somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নামাজে সিজদারত ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষন- ইসরাইলী পাষন্ডদের এ বর্বরতার পরিসমাপ্তি কোথায়?

০২ রা এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি আর অন্যায়ভাবে প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের উপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য গত শুক্রবার ৩০ মার্চ ২০১৮ বিক্ষোভে নামেন প্রায় ৩০ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি। ওই মিছিলের উপর অতর্কিতে গুলি চালায় ইসরাইলী সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী। এতে শহীদ হয় অন্তত ১৭ ফিলিস্তিনি মুসলমান। এছাড়া আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এ ঘটনায় ইসরায়েলি সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীকে বিশ্বব্যাপী নিন্দা জানানো অব্যহত রয়েছে।

৩০ মার্চের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানানোর জন্য রাস্তায় নামেন নিরস্ত্র কিছু ফিলিস্তিনি। তারা একত্রিত হয়েছিলেন নিছক প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে। ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্ব আর ধারাবাহিক অন্যায় হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য সমবেত হন তারা। ওয়াক্ত হয়ে গেলে ফিলিস্তিন সীমান্তের কাছে এক খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে যান নামাজে। জামায়াতে নামাজ আদায় করছিলেন তারা। গোটা জামায়াত সিজদায় অবনত যখন, তখনই ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের স্নাইপারদের গুলি এসে বিদ্ধ হয় এক যুবকের পায়ে।

তাকে সাহায্যের জন্যে যখন এগিয়ে আসেন অন্যরা, তখন সিজদারত আরেক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইহুদিবাদী এই সন্ত্রাসীগন।

অবশ্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মর্মবিদারী এ গুলিবর্ষন ও রোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় খুশি প্রকাশ করেছেন। তার সেনাদের এধরনের গণহত্যার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের কাজে আমি সন্তুষ্ট।

অন্যদিকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘে আলোচনার বিরুদ্ধে ভেটো প্রয়োগ করেছে তথাকথিত বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, 'ফিলিস্তিনিরা সন্ত্রাসী'।

যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে সরাসরি গুলি চালানোর দায়ে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে। তবুও আমাদের প্রশ্ন, মানবাধিকারের প্রবক্তা, ঠুটো জগন্নাথ জাতিসংঘ নিরব কেন? তথাকথিত বিশ্বমোড়লদের মুখে রা' নেই কেন? উন্নত আর সভ্য বলে পরিচয়দানকারী আধুনিক অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত মুরব্বি দেশগুলোর মুখে কুলুপ কেন আজ? মধ্যপ্রাচ্যের কীট- ইসরায়েলী উম্মাদদের সাথে যাদের দোস্তি, গোপন আঁতাত, তারাও কি এই হত্যাযজ্ঞে অনেক খুশি? খুশি না হলে তারাও নিরব কেন আজ? তাদের মুখে আহ্, উহ্ শব্দ নেই কেন? নিজেদের রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই তারাও কি স্বজাতির রক্তের সাথে বেঈমানী করছেন না?

আমাদের প্রশ্ন, মুসলমানদের রক্তে আর কত রঞ্জিত হবে ফিলিস্তিনের তপ্ত মাটি? আর কত ফিলিস্তিনি মায়ের বুক খালি হলে ইসরায়েলী হানাদার দস্যুদের রক্তপিপাসা মিটবে? আর কত অবুঝ শিশু সন্তান পিতৃহারা হলে তাদের দখলের কালো হাত নিবৃত হবে?

সংবাদ সূত্র: ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম। লিঙ্ক- নামাজে সিজদারত ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালালো ইহুদিবাদী ইসরাইলী সেনারা (ভিডিও)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
১২টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩৩


হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×