somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জীবনের মজার ঘটনা গুলো

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

►লিখাঃ নাহিদ হোসাইন (NHD)

প্রতিটি মানুষের জীবনেই মজার কিছু ঘটনা থাকে। অতীতে ফেলে আসা ঘটনা গুলো স্মৃতির পাতায় জমা হয়ে আছে, মাঝে মাঝে মনে পড়লে নিজের অজান্তেই হেসে উঠি।

ক্লাস ফোরের ঘটনাঃ তখন ২০০৪ সাল, আমি ক্লাস ফোরে পড়ি। ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিলাম বিধায় কিছু মেয়ে এমনিতেই ফিদা ছিল, কিন্তু সোনিয়া নামের মেয়েটা মনে হয় একটু বেশীই ছিল। মেয়েটি ক্লাসে সারাক্ষণ আমাকে ফলো করতো, ফলো করার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আমি পুরো বিরক্ত হয়ে যেতাম। যেমনঃ আমি ক্লাসে বসে কিছু লিখছি, দেখতাম সোনিয়া ও লিখছে, পাশের বন্ধুর সাথে কথা বলছি, মেয়েটাও কথা বলছে তার বান্ধবীর সাথে। সবসময় আমার চোখের সামনের বেঞ্চটাতে বসত, তাই আমাকে ফলো করার ব্যাপারটা বুঝতে পারতাম। এভাবেই চলছিল কোনদিন কথা হয়নি। একদিন আমাদের মুদির দোকানে পেয়াজের বস্তার উপর একটা চিরকুট পাই।
তাতে লেখা ছিল, “নাহিদ, আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসি”
নাম লেখা ছিল না তাই বুঝতে পারিনি কে দিয়েছে।
একদিন বিকেলের ঘটনা আমরা কাজিনরা মিলে মাঠে “বউ চি” খেলছিলাম, হঠাৎ সোনিয়াকে আমদের দিকে আসতে দেখলাম। কাজিন পাপিয়ার সাথে কি নিয়ে যেন কথা বলছিল।
তখন আমি হাতে একটা জুতা নিয়ে “তুই এখানেও এসেছিস?” চিৎকার করে বলতে বলতে সোনিয়াকে ধাওয়া করলাম, একসময় জুতা ছুঁড়ে মারলাম, জুতাটা ওর পায়ে গিয়ে লাগল। মেয়েটি সে যাত্রা দৌড়ে পালালো।
ঐদিকে পাপিয়া আমার পিঠে সজোরে থাপ্পড় দিয়ে বলল, “শয়তান, মেয়েটা তোকে একটা কথা বলতে আসছিল, আর তুই?”
আমি বললাম, এর জ্বালায় আমি ক্লাসে শান্তি পাইনা।
কিছুদিন পর আলুর বস্তার আরেকটা নাম ছাড়া চিরকুট পেলাম।
তাতে লিখা ছিল, “নাহিদ আমি এতদিন তোমার সাথে যা যা করেছি তার জন্য দুঃখিত”
পরে একসময় পাপিয়ার কাছ থেকে জানতে পারলাম চিরকুট গুলো সোনিয়ার আর পাপিয়ার মাধ্যমে সেগুলো আমার কাছে পাঠাতো।
ওর হাসিটা অনেক সুন্দর ছিল। জানিনা সোনিয়া নামের মেয়েটা আজ কোথায় আছে। সেদিনের ছেলেমানুষির কথা মনে পড়লে খুব হাসি পায়।

ক্লাস ফাইভের ঘটনাঃ ২০০৫ সাল। যথারীতি ক্লাস ফাইভের ক্যাপ্টেন আমিই ছিলাম। মুন্নি নামের একটা মেয়ে কিন্ডার গার্ডেন থেকে এসে ভর্তি হয়। একটা ফাজলামি করার পর থেকে পুরো ভৈরব এলাকার পিচ্চি থেকে শুরু করে আমার সমবয়সীরা পর্যন্ত আমাকে “মুন্নির জামাই” বলে ক্ষ্যাপাতো। যার ফলে আমার বাসা থেকে বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছিল।

স্পাইডারম্যান হয়ে উঠাঃ ২০০৭ সালের ঘটনা। স্পাইডারম্যান মুভি দেখার পর স্পাইডারম্যানের খুব ভক্ত হয়ে যায়। দেয়াল বেয়ে উঠার চেষ্টা করতাম, মাকড়সা দেখলে স্থির হয়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকতাম আর দিনরাত চিন্তা করতাম কি করে স্পাইডারম্যান হওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় শোয়া অবস্থায় দেয়ালের দিকে হাত দুটোকে স্পাইডারম্যানের মত করে ছুঁড়ে দিতাম, এই আশায় যে হাত থেকে জাল বের হয়ে দেয়ালে লাগবে।
কোন কিছুতেই যখন কাজ হচ্ছিলনা, তখন একটা মাকড়সা ধরলাম। রাতের ঘটনা এটি, মাকড়সাটিকে ডান হাতের রগের উপর বসালাম, এই আশায় যে কামর দিবে আর আমি স্পাইডারম্যান হয়ে উঠবো। মাকড়সাটি কামর দিচ্ছিল না দেখে চাপ দিতে থাকলাম, বিরক্ত হয়ে মাকড়সাটি একসময় রগের উপর কামর দিয়ে ধরে রাখল। আমি তো খুশিতে আটখানা, এবার আমি স্পাইডারম্যান হয়ে উঠবো। Yahoooooooooooooooooooooo
মুভিতে দেখেছিলাম মাকড়সার কামর খাওয়ার পর নায়ক কেমন করে ঘুমাতে যায়, আমিও ওরকম একটা ভাব ধরে ঘুমাতে যায়। সকালে হাত দুটো আগের মত করে দেয়ালের দিকে ছুঁড়ে মারি, কিন্তু হাত থেকে জাল বের হয়না দেখে আমি হতাশ হয়ে যায়। : (

