somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কর্পোরেট ভালোবাসা (অনুগল্প)

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যতদূর চোখ যায় শুধু রাতের নিস্তব্ধতা। দুটো মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। কোন কথা নেই, তবুও হাজারো প্রশ্ন দুজনের মনে। অনবরত একজন আরেকজনকে প্রশ্ন করে যাচ্ছে, উত্তর শোনার অপেক্ষা করছে না কেউ। শাঁ শাঁ করে ছুটে যাচ্ছে নিউ ব্রান্ডের গাড়িগুলো, যেন একরাশ হতাশা সে শব্দে, দুমড়ে দিতে চায় বুকের ভেতরটা।

আমাদের ভিন্নতা কোথায় জানো, ভালোবাসি বলে আমরা ভালাবাসতে শুরু করিনি। তাইতো আমি তোমার থেকে বিচ্ছিন্নতা অনুভব করতে থাকি সারাটা সময়। কবি আবুল হাসান বলেছিলেন, শ্রীমতি আমাকে আর একাকীত্ব দেয়না। একাকীত্ব নিয়ে, বিচ্ছিন্নতা নিয়ে সবাই বাস করতে পারেনা, কবি বলে তিনি হয়তো পারতেন। আমি কবিত্ব চাইনি। অন্য আট দশটা পুরুষের মত আমারও স্বপ্ন একটা সহায়, মোটা অঙ্কের স্যালারি, একটা ঘর, যেখানে আমি প্রতি রাতে ফিরে যেতে পারবো নির্দ্বিধায়।

হাতির ঝিলের কালো পানি রাতের বেলাতেও কালো দেখায়, পরিষ্কার পানি হলেও তাই দেখাতো। শুদ্ধতাও কি পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে? পানিতে আলোর খেলা দেখতে থাকে ছেলেটি, কেউ একটা প্লাস্টিকের নৌকা ভাসিয়েছে সে পানিতে। মৃদু আন্দোলনে দুলতে থাকে নিসংগ সে নৌকা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পরিচিত মেয়েটিকে আজ বড্ড অচেনা লাগছে। মেয়েটির চুল খোলা, আলতো বাতাসে চুল উড়তে থাকে, নিয়ন আলোতে এক প্রকার মায়া থাকে, মেয়েটির উপর সে মায়া ভর করেছে।

জানো তো, কর্পোরেট সম্পর্কগুলো এমনই, সেখানে কোন আবেগ থাকতে নেই। সবাই তোমার আবেগ চাইবে কিন্তু কেউ নিজেরটা দিবে না। আমাদের শুরু তো সেখান থেকেই। একটা মেইল এড্রেসের জন্য তুমি আমার ডেস্কে তিনবার এসেছিলে। তৃতীয়বার আমি চিরকুটে মেইল এড্রেসের নিচে মোবাইল নাম্বার দিয়েছিলাম, তোমাকে আর ঘুরাতে চাইনি। তুমি যখন বার বার আমার ডেস্কে আসছিলে, তোমার চোখে তখন উচ্ছলতা ছিল,যদিও আমার ইচ্ছা করছিলো বার বার সে উচ্ছলতা দেখতে। মেয়েটি কথাগুলো শেষ করে পূর্ণ দৃষ্টিতে ছেলেটির দিকে তাকালো। ছেলেটির চোখ দূরে কৃত্রিম আলোর জোনাকমেলায় নিবদ্ধ। মেয়েটি জিগ্যেস করলো, তোমার নতুন অফিসের খবর বলো।

নতুন অফিসে কারো মেইল এড্রেস আমার দরকার হয়নি। ততক্ষণে একজনের হাত আরেকজনের হাতে। সব দুঃখ-কষ্ট কোথায় যেন মিলিয়ে গেলো। হু হু করে বাতাস বইতে শুরু করেছে। আর পাঁচ মিনিট তারা একসাথে থাকবে। তারপর যে যার পথে। আমরা হয়তো বাঁচি এই পাঁচ মিনিটই, বাকি সময়টা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

সমাপ্ত
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×