ছেলেবেলার ঈদগুলো বিশেষকরে ক্লাশ সিক্স বা সেভেনে পড়ার সময়কার কথা।
ঈদ নিয়ে কতো পরিকল্পনা থাকতো!এটা কিনবো ওটা কিনবো,এখানে যাবো সেখানে যাবো।
সবগুলো রোযা রাখা হতো তখনও,বাবাকে যা বলতাম তিনি তাই এনে দিতেন,হিমশিম খেয়ে হলেও দিতেন,বড় ছেলেটিতো তাই হয়তো এমন হতো তাছাড়া সবগুলো রোযা রাখতাম এটাও হয়তো তিনি ভাবতেন,কখনও মন খারাপ করতে হয়নি আমার।
ইদানিংকার ঈদের কথা ভিন্ন,প্রায় চার বছর হয় আমি কাপড়-চোপড় কিনিনি,ব্যাপারটা এমন নয় যে কেনা যাচ্ছেনা,আসলে সব বার আমি নিজেই বের হই আমাদের সবার জন্য কাপড় কিনতে,যাই কিনি সেটাই সবার পছন্দ হয়,এমন কখনও হয়নি আমি সবার জন্য কিছু কিনে এনেছি ওথচ ওটা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে কারও।
ছোট বোনের বয়স এখন ২০ পেরিয়ে।
এখনকার সময়ের অধিকাংশ মেয়েরাই নিজে বের হয় নিজের কাপড় নিজে কেনার অভিপ্রায়ে কিন্তু আমার ছোট বোনটি সবসময় আমার জন্যই অপেক্ষা করে।
আমিও তাই যখন মার্কেটে যাই নিজের টাকা ওদের জন্য খরচ করে আরও কিছু টাকা এড করে হলেও ভালো মানসম্পন্ন কাপড়গুলো কিনে আনি।
যবে ঘরে ফিরে আসি,মা-বাবা,ভাই-বোন সবাই যখন সবার কাপড় হাতে নিয়ে আনন্দিত হয় সেটাতেই সবছাইতে শিহরিত হই।আরও ভালো লাগে ওরা যখন মন খারাপ করে আমি নিজে কিছু কিনিনি বলে, তখন ওদের বুঝিয়ে বলি এইতো কয়দিন আগে মাত্র আমি আমার জন্য প্যান্ট কিনলাম তাছাড়া বড়দের কাপড় কিনতে হয়না।যখন ওরা বলে তাহলে আব্বা-আম্মার জন্য?আমি তখন বলি উনারাতো এখন বুড়ো হয়ে গেছেন বলে হিঃ হিঃ হিঃ করে হেসে দেই আর মনে মনে ভাবি কতো বড় হয়ে গেছি আমি,বদলে গেছে আমার চাওয়া-পাওয়ার হিসাব।
সেদিন মা আমাকে বেশ করে ঝাড়ি দিলেন আমার জন্য তুমি এসব না আনলেও পাড়তে,আমি তখন বললাম আমি যখন রোজকার করবো তখন আরও চমকপ্রদ হবে,উৎকৃষ্ট বাজারটাই করে আনবো সবার জন্য।তুমরাইতো সব।
ঈদের দিন বিশেষত্ব বলতে আমার কাছে ঐ একটাই মনে হয়,পরিবারের সবাই কাপড়চোপড় কিনবে এবং শুধু কিনবেইনা সেটাকে ঘিরে এই মানুষগুলোর উচ্ছ্বাসও থাকতে হবে অর্থাৎ কাপড়গুলো হতে হবে ওদের মনের মতো।
একবার ভাবুনতো আপনার ছোট বোনটাকে কিনে দেয়া কাপড়টা সে হাতে নিয়ে হাস্যজ্বল মুখে বললো এটা পড়ে আমি অমুকের বিয়েতে যাবো,তমুকের বিয়েতে যাবো,এটার জন্য আমি অমুক জুতা কিনবো তমুক গহনা কিনবো।
এই উচ্ছ্বাসগুলোই কিন্তু ঈদের আনন্দ।
আমি এতেই আনন্দিত।
এ দুই হলো ভীষন বেদনাদায়ক
-কাপড় পছন্দ না হলে বৌয়ের ঝাড়ি, আর গজবি সৌম্যের ব্যাটের বাড়ি।
এ দুই বোঝা বিষম দায়
-নারীর মন আর মুস্তাফিজের বল।
এ দুই হলো বিষম বিরক্তিকর
-ঈদকে ঘিরে রাস্তা-ঘাটের জ্যাম আর নারিকেল সদৃশ সাধারন জিনিসের বিশাল অভাব।
এতো অভাব,ঝাড়ি,আর বাড়িতেও চলছে উৎসবের আয়োজন ছোটদের উচ্ছ্বাস।
শতো কর্ম ব্যাস্ততার মাঝেই খোঁজে নিতে হয় ঈদের আমেজ বসাতে হয় অপরের সাথে ভাগ।
ঈদ মোবারক।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