কম্পিউটার গেমসের নেশাঃ সাল ২০১০। কম্পিউটারে গেমস খেলার নেশা ছিল অনেক। এতটাই যে স্বপ্নেও গেম খেলতাম। একদিন জুবায়ের ও আমি ফুফাতো ভাইয়ের বাসায় গেমস খেলতে যায়। আমরা সকালে যায়, আর গেমস খেলতে থাকি। কারেন্ট চলে যাওয়াতে বের হয়ে আসি, বাইরে এসে দেখি রাত হয়ে গেছে। হতভম্ব হয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
বাসায় যাওয়ার পর আমার কি অবস্থা হয়েছিল সেটা আর নাই বললাম, আন্দাজ করে নেন। আর ঐদিকে জুবায়ের কে খোঁজার জন্য মাইকিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল, জুবায়ের কয়েক মিনিট লেট করে বাসায় গেলে, সেদিন মাইকিং হয়ে যেত।

ভ্যালেন্টাইন ডেঃ সাল ২০১০। তখন ভৈরব টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ইলেকট্রিকাল বিভাগে ১০ এ পড়ি। ভ্যালেন্টাইন ডের দিন ওয়েল্ডিং বিভাগের আমার ফ্রেন্ড রবিন জুনিয়র ছাত্রী শাহজাদী কে উদ্দেশ্য করে “হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে” বলে উপরে ফুল ছুঁড়ে মারে। শাহজাদী ও তার কিছু ফ্রেন্ড তখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিল আর রবিনরা উপরে উঠছিল।
এই ঘটনায় শাহজাদী ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিভাগের “রফিক” স্যারকে ব্যাপারটা জানায়। শাহজাদী রবিনকে চিনত না, তাই স্যারের কাছে যেভাবে রবিনের বর্ণনা দিয়েছিল তার সাথে নাকি আমার বর্ণনা অনেকটা মিলে যায়।
তখন স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ছেলেটি কি নাহিদ ছিল?
শাহজাদী বলল, স্যার হতে পারে। আমি ওর নাম জানি না।
রফিক স্যারঃ ইম্পসিবল নাহিদ এই কাজ জীবনেও করতে পারবে না।
স্যারের এইরকম মন্তব্যের কারণ ছিল আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বলতাম না, আমার চালচলন, পোশাক, ব্যাবহার অন্যরকম ছিল। আমি তখন এর কিছুই জানতাম না।
আমরা স্যারের কাছে প্রাইভেট পরতাম, প্রাইভেট পড়াকালীন সময়ে স্যার ব্যাপারটা আমাদের সাথে শেয়ার করলেন।
আমি তো শুনে পুরাই অবাক, পরে অবশ্য কাজটা যে রবিন করেছিল এটাও স্যার জানতে
পারেন, রবিনও ব্যাপারটা স্বীকার করে।
আর সেদিন আমার উপর স্যারের আত্মবিশ্বাস দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

নীলপরী নীলাঞ্জনাঃ এটি ০২-১২-২০১৩ এর ঘটনা। আমার জিপি মডেম টা প্রায় ৩ মাস ধরে নষ্ট ছিল, কোন কাজ করত না । কিছুদিন আগে আমার এক FB Friend “নীলপরী নীলাঞ্জনা” টেলিফ্লিমের তাহসানের বড় “অবেলায় পেলাম তোমায়” গানের লিঙ্ক দিতে বলে। তখনও আমার মডেমে প্রবলেম ছিল বলে দিতে পারিনি। যেই আমি গানটার লিঙ্ক খুঁজব এই উদ্দেশে মডেমটা পিসি তে কানেক্ট করলাম, ওমনি মডেম ঠিক হয়ে গেল। আমি তো মহাখুশি। মনে মনে আল্লাহ এবং ঐ ফ্রেন্ড কে ধন্যবাদ দিলাম।
কিন্তু মজার ব্যাপার হল গানটার লিঙ্ক ঐ ফ্রেন্ড টাকে দেওয়ার পর পর ই মডেম টা ঠিক আবার আগের মত হয়ে গেল।

এই ছিল আমার জীবনের সবগুলো মজার ঘটনা। (নাহিদ)
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×