somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদেশী জিনিস মানেই ভালো জিনিস এই মনোবৃত্তি বদলাতে হবে

২৯ শে আগস্ট, ২০০৬ ভোর ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমপ্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় একটি খবর ছাপা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার দুটি ফার্মেসীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ আটক করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা কিছু ফার্মেসীতে আমদানী নিষিদ্ধ ও অবৈধ ওষুধ বিক্রির ঘটনা ওপেন সিক্রেট। দীর্ঘদিন থেকেই মুনাফাখোর ওষুধ ব্যবসায়ীরা চোরাইপথে নিষিদ্ধ ওষুধ আমদানী করে তা বিক্রি করে আসছে। কয়েকদিন আগে আরেকটি দৈনিকে কুমিল্লা সীমান্ত এলকার চোরাকারবারের স্বর্গরাজ্যেও চিত্রটি তুলে ধরেছে। বলাবাহুল্য যে, শুধু নিষিদ্ধ ওষুধ নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর সবই আসছে ভারত থেকে চোরাচালানীর মাধ্যমে। চিনি ব্লেড, বাল্ব, ডাল, আয়োডিনবিহীন লবণ, পেয়াজ, হরেক রকম মশলা, বাসমতি চাল, মাথার তেল, পানের মশলা, বড় মাছ, গরু, আঙ্গুর, বেদানা,নাশপাতি, নিম্নমানের সার, আম প্রতিদিন আসছে। চোরাইপথে আসছে বিভিন্ন নেশার সামগ্রী। তার মধ্যে ফেনসিডিল অন্যতম। আসছে নানারকম মেয়েলী প্রসাধনী, সেীখিন কাচের, মাটির, পুতির অঙ্ডিাইজড্ গয়না। চোখ জুড়ানো মনকাড়া হরেক রকম জুতা, বাজার ভর্তি ভারতীয় মূল্যবান শাড়ী, শিশু, পুরুষ মেয়েদের তৈরী পোষাক। বাজার ঘুরলেই বোঝা যায়, এদেশের বাজার পুরোপুরি ভারতীয় পন্যের দখলে। মুক্তবাজার অর্থনীতির কারনে এমনিতেই বিদেশী পন্যের অবাধ দখল- তার উপর চোরাচালানের এই আত্নঘাতী প্রবণতা। এভাবে চলতে থাকে তবে দেশের অর্থনীরি মেরুদন্ড ভেঙ্গে যেতে বেশী সময়ের প্রয়োজন হবে না। দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে আনা সয়াবিন তেল, পেট্রোল, ডিজেল ছাড়াও সোনা, মুল্যবান ওষুধ, কেমিক্যাল দ্রব্য পাচার হয়ে যাচ্ছে ওপারে। সীমান্ত রক্ষীবাহিনী-স্থানীয় প্রশাসন বলতে গেলে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রত্রিকায় এমন খবরও রয়েছে যাতে বলা হয়েছে যে, উব্ধর্তন কমকর্তার ফোন পেয়ে আটক চোরাকারবারীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ছেড়ে না দিলে ওএসডি কওে ঝুলিয়ে দেবে।

সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের রুই কাতলাদের সাথে চোরাকারবারীদেও উধ্বর্তনদের যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ। বিদেশী পন্যের এই অবাধ বাজার দখল যে কর্তৃপক্ষেও জানা নেই তা বলা যাচ্ছে না। তাই এই অর্থহীন এই স্লোগান যারা চোরাচালানের সাথে জড়িত তারা দেশের শত্রু। চোরাচালানী পন্যের কারনে এ দেশের কুটির শিল্পেগুলোর অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার এদিকে শিল্পের বিনিয়োগের জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের জন্য ব্যাংক ঝৃন গ্রহনের পরামর্শ দিচ্ছেন অথচ ওদিকে চোরাচালানের মরণঘাতী এই স্রোত ঠেকাতে কঠোরতম উদ্যেগ নিচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিকে শুধু পঙ্গুই হবে না, সাথে সাথে এদেশের লাখ লাখ মানুষ বেকার হবে এবং হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু এভাবে যে চলতে পারে না, এ কথাটি যেমন একজন সাধারন মানুষ পারছে তেমনি যারা প্রশাসনে আছেন তারাও বুঝতে পারছেন। তাই প্রায়ই স্বরাষ্টমন্ত্রীসহ জ্বালানী উপদেষ্টা সীমান্তে চোরাচালান বন্ধের আদেশ-নির্দেশ দিচ্ছেন। আর যারা ঐসব আপকর্মের হোতা তারা বুঝতে পারছেই। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থের কাছে গোষ্ঠি স্বার্থ, দেশের স্বার্থ আজ পরাভূত। চোরাচালান অসামঞ্জস্য আদার-প্রদান দেখলেই বোঝা যায়- দেশকে, দেশের অর্থনীতিকে কিভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হচ্ছে। একমাত্র সরকারের পক্ষেই সম্ভব এসব অশুভ শক্তিকে শনাক্ত কওে দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। যদিও কথাটা চর্বিত চর্বণ। তবুও বলতে হচ্ছে, একমাত্র সরকারই পাওে দেশের অর্থনীতিকে চোরাকারবারীদের লোভের থাবা থেকে বাঁচাতে, সাথে সাধারন মানুষের এই মনেবৃত্তি বদলাতে হবে যে, বিদেশী জিনিস হলেই ভালো হবে। দেশীয় সামগ্রীর প্রতি প্রয়োজন মমতার। পন্য প্রস্তুতকারী ব্যবসায়ীদেরও সচেষ্ট হতে হবে ভালো জিনিস আরো ভালোভাবে জনগনের দরজায় পৌঁছে দেয়ার।

কোন কিছুর বিনিময়ে আমরা দেশকে চোরাকারবারীদের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না....।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০০৬ ভোর ৪:২০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১২ তারিখ সারাদিন শাপলা কলি-তে আর গন ভোট হ্যাঁ-তে

লিখেছেন সূচরিতা সেন, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০০



মার্কা যখন শাপলা কলি
ভুল করলে দে, কান মলি।
দাঁড়িপাল্লা মার্কা যখন
বুঝে নাও সাঠিক ওজন।
মার্কা যখন ধানের শীষ
ঘাটেঘাটে চান্দা দিস।

আমি সংস্কারের পক্ষে তাই ১২ তারিখ বাংলাদেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পেছনে আদা জল খেয়ে নেমেছে আমেরিকা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৭


আজকাল মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালে মনে হয়, যেন একটা অদৃশ্য জাল ধীরে ধীরে টানটান হয়ে উঠছে ইরানের চারপাশে। প্রথমে মনে হয় এগুলো আলাদা আলাদা ঘটনা—কোনোটা স্যাংশন, কোনোটা কূটনৈতিক আলোচনা, কোনোটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের যে বড় ক্ষতি হবে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩২


জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের সমাজে যে বড় ক্ষতি ও ক্ষত তৈরি হবে, তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো তারা ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই সংবিধান ছিঁড়ে ফেলবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮০

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৯



গতকাল রাত ১২ টায় খুব মেজাজ খারাপ হয়েছে।
বাসায় এসে বসেছি মাত্র। আর গলির ভিতর ঢুকেছে মিছিল। ধানের শীষের মিছিল। রাত ১২ টায় কেন মিছিল করতে হবে? ফাজলামোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×