somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাষা বৈষম্যের শিকার চাকমা ভাষায় নির্মিত প্রথম চলচিত্র

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাকমা ভাষায় নির্মিত প্রথম চলচিত্র "My Bicycle"। একটি সাইকেলকে ঘিরে এক যুবকের জীবন । যুবকের জন্ম এমনি এক গ্রামে , যেখানে একটি সাইকেলই অনেক কিছু । ঐ যুবকের একমাত্র সম্বলও ছিল একটা সাইকেল । কাজ না পেয়ে শহর থেকে ফিরে সেই সাইকেলের উপর নির্ভর করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিল সে । কিন্তু ক্ষমতাবান কিছু লোকের নজরে পড়ে যায় তার সাইকেলটা । ঐ লোকদের হাত থেকে সাইকেল বাঁচাবার প্রাণপণ চেষ্টার এক পর্যায়ে সাইকেলটা ভেঙে এক ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে সে । আর এই সাইকেলের সাথে সাথে সে-ও ভেঙে পড়ে । তখন আবার সে কর্মের সন্ধানে শহর অভিমুখে পা বাড়ায় ।
এই সিনেমার মাধ্যমে দর্শক পরিচিত হতে পারতো আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের বিচিত্র জীবন-ব্যবস্থার সাথে । অজানা অনেক কিছুই চলে আসতে পারতো আমাদের জানার পরিসীমার ভেতরে । কিন্তু তা আর হচ্ছে না। কেননা শুধুমাত্র ভাষাগত অসঙ্গতির দায়ে আটকে দেয়া বয়েছে এই সিনেমাটিকে ।
ভাষা নিয়ে বাঙালি জাতির অভিজ্ঞতা ব্যপক । আমাদের বাংলা অর্জিত হয়েছে রক্তের বিনিময়ে । কেন আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে তা কারোই অজানা নয় । আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলবার অধিকার হরণ করার চেষ্টার প্রতিবাদে আমরা মাঠে নেমেছিলাম , আন্দোলন করেছিলাম । পাকিস্তান মোটেই ভালো করেনি উর্দুকে আমাদের উপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করে, একথার সাথে দ্বিমত পোষণ করার মত কাউকে পাওয়া যাবেনা । কিন্তু আমরা এখন যা করছি তা কি ভালো হচ্ছে ? ভাষাগত অসঙ্গতি কে কারণ হিসেবে দায়ের করে একটা সিনেমাকে আটকে দেয়াটা কতটা সঠিক ? বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন আমাদেরকে করতে হয়েছে কেন ? কারণ ক্ষমতার বলে আমাদের মায়ের ভাষায় কথা বলতে বাঁধার সৃষ্টি করছিল পাকিস্তান । আমরা কি এই সিনেমাটিকে আটকিয়ে সেই একই কাজটাই করছিনা , যেটা পাকিস্তান করেছিল আমাদের সাথে ? আমরা কি তাদের মাতৃভাষায় কিছু প্রকাশের উপর বাঁধা আরোপ করছিনা ? তাছাড়া আমাদের কাছে যদি হিন্দি , চাইনিজ , জাপানিজ , তামিল ইত্যাদি ভাষার সিনেমা গ্রহণযোগ্যতা পায় , তবে এটা কি দোষ করলো ?
বাংলাদেশের সিনেমার অবস্থা ক্রমশ ভালোর দিকে যাচ্ছে তা সবাই জানি এবং মানি । তবে যে নীতিমালায় সিনেমা ভাষাগত বৈষম্যের শিকার হয় , সে নীতিমালায় অগ্রগতি প্রকৃতপক্ষে কতটা সম্ভব -এই প্রশ্নটা থেকেই যায় ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৬
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিদায় বন্ধু

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ইফতার করে আজ সন্ধ্যের দিকে একটু হাটতে আর চা খেতে বের হয়েছিলাম। বিগত কয়েকদিনের মতোই গিয়ে দেখি চায়ের রেস্টুরেন্ট আজও বন্ধ। উপায় না দেখে ছোট একটা দোকান থেকে মেশিনে তৈরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১২

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !




বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×