
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি আর অন্যায়ভাবে প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের উপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য গত শুক্রবার ৩০ মার্চ ২০১৮ বিক্ষোভে নামেন প্রায় ৩০ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি। ওই মিছিলের উপর অতর্কিতে গুলি চালায় ইসরাইলী সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী। এতে শহীদ হয় অন্তত ১৭ ফিলিস্তিনি মুসলমান। এছাড়া আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এ ঘটনায় ইসরায়েলি সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীকে বিশ্বব্যাপী নিন্দা জানানো অব্যহত রয়েছে।
৩০ মার্চের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানানোর জন্য রাস্তায় নামেন নিরস্ত্র কিছু ফিলিস্তিনি। তারা একত্রিত হয়েছিলেন নিছক প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে। ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্ব আর ধারাবাহিক অন্যায় হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য সমবেত হন তারা। ওয়াক্ত হয়ে গেলে ফিলিস্তিন সীমান্তের কাছে এক খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে যান নামাজে। জামায়াতে নামাজ আদায় করছিলেন তারা। গোটা জামায়াত সিজদায় অবনত যখন, তখনই ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের স্নাইপারদের গুলি এসে বিদ্ধ হয় এক যুবকের পায়ে।
তাকে সাহায্যের জন্যে যখন এগিয়ে আসেন অন্যরা, তখন সিজদারত আরেক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইহুদিবাদী এই সন্ত্রাসীগন।
অবশ্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মর্মবিদারী এ গুলিবর্ষন ও রোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় খুশি প্রকাশ করেছেন। তার সেনাদের এধরনের গণহত্যার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের কাজে আমি সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘে আলোচনার বিরুদ্ধে ভেটো প্রয়োগ করেছে তথাকথিত বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, 'ফিলিস্তিনিরা সন্ত্রাসী'।
যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে সরাসরি গুলি চালানোর দায়ে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে। তবুও আমাদের প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রবক্তা, ঠুটো জগন্নাথ জাতিসংঘ নিরব কেন? তথাকথিত বিশ্বমোড়লদের মুখে রা' নেই কেন? উন্নত আর সভ্য বলে পরিচয়দানকারী আধুনিক অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত মুরব্বি দেশগুলোর মুখে কুলুপ কেন আজ? মধ্যপ্রাচ্যের কীট- ইসরায়েলী উম্মাদদের সাথে যাদের দোস্তি, গোপন আঁতাত, তারাও কি এই হত্যাযজ্ঞে অনেক খুশি? খুশি না হলে তারাও নিরব কেন আজ? তাদের মুখে আহ্, উহ্ শব্দ নেই কেন? নিজেদের রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই তারাও কি স্বজাতির রক্তের সাথে বেঈমানী করছেন না?
আমাদের প্রশ্ন, মুসলমানদের রক্তে আর কত রঞ্জিত হবে ফিলিস্তিনের তপ্ত মাটি? আর কত ফিলিস্তিনি মায়ের বুক খালি হলে ইসরায়েলী হানাদার দস্যুদের রক্তপিপাসা মিটবে? আর কত অবুঝ শিশু সন্তান পিতৃহারা হলে তাদের দখলের কালো হাত নিবৃত হবে?
সংবাদ সূত্র: ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম। লিঙ্ক- নামাজে সিজদারত ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালালো ইহুদিবাদী ইসরাইলী সেনারা (ভিডিও)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

