবে?বিবাহ সম্পর্কিত কোনো আইনে কোথাও কী এটা লেখা আছে যে ঘটা করে অথবা অপচয় করে বিবাহ না করলে সেটা বৈধ হবেনা।আসলে বিবাহ একটা আনন্দময়ী ব্যাপার যেকোন আনন্দঘন উপলক্ষ্যে আমরা যেমন বন্ধুদের নিয়ে পার্টি দেই এখানেও সেটাই হয়।কেউ যদি চান সেটা না করে টাকাগুলো কোনো এতিমখানায় দিয়ে দিতে এখানেতো বিবাহ আইন বাধা দিচ্ছেনা অথবা যদি চান এসবের কোনোটাই না করে ওই পরিমান টাকা বৌকে দিয়ে দিতে বা হানিমুনে যেতে সেটাওতো নিষিদ্ধ নয়।
তিনি আরও বলেছেন" কেও যদি সারাজীবন এক পার্টনারের সাথে থেকে খুশী থাকে-থাকুক"সেটাইতো বলছে বিবাহ আইন আর এটাকে বলছে একটা সমাজস্বীকৃত দেওয়ানী চুক্তি অর্থাৎ বাধ্যতামূলক একটা ব্যাপারও আছে।আর যদি না চায়?না চাওয়াটাকে যদি আইন প্রশ্রয় দিয়ে দেয় এতো সহজে তাহলেতো মানব সভ্যতা মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
যদি বিবাহকে শুধু যৌনতার সাথেই দেখেন তাহলে নর-নারী দুইজনই শুধু সঙ্গি পাল্টাবে আর যৌন সঙ্গম করে বেড়াবে রাস্থা-ঘাট হাট-মাট সর্বত্র তখন অবশ্য কন্ডম কোম্পানীগুলো লাভবান হবে খুব,দুর্ঘটনা বসত যদি বাচ্চা হয়েই যায় তবে সেটা যে কার?সে বিষয়ে সূরাহাতে কেউ যাবেনা।
একটা গাভী যখন বাচ্চা জন্ম দেয় তখন বাচ্চার জনক কে সেই প্রশ্নের কোন উদয় হয়না কোন ষাড়েরও নেই সেই দায়বদ্ধতা যে বাচ্চাকে দেখে শুনে রাখতে হবে।যেটা হয় শুধু গাভী দুধ খাইয়ে বাচ্চাকে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত লালন পালন করে এই সময়ের পরে সে তার নিজের বাচ্চাকেও চিনতে পারেনা।আমরাতো ভাই মানুষ।
"উকিলদের পকেটে পয়সা দিয়ে ডীভোর্স মামলা, খরপোশ মামলা কেন?"খরপোষের বিধান করে দেয়া হয়েছে একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে,আর সেটা হলো পুরুষদের বেধে দেয়া,যদি পুরুষদের বেধে না দেয়া হতো তাহলে সে দুই দিন পর পর বিয়ে করতো আর সন্তানের জন্ম দিতো ডজন ডজন কারন ওর তো কোনো চিন্তা নেই সকল চিন্তা হবে মায়ের,একেবারে গাভীর মতো।আবারও বলছি আমরাতো মানুষ।উকিলদের পকেটে পয়সা দেয়ার বিষয়টা নিয়ে আপনার এতো চিন্তা!কেনরে ভাই?আমাদের বিরুদ্ধে গেলে আমরা খামু ক্যামনে?আচ্ছা আপনার মামলাটা আমি দেখমুনে বিনা পয়সায়,তবুও আমাগো সাথে লাইগেন না কৃপা করে।
"""""""বিবাহ একটি অসভ্য প্রথা। জোরকরে দুই নরনারীকে চিড়িয়াখানার খাঁচায় ভরে সামাজিক তামাশা। এই বৈবাহিক অসাড়তা আমরা যত দ্রুত বুঝব, ততই মঙ্গল"""""""""
আমি আশা করি এটা অন্ততঃ বোঝাতে পেরেছি বিবাহের কারনেই সভ্যতায় এখনও মানুষেরা অন্ততঃ সঙ্গমের ক্ষেত্রে জন্তু জানোয়ার থেকে আলাদা এবং অনেক বেশী উন্নত।আর তিনি যে বলেছেন জোর করে দুই নরনারীকে চিড়িয়াখানার খাঁচায় ভরে সামাজিক তামাশা সেটা নিতান্তই অযৌক্তিক আসলে বিবাহ আইনে যে জিনিসটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রধান উপাধান হিসেবে সেটা হলো পরষ্পর সম্মতি সুতরাং জোড় করে খাঁচায় ভরে রাখার কথা বলার সুযোগ আপনার নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




