প্রগতিশীল পত্রিকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর দায়ে মৌলবাদী রগকাটা সংগঠন ছাত্র শিবিরের সিনিয়র সদস্য, গুপ্তচর ও প্রথম আলো'র সাংবাদিক আদুভাই মুন্সী মো. মিসবাহ উদ্দিনকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের একাংশ কতৃক ডেইলী নিউএজ এর সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদ করায় দৈনিক জনকন্ঠের সংবাদদাতা আবু তাহের টোটনের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপপ্রচার এবং উপাচার্যের বক্তব্যকে বিকৃতি করে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার দায়ে তাকে অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করার দাবি জানানো হয়। রোববার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি থেকে এ দাবি উঠে।
দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মুন্সি মিসবাহ’র বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা জামাত-শিবিরের গেলমান- মিসবাহ উদ্দিন মিসবাহ উদ্দিন, আদু মুন্সী আদু মুন্সী-গদাম দে, গদাম দে’ ‘জনকন্ঠের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মানি না, মানব না’ ‘আদু ভাই মুন্সি মিসবাহ-তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’ ‘জামাতী মাদ্রাসা পড়ুয়া শিবিরের সদস্য মুন্সি মিসবাহ ক্যাম্পাস থেকে বিদায় হ’ ‘জামাত-শিবিরের দালাল ও গুপ্তচর মুন্সির বিচার চাই, করতে হবে’ দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে।
প্রগতিশীল ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে মুন্সী মিসবাহ’র এই অপপ্রচার নতুন নয় উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, কিছুদিন আগে কম্পিউটার সায়েন্স ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করলে মিসবাহ’র বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচী পালন করে। জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদককে ফোন দিয়ে মিসবাহকে চাকরিচ্যূত করবেন- এমন আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। পরে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষকরা নিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও খ্যাতনামা আদু মুন্সী মিসবাহ’র বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, জামাত-শিবির নিয়ন্ত্রিত মিরা বাজার জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাশ করে শাবিতে ভর্তি হন মুন্সী মো. মিসবাহ। শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্টতার সত্যতা থাকলেও নব্য প্রগতিশীল সাজার জন্য প্রগতিশীল সাংবাদিক সহ অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অপপ্রচার চালিয়েছে সে। তার অপপ্রচার থেকে রেহাই পায়নি হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও। নিজে ছাগুকুল শিরোমনি হলেও যাকে তাকেই জামাত-শিবির ট্যাগ দিয়ে তার দল ভাড়ি করার পদক্ষেপে নেমেছে সে। কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হয়েও ৯বছরেও স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেন নি মিসবাহ। স¤প্রতি তার বিভাগের প্রকাশিত চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে দুই কোর্সে ফেল এবং একটি কোর্সে সি মাইনাস পেয়ে ফেলের সারিতে আবারো নাম লিখিয়েছেন তিনি। আর এজন্যই শিক্ষার্থীদের কাছে বিশিষ্ট ড্রপার হিসেবে পরিচিত মুন্সী। ক্লাস-পরীক্ষা না দিয়ে কোর্স ড্রপ দিতে দিতে জুনিয়র ব্যাচের সাথে এখন ক্লাস-পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। তবে এটাকে মুন্সী মিসবাহ বেশ উপভোগ করছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান। তারপরও কি দেখে এমন আদু ভাই, শিবিরের এজেন্ট, হরকাতুল জিহাদীদের বন্ধু, অথর্ব ও গর্দভকে প্রথম আলো শাবি প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়- তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
মিসবাহ’র নব্য প্রগতিশীল সাজার বিষয়টি উন্মোচন করে শিক্ষার্থীরা জানান, মুন্সী মো. মিসবাহ ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল সাজতে গিয়ে তার নামের প্রথম অংশ ‘মুন্সী’ শব্দটি ব্যবহার করেন না। প্রথম আলো পত্রিকায় নিয়োগের পর নিজেকে প্রগতির ধারক বানাতে ‘মুন্সী’ শব্দটি এফিডেবিট করে কেটে ফেলেন মিসবাহ।
আদু ভাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রগতিশীল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিসবাহ’র এই প্রপাগান্ডা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। মিসবাহকে এসব অপপ্রচার বন্ধের আহবান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে শিক্ষার্থীরা মিসবাহকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করবে না। তাই ‘গদাম’ খাওয়ার আগেই ভুল শুধরানোর আহবান জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিবিরের প্রশিক্ষিত সিনিয়র সদস্য আদু মুন্সী মিসবাহ সাংবাদিকতার আড়ালে বিভিন্ন পত্রিকার ভুয়া পরিচয় দিয়ে শিবির ক্যাডারদের ক্যাম্পাসে সংগঠিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভাস্কর্য বিরোধী জনমত গড়ে তুলার কর্মকান্ডেলিপ্ত। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধী পক্ষের আন্দোলনের কর্মকান্ডে মদদ দেয়া ও সংবাদ প্রকাশসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডে লিপ্ত সহ প্রগতিশীল শিক্ষকদের কটুক্তি করার দু:সাহস দেখাচ্ছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের আরো অভিযোগ, ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারীতে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের পর শিবিরের অনেক গোপন নথিপত্র পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওইসব নথিপত্রে মুন্সী মো. মিসবাহ’র নাম অনেক তালিকাতেই পাওয়া যায়। সেসময় ক্যাম্পাসে কিছুদিনের জন্য রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান তিনি।
এদিকে প্রেসক্লাবের সদস্য না হয়ে প্রেসক্লাব ও এর কমিটি নিয়ে আদু মুন্সী মিসবাহকে অপপ্রচার না চালানোর জন্য হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছে প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটি। তার মূল্যবান সময় জামাত-শিবিরের গেলমানগিরি করে ব্যায় করার জন্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।
http://www.write3.com/details/5153
শিবিরের সহীহ সদস্য আদু মুন্সী মিসবাহ নামা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই
ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।